1. successrony@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailykhabor24.com : Daily Khabor : Daily Khabor
রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

আ.লীগে তৎপরতা, কমিটিহীন বিএনপি নীরব!

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার নির্বাচন আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে। তফসিল ঘোষণার পরই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের তৎপরতা কয়েকগুণ বেড়েছে। অনেকে ইতোমধ্যেই নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। দলীয় ফরম সংগ্রহও শুরু করেছেন মেয়র প্রার্থীরা। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হবে বলে ভালোবাসার টিপ কার কপালে দিবেন ভোটাররা এ নিয়ে আলোচনা সর্বত্র।

মেয়র পদে মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট। তবে এই মুহুর্তে বিএনপিতে দুই ভাগ এবং উপজেলা ও পৌরসভাতে কোনো কমিটি না থাকায় সেই সুযোগটি আওয়ামী লীগ প্রার্থী ভালোভাবেই কাজে লাগাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করবেন- জোরালোভাবে এমন কারো নাম শুনা যায়নি। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে কেউ কেউ স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করতে পারেন বলে আলোচনা আছে।

চতুর্থ ধাপে যে কয়টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করা হয় এর মধ্যে আখাউড়া রয়েছে। আখাউড়া পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ হাজার ২৩১ জন ও নারী ১৪ হাজার ৬৭৯ জন। ইভিএম পদ্ধতিতে এখানে ভোট হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মূল আলোচনায় আছেন বর্তমান মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. তাকজিল খলিফা কাজল। তৃণমূলের বাছাইয়ে তাকজিল খলিফার পাওয়া ২০ ভোটের বিপরীতে ১৯ ভোট পেয়ে আলোচনায় চলে এসেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোবারক হোসেন রতন। তবে শেষ পর্যন্ত আইনমন্ত্রীর (স্থানীয় সংসদ সদস্য) আস্থাভাজন হিসেবে ও মন্ত্রীর সময়ে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করা, অনেককে চাকরি দেয়ার বিষয়টি মনোনয়ন পেতে তাকজিল খলিফাকে এগিয়ে রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। আইনমন্ত্রীর কাছ থেকেও তিনি সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। পৌর আওয়ামী লীগ, উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যেই তাকজিল খলিফাকে সমর্থন দিয়েছেন।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে দলীয় ভোটে লড়েছেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মো. নুরুল হক ভূইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ভূইয়া, সাবেক দপ্তর সম্পাদক শেখ কামাল, মো. শফিকুল ইসলাম খান, মো. সালাউদ্দিন সুমন কয়েক মাস আগে থেকেই আওয়ামী লীগ পৌর নির্বাচন নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

এদিকে আখাউড়া উপজেলা বিএনপি এখন দু’ভাগে বিভক্ত। সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন আব্দু ও বিএনপি নেতা আবুল ফারুক বকুল প্রার্থী হতে পারেন বলে এলাকায় আলোচনায় আছে। তবে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বিকল্প হিসেবে অন্য কাউকে বেছে নিতে পারেন বলেও মনে করা হচ্ছে। অবশ্য উপজেলা ও পৌর কমিটি না থাকায় নির্বাচনে দলীয় নেতা-কর্মীরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে চাইবেন না বলে দলটির মধ্যেই আলোচনা আছে।

আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক আবুল মুনসুর মিশন বলেন, ‘আমাদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে মতবিরোধ থাকলেও পৌর নির্বাচনে প্রার্থীর বিষয়ে কোনো ধরণের সমস্যা হবে না। আশা করি সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে বিজয় ছিনিয়ে আনবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আহবায়ক কমিটি না দিয়ে কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়ায় কিছুটা সমস্যা তো হচ্ছেই। তবে জেলা নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আশা করছি ওনাদের পরামর্শে নির্বাচনকেন্দ্রিক উদ্যোগ নেয়া হবে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক অধ্যক্ষ মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে যিনি মনোনয়ন পাবেন তাঁর পক্ষেই অন্য প্রার্থীরা কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে ঠিক করবো। বিভিন্ন কারণেই এবারের পৌর নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীর বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আখাউড়াতে এখন বিএনপির কোনো কমিটি নেই। তাদের মধ্যে বিভাজনও রয়েছে। এছাড়া বিএনপি অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।’ বিএনপির এমন অবস্থা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জন্য সুবিধার হবে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

এ জাতীয় আরো খবর