1. successrony@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailykhabor24.com : Daily Khabor : Daily Khabor
শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন

সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মামলা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: নগর পিতার দায়িত্ব পেয়ে ৫ বছওে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্থ ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। এখন তার বিরুদ্ধে প্রতারনার শিকার ক্ষতিগ্রস্থরা মামলা দায়ের করা শুরু করেছে। রাজধানীর ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট ব্লক-২ এ দোকানের বৈধতা দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার অভিযোগে মার্কেটের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দুলু এ মামলা করেন।

এতে আরও ৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে এ মামলাটি করা হয়। গত ৮ই ডিসেম্বর থেকে ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট-২ এ নকশাবহির্ভূত দোকান অপসারণে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ডিএসসিসির তথ্যমতে, ওই মার্কেটে ৯১১টি নকশাবহির্ভূত দোকান রয়েছে। ইতিমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন,আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা ৫৩৪টি দোকান বৈধ। ১৯৯৭ সালে এসব দোকান বরাদ্দ দিয়েছিলেন প্রয়াত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। নকশাবহির্ভূত এসব বরাদ্দ পেতে সেলামি পরিশোধ করেছেন দোকান মালিকরা। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী মাসিক ভাড়াও পরিশোধ করেছেন তারা। প্রতিটি দোকানের বিপরীতে ট্রেড লাইসেন্সও রয়েছে। কিন্তু কোনো নোটিশ ছাড়াই দোকানগুলো উচ্ছেদ করছে ডিএসসিসি।

দক্ষিনের সাবেক মেয়র বেচেছেন এখন উচ্ছেদ

ঢাকা দক্ষিনের সাবেক মেয়র ৫ বছর দায়িত্বে থেকে বেচেছেন এখন নতুন মেয়র ভাঙছেন আমি শেষ, এখন আমি কী করে খাব! ধারদেনা করে যাও একটা দোকান করেছিলাম সেটাও এখন নাই। এখন কারে বিশ্বাস করব? কোর্ট তো আমাদের নিষ্পত্তির জন্য বলেছিল। এখন নতুন মেয়র সাহেব এসে ভেঙে দিল। অথচ সাবেক মেয়রের কাছে টাকা দিয়ে দোকান কিনেছিলাম। একজন দোকান বানিয়ে বিক্রি করবে, আরেকজন এসে ভাঙবে। এই গড়া আর ভাঙার চক্করে পড়ে তো ফকির হয়ে গেলাম। আমি এখন কোথায় যাব?’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বললেন আনোয়ার হোসেন নামে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) অবৈধ দোকান উচ্ছেদে আরো অনেকের মতো তার কপালও পুড়েছে। যে দোকানের আয়ের ওপর চলত এখানকার মালিক-কর্মচারীদের পুরো সংসার।

জানা যায়, ডিএসসিসির ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ বহুতল মার্কেটটির অবস্থান নগর ভবনের পেছনের গেট থেকে মাত্র ১৫০ ফুট দূরে রাস্তার উল্টোদিকে। সেই মার্কেটের অবৈধ ৯১১টি দোকান উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে সিটি করপোরেশন। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে ওই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। সংঘর্ষ হয় পুলিশ ও দোকান মালিকদের সঙ্গে। দোকান মালিকরা অভিযোগ করে আসছেন, তারা দোকান কিনে ব্যবসা করছেন। তাদের দোকান অবৈধ নয়।

অন্যদিকে সিটি করপোরেশন বলছেন নকশা পরিবর্তন করে অবৈধভাবে দোকান করা হয়েছে। তাই উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট ২-এর ৯১১টি দোকান উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। করপোরেশনের বর্তমান মেয়র বলছেন এসব দোকান অবৈধ। সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন বলছেন, আইনগতভাবে এসব দোকানকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই। তবে সাবেক মেয়রের সময়ে দোকানগুলো যেসব কর্মকর্তার স্বাক্ষরে বৈধ হয়েছে, বর্তমান মেয়রের সময়ে সেই কর্মকর্তারাই ‘অবৈধ’ বলে সেসব দোকান উচ্ছেদ করছেন। দোকান মালিকের সাথে কথা হলে তারা জানান, তাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। দোকান বৈধ বলে বিক্রি করা হয়েছে। সেই দোকান তালা মেরে নেতারা আবার টাকা নিয়েছেন। এখন আবার সেই দোকান ভেঙে দেয়া হবে। আমরা অসহায়, আমাদের সাথে যে অত্যাচার করা হচ্ছে আমরা তার বিচার চাই। যারা টাকা নিয়েছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কারা দোকান বানিয়েছে, কারা বিক্রি করেছে, কারা তালা মেরে টাকা আদায় করেছে- এ সবকিছুই মেয়র সাহেব জানেন। আমরা এর বিচার চাই। সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন দোকান বিক্রি করেছেন। মার্কেটের দোকান মালিকদের অভিযোগের তীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করেপারেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন ও সদ্য অব্যাহতি পাওয়া ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিনের দিকে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এদের মাধ্যমেই দোকানের মূল্য বাবদ টাকা দেয়া হয়েছে সাবেক মেয়রকে। দোকান মালিকদের কথার সত্যতাও মিলেছে ডিএসসিসি মেয়রের সদ্য নেয়া পদক্ষেপে। ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ রতনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হয়েছে। সাবেক ও বর্তমান মেয়রের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ দোকান বৈধ করে দেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগে তাকে এই নোটিশ দেয়া হয়। ডিএসসিসির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই কাউন্সিলরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

ডিএসসিসির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গুলিস্তানের পুরান বাজার হকার্স মার্কেটসহ কয়েকটি মার্কেটে বর্তমান মেয়রের নাম ব্যবহার করে দোকান বরাদ্দ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন কাউন্সিলর রতন। এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী এটি অসদাচরণ। এতে ডিএসসিসির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

কাউন্সিলরের এমন কার্যকলাপের কারণে কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তার জবাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে মেয়রের কাছে জবাব দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটে নকশাবহির্ভূত দোকান উচ্ছেদে অভিযান শুরু শুরুর পর ব্যবসায়ীরা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মেয়রের নাম ভাঙিয়ে টাকা নেয়ার অভিযোগ করেন। এ সময় বাংলাদেশ ইলেক্সটিক্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আলিমুজ্জামান আলমসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন,বর্তমান মেয়র দায়িত্ব নেয়ার পর তার নাম করে কাউন্সিলর রতন অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। তারা এভাবে টাকা নেয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। এর আগে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের নামেও কাউন্সিলর রতন অবৈধ দোকান বৈধ করার কথা বলে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতন বলেন, ‘উচ্ছেদ যেগুলো হয়েছে সেগুলো আমার ওয়ার্ডে না। আমি এখনো শোকজ নোটিশ পাই নাই। পেলে জবাব দেব। এখানে আমাদের দলীয় কোন্দল আছে, কোন্দলের কারণে হয়তো ওরা আমার নাম বায়েস্ট হয়ে বলতেছে। এই মার্কেট লুটপাটের সিন্ডিকেটের প্রত্যককে আমি চিনি। এদের নামে যেখানে যেখানে রিপোর্ট দেয়া দরকার আমি দিয়ে দিয়েছি।’

সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের সাবেক সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘২০১২ সাল থেকে ঢাকা মহানগর যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের নাম দিয়ে ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদউদ্দিন রতন ও যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা জামাল উদ্দিন ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা শাহাবুদ্দিনসহ একটি চক্র দোকান মালিকদের জিম্মি করে রাখে। মার্কেট দখল করে ফরিদ উদ্দিন রতন তার বিল্ডার্স কোম্পানি দিয়ে অবৈধভাবে পাঁচ তলা করে। এক্সেলেটর, জেনারেটর বিক্রি করে দেয় শাহাবুদ্দিন। রতন-শাহাবুদ্দিন লিফটের জায়গা, বাথরুম ভেঙে দোকান বানায়। পুরো মার্কেটে ৬৯৫টি অবৈধ দোকান বানিয়ে শতকোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে তারা।’ অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ২০১৫ সালে সাঈদ খোকন মেয়র নির্বাচিত হলে সব লিজ বাতিল করে অবৈধ দোকান ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দেন। পরে ওই সিন্ডিকেট উচ্চ আদালত থেকে পুনর্বাসনের আদেশ নিয়ে আসেন। রায়ের পর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে সাত বছরের ভাড়া জমা দেয়া সাপেক্ষে ট্রেড লাইসেন্স দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সিটি করপোরেশন। ওই সিদ্ধান্তের অপব্যাখ্যা দিয়ে দোকানে দোকানে গিয়ে চাঁদা আদায় করে চক্রটি।

মার্কেটের লোক চলাচলের প্যাসেজ, বাথরুম, লিফট, সিঁড়ি এবং আলো-বাতাস ঢোকার জায়গা রেখে দোকানগুলোর নকশা প্রণয়ন করে কমিটি। তাতে দেখা যায়, বøক ‘এ’র বেজমেন্টে ৩৫টি, নিচতলার ভেতর দিকে ৫৫টি, বাইরের দিকে ১২৩টি, দ্বিতীয় তলায় ৪৪টি, তৃতীয় তলায় ৩৫টি, চতুর্থ তলায় ১৬টিসহ মোট ৩০৮টি দোকান রয়েছে। বল্কক ‘বি’র বেজমেন্টে ৪২টি, নিচতলার ভেতর দিকে ৫৮টি, বাইরের দিকে ১২৬টি, দ্বিতীয় তলায় ২৯টি, তৃতীয় তলায় ২৮টি, চতুর্থ তলায় ৬টি, পঞ্চম তলায় ৩টিসহ মোট ২৯২টি দোকান রয়েছে। বøক ‘সি’র বেজমেন্টে ৫২টি, নিচতলার ভেতর দিকে ৫৪টি, বাইরের দিকে ১০৫টি, দ্বিতীয় তলায় ৫২টি, তৃতীয় তলায় ২৭টি, চতুর্থ তলায় ২১টিসহ মোট ৩১১টি দোকান রয়েছে। সব মিলিয়ে গত বছরের ৩১ জুলাই মার্কেটটিতে ৯১১টি দোকানের নকশা অনুমোদন দেয় এই কমিটি। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে বকেয়া ভাড়া ও ট্রেড লাইসেন্স ফি পরিশোধসহ ব্যবসা করার অনুমোদন দেয়া হয়।

আদালতের নির্দেশ ও বোর্ডসভার অনুমোদনের পরও এসব দোকানকে অবৈধ বলছে ডিএসসিসির বর্তমান প্রশাসন। সংস্থাটির সাবেক প্রশাসন বলছে, আদালতের নির্দেশেই করপোরেশনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সভা ‘করপোরেশন সভায়’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধভাবে ব্যবসা করলেও রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে তাদের বৈধতা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএসসিসির বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘এসব দোকান অবৈধ। যারা অবৈধভাবে দখল করে দোকান তুলেছেন তারা কাকে টাকা দিয়েছেন সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। যাদের অনুমোদন আছে তারাই এখানে ব্যবসা করবেন। আমরা সেটি নিশ্চিত করব। পর্যায়ক্রমে আমরা সিটি করপোরেশনের সব মার্কেট থেকে অবৈধভাবে গড়ে তোলা সব দোকান উচ্ছেদ করব।’
এদিকে এসব দোকানকে বৈধ বলছেন দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি এই উচ্ছেদ অভিযান অবৈধ বলে দাবি করছেন। খোকন বলেন,‘আদালতের নির্দেশ ও করপোরেশন সভার মাধ্যমে আমরা এসব দোকানকে বৈধতা দিয়েছি। এতে সিটি করপোরেশন ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভাড়া পেয়েছে। এই অর্থ করপোরেশনের তহবিলে জমা হয়েছে। আমি সাবেক মেয়র হিসেবে মনে করি, হঠাৎ করেই এভাবে উচ্ছেদ করা আইনসিদ্ধ নয়।’

এ জাতীয় আরো খবর