1. successrony@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailykhabor24.com : Daily Khabor : Daily Khabor
বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

বিদেশে কারা অর্থ পাচার করছেন? সময় টিভির বিরুদ্ধে মামলা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

দর্পন কবির, যুক্তরাষ্ট্র থেকে: দেশ থেকে কারা বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করছেন? কারা উন্নত দেশে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন? কীভাবে? প্রশ্ন সামনে এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ.কে. আব্দুল মোমেন সম্প্রতি বলেছেন,কানাডায় বেশি অর্থ পাচার করেছেন আমলারা। এরমানে আরো পেশার লোকও অর্থ পাচার করেছেন। তারা কারা? যতটুক জানা যাচ্ছে, আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে দদুক-পাচার করা অর্থের পরিমাণ-পরিসখ্যান দাখিল করেছে। প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। অনুসন্ধান অব্যাহত থাকলে আরো বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। কানাডা’র একটি এলাকায় ‘বেগম পাড়া’র সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানকার সাংবাদিকরা এই বেগমপাড়ার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন করে যাচ্ছেন। নিউইয়র্কসহ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, আমলা ও রাজনীতিবিদদের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে বলে নানাভাবে জানা যাচ্ছে। নিউইয়র্ক শহরে কূটনৈতিক (বাংলাদেশ মিশনে কর্মরত ছিলেন) বিডি মিত্র নগদ অর্থ দিয়ে ৩টি বাড়ি ক্রয় করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিলেন। এরচেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থের বিনিয়োগ করেছেন সাবেক ও প্রয়াত মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের পুত্র। এ খবর মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছিল। দেশের একাধিক টিভি চ্যানেলের মালিকদের অর্থও পাচার হয়ে আসছে বলে খবর ফাঁস হচ্ছে। সময়-টিভি চ্যানেলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সুপ্রীম কোর্টে একটি মামলা হলে অর্থ পাচারের আলোচনা চলছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। গত ৩ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মামলাটি দায়ের করেন সময় টিভির যুক্তরাষ্ট্র ব্যুরো প্রধান নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক একেএম শিহাবউদ্দীন কিসলু। সময় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের চুক্তি ভঙ্গ এবং প্রতারণার অভিযোগ তিনি করলেও আলোচনায় চলে আসে অর্থ পাচার বিষয়টি। সময় টিভি ছাড়াও একাধিক টিভি চ্যানেলের অফিস রয়েছে নিউইয়র্কে। এই টিভি চ্যানেলগুলোর অফিস পরিচালনা খরচ, আয় এবং বিনিয়োগ কীভাবে হচ্ছে- নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে আসছে কিনা-এই প্রশ্নও করছেন অনেকে। আবার এখানে বিজ্ঞাপন ও দর্শক থেকে প্রাপ্ত আয় দেশে হিসাব দাখিল হচ্ছে কিনা-সেটাও প্রশ্নের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন-আবাসন প্রকল্প থেকে উপার্জিত (প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত) অর্থ এবং মিডিয়া থেকে আয়ের অর্থ বাংলাদেশে হিসাব দাখিল করা হচ্ছে না। এই অর্থ এক অর্থে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এর পরিমাণও কম নয়। রাজস্ব বিভাগের উদাসীনতার কারণে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে। অপরদিকে এর সুযোগ নিয়ে দেশে বিত্তবানরা অর্থ পাচার করার সুযোগও নিচ্ছে।

সর্বশেষ সময় টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় নতুন একটি দিক উন্মোচিত হলো। টিভি চ্যানেলের কতিপয় শীর্ষ কর্মকর্তা অফিস খোলার নামে বিদেশ পরিবার-পরিজনকে বসবাসের সুযোগ নিতে চাইছেন। সময় টিভির বিরুদ্ধে শিহাব উদ্দিন কিসলুর দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগে জানা যায়, সময় টিভি’র সাথে ‘জয়েন্ট ভেনচার’ বা যৌথ ব্যবসা চুক্তিকারী ‘সময় মিডিয়া ইনক’এর প্রেসিডেন্ট এবং সময় টিভির যুক্তরাষ্ট্র ব্যুরো প্রধান নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক একেএম শিহাবউদ্দীন কিসলুর দায়ের করা উক্ত মামলায় বকেয়া পাওনা প্রদানেরও দাবি করেন। বাংলাদেশের সময় টিভি, সময় টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইও আহমেদ জুবায়ের এবং যুক্তরাষ্ট্রে সময় টিভি’র প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান সাকীর বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্ট অব দি স্টেট অব নিউইয়র্কে ‘ফোর কাউন্ট ’ (চার দফা অভিযোগ)- এ মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার ইনডেক্স নম্বর -৭২০৭৬২/২০২০।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বাংলাদেশের সময় টিভির পক্ষ থেকে ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রথমে সাংবাদিক একেএম শিহাবউদ্দীন কিসলুকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর তাকে যুক্তরাষ্ট্রস্থ ‘ব্যুরো চীফ’ হিসেবে পদোন্নতির নিয়োগ দেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময় টিভি সাংবাদিক শিহাউদ্দীন কিসলুর কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে শিহাবউদ্দীন কিসলুর মালিকানাধীন সময় মিডিয়া ইনক-এর সাথে ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর ‘জয়েন্ট ভেনচার’ বা যৌথ ব্যবসা চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশের সময় মিডিয়া লিমিটেড। পার্টনারশীপ ব্যবসার এই চুক্তির কোন মেয়াদ উত্তীর্নকাল ছিল না। চুক্তি অনুযায়ী একেএম শিহাবউদ্দীন কিসলুর প্রথম বছরের মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয় নূণ্যতম ৩ হাজার ডলার, সাথে কর্মচারীদের খরচ ২ হাজার ৫০০ ডলার এবং অফিস ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় সকল আনুসাঙ্গিক খরচ।

এছাড়া শিহাবউদ্দীন কিসলুকে সময় টেলিভিশন বাংলাদেশের নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমপরিমান বোনাস সুবিধাদি এবং শতকরা ৫% ভাগ লভ্যাংশ দেয়ার শর্তে চুক্তিবদ্ধ হয় বাংলাদেশের সময় মিডিয়া লিমিটেড। চুক্তির কিছুদিনের মধ্যেই সময় টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইও আহমেদ জুবায়ের যুক্তরাষ্ট্রে মার্কেটিং অফিসার হিসাবে আকতার হোসেন বাবুর জন্য এল ওয়ান ভিসার আবেদন করতে বলেন। এই ঘটনার কয়েক মাস আগে আকতার হোসেন বাবু এবং তার স্ত্রী মাহমুদা আলমকে কানাডা সীমান্তে ‘অসত্য তথ্য’ উপস্থাপনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে প্রবেশানুমতি না দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছিল সমীন্তে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশনের বিচারিক কর্মকর্তা। আকতার হোসেন বাবুর জন্য এল ওয়ান ভিসার আবেদনে উল্লেখ করা হয় আক্তার হোসেন বাবুর বার্ষিক বেতন ৭৫ হাজার ডলার (৫ মে ২০১৬ থেকে ১৪ এপ্রিল ২০১৮ সাল পর্যন্ত)। ‘অসত্য তথ্য’ দিয়ে আকতার হোসেন বাবুর এল ওয়ান ভিসার আবেদন এবং পরবর্তীতে এল ওয়ান আবেদনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শর্তাবলী পূরণ না করা সত্বেও ‘অসত্য তথ্যে’ আকতার হোসেন বাবুর জন্য পূনরায় এল ওয়ান ভিসা আবেদনে অস্বীকৃতি জানায় সাংবাদিক শিহাবউদ্দীন কিসলু। প্রচন্ড চাপের মুখেও এই অপরাধজনক কাজটি করতে রাজি হননি শিহাবউদ্দীন কিসলু। তিনি তার আইনজীবীর পরামর্শে আক্তার হোসেন বাবুর জন্য এল ওয়ান আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন বিভাগে যে কোন ধরনের জালিয়াতির কাজগপত্র জমা দিতে সম্পূর্ণ অপারগতা প্রকাশ করেন শিহাবউদ্দীন কিসলু। এরপরই শিহাবউদ্দীন কিসলুর সাথে সময় টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইওর সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর সূত্র ধরেই চুক্তি ভঙ্গ করে শিহাবউদ্দীন কিসলুকে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি একতরফা ভাবে চিঠি দিয়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার কথা জানানো হয়।

‘জয়েন্ট ভেনচার’ চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে এবং শিহাবউদ্দীন কিসলুর সকল ক্ষতিপূরণ ও বকেয়া পাওনা আদায়ে আদালতে শিহাউদ্দীন কিসলুর পক্ষে তার আইনজীবি ‘ফোর কাউন্ট ’ মামলা দায়ের করেন। আইনজীবি আর্থার মরিসন অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সময় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের প্রতারণামূলক কাজে সম্মত না হওয়ায় এবং প্রতারণার মাধ্যমে শিহাবউদ্দীন কিসলুর ন্যায্য পাওনা না দেয়ার জন্যই বাংলাদেশের সময় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেন। মামলার নথিতে আইনজীবীর মাধ্যমে শিহাবউদ্দীন কিসলু আদালতে ক্ষতিপূরণ (বকেয়া) পাওনা ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার এর সাথে বাৎসরিক ১ লাখ ডলার এবং চুক্তি মোতাবেক প্রাপ্য বোনাস ও লভ্যাংশ প্রাপ্তি’র মামলা দায়ের করেন।

যাই হোক-এই মামলায় সাংবাদিক হাসানুজ্জামান সাকীকে আসামী করা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে সাংবাদিকদের মধ্যে। কারণ, তিনি সময় টিভি’র কর্তৃপক্ষ নন। অবশ্য আদালতের বিচারকি কাজে তা প্রকাশ পাবে-একসময়। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে মামলার রায় কী হয়-এরজন্য। এখন ফোকাস পয়েন্ট হচ্ছে-দেশের কারা এবং কেন উন্নত দেশে থিতু হতে চান? অভিবাসী জীবন-যাপন নিয়ে প্রশ্ন নেই, দেশের অর্থ পাচার করে আনলে-সেটাই বড় ধাক্কা! বড় প্রশ্ন।

এ জাতীয় আরো খবর