1. successrony@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailykhabor24.com : Daily Khabor : Daily Khabor
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন

ড্রাইভার মালেকের বালাখানা: দরজা আছে, দরজা নেই

শামীমুল হক
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

এ তো রাজকীয় প্রাসাদ। দুনিয়ার বালাখানা। কত যত্ন করে সাজানো হয়েছে। কারুকাজে খচিত প্রাসাদের ডিজাইনও আকর্ষণীয়। এ বালাখানায় প্রবেশে সদর দরজাও তো তেমনই হবে। দরজা দেখেই আন্দাজ করা যায় এটি কোনো রাজবাড়ি। কিংবা বাগানবাড়ি। কত সুন্দর।

প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। আগেকার দিনের রাজবাড়িগুলো এখনো দাঁড়িয়ে আছে দেশের আনাচে কানাচে। মানুষ ছুটে যান সেখানে। শত বছরের পুরনো এসব বাড়ি দেখে মুগ্ধ হন। কি যে সুন্দর কারুকাজ। জমিদার বাড়িগুলোও এমনই। এসব বাড়ি এখন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে। পর্যটকদের কাছে টানে এসব বাড়ি। কিন্তু ঢাকার কাছে তুরাগে যে এমন আকর্ষণীয় বাড়ি রয়েছে কে জানতো? যে বাড়ির দরজা দেখে চমকে উঠতে হয়। এমন সুন্দর, মনোরম দরজা। আগেকার দিনের রাজা, বাদশাহ আর জমিদার আমলের কথাই মনে করিয়ে দেয়। যে বাড়ির দরজা এমন তার ভেতরটা কেমন হবে? সে তো আন্দাজই করা যায়। এমন আকর্ষণীয় বালাখানা আর কারও নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আবদুল মালেকের।

ক’দিন ধরে মালেক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাদা সফেদ দাড়ি। দেহের গঠনও সুন্দর। কিন্তু একজন গাড়িচালকের এমন বিশাল জমিদার হওয়ার পেছনে রহস্য কি? রহস্য তো আছেই। তিনি কোটিপতি। তিনি প্রভাবশালী। তার ভয়ে কাঁপতো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ডিজি নিজেই নাকি তার জালে বন্দি ছিলেন। এর প্রমাণ ডিজির নামে বরাদ্দকৃত প্রাডো গাড়ি ব্যবহার করতেন মালেক। এই মালেক ড্রাইভারের ঢাকায় দু’টি সাততলা ভবন রয়েছে। দশ তলা ভবনের একটি বাড়ি নির্মাণাধীন রয়েছে। ব্যাংকে রয়েছে কোটি কোটি টাকা। মালেক গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বাসার দরজা আর ওয়াশ রুমের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই দরজায় রাজকীয় প্রাসাদের ছাপ। একজন ড্রাইভারের এমন লাইফ স্টাইল! বাংলাদেশে এটা সম্ভব।

ক’দিন ধরে ফেসবুকে অনেকেই লিখছেন, আমাকে স্বাস্থ্যের ড্রাইভার বানিয়ে দাও। আমি ড্রাইভার হতে চাই। নেট দুনিয়ায় ড্রাইভার মালেকের রাজকীয় হাল দেখে ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, একজন ড্রাইভারের যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে ডিজি, সচিব, চেয়ারম্যানদের অবস্থা কি হবে?

ড্রাইভার মালেক কি একদিনে এমন হয়েছে? না। সূর্যের চেয়ে বালুর তাপ যেমন বেশি। ঠিক তেমনি অবস্থা মালেকের ক্ষেত্রে। ডিজিদের তাপে উত্তপ্ত হয়েছে মালেক। মালেকের এ দরজা মানুষকে উপহাস করে বলছে, আমি তো সাধারণ মানুষের ঘামের হরি লুটের টাকায় তৈরি। মালেকের আভিজাত্য কি শুধু দরজায়। যে ওয়াশরুম ব্যবহার করবেন সেখানেও থাকা চাই আভিজাত্য। তাই তো দরজার পাশাপাশি আলোচনায় লাল কমোডও।

গাড়ির ড্রাইভার হলেও তার রুচির তারিফ করতে হয়। আভিজাত্যে ভরপুর বাড়িতে শুয়ে মালেক হয়তো চিন্তা করেছেন, তার আরো চাই। আরো চাই। ইস্ যদি সৌদির রাজদরবারের মতো করতে পারতাম বালাখানাটা। স্বপ্নও হয়তো ছিল। কিন্তু, এটা চিন্তা করেননি-একদিন হবে, মাটির বিছানা/মাটির বালাখানা/নাই মশারি, কোল বালিশ, কম্বল/শোন মন মনোরে/মাটির পিঞ্জিরা/ঠিকানা হইবো মাটির তল/। যেখানে থাকবে না দরজা, জানালা। অন্ধকার মাটির ঘরই হবে আসল ঘর।

এ জাতীয় আরো খবর