1. successrony@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailykhabor24.com : Daily Khabor : Daily Khabor
শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১, ০১:১৫ অপরাহ্ন

লুটেপুটে খেতে যন্ত্রের দাম কয়েকশ গুণ বেশি প্রস্তাব

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: লুটেপুটে খেতে কৌশলে প্রকল্প প্রস্তাবেই ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির পাঁয়তারা চালিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।এক্ষেত্রে একেকটি পালস অক্সিমিটারের (শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা নিরূপণ যন্ত্র) দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যার বাজার মূল্য ১৫শ টাকা থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে।এছাড়া প্রতিটি ফেসমাস্কের দাম ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৬০০ টাকা, যার বাজার দর ৫ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধরা হয়েছে অস্বাভাবিক দাম।‘কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবে এমন আকাশছোঁয়া দাম প্রস্তাবব করা হয়। যেটি ‘পুকুরচুরির’ পাঁয়তারা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এসব বিষয়ে আপত্তি জানায় পরিকল্পনা কমিশন। সর্বশেষ কিছু দাম কমিয়ে প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য গত ৫ জানুয়ারি উপস্থাপন করা হয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বাস্তবায়নের ধীরগতি দেখে ক্ষুদ্ধ হন একনেকে চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অনুমোদন না দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া প্রকল্পটির ‘গোড়ায় গলদ’ ছিল। কোনো প্রকার সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই এটি গ্রহণ করা হয়। ফলে তিন বছরের প্রকল্পে যাচ্ছে ১১ বছর। বিষয়টি নিয়ে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদ্য সাবেক হওয়া সদস্য (সচিব) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে এটুকু বলতে পারি, এ প্রকল্পে ব্যাপক সমস্যা রয়েছে। সংশোধনীর প্রস্তাব পাওয়ার পর চূড়ান্ত বিচারে অনেক ক্ষেত্রে ব্যয় কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১২ সালের ৬ মার্চ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় একনেক। এরপর প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়া প্রথম দফায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। পরে ব্যয় বাড়িয়ে মোট ৬১১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত (তিন বছর বৃদ্ধি) বৃদ্ধি করে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন করা হয়।

ক্রয়সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চায়নার তৈরি একেকটি অক্সিমিটার পাওয়া যাচ্ছে ২ থেকে ১৬ ডলারের মধ্যে। এ হিসাবে স্থানীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে) দাঁড়ায় ১৭০ থেকে ১ হাজার ৩৬০ টাকা। ১ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে অক্সিমিটার পাওয়া যাচ্ছে। এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট,৭ শতাংশ ট্যাক্স, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং সরবরাহকারীর লাভ যোগ করলেও কখনই সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া মূল অনুমোদিত প্রকল্পে অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের জন্য ১১টি পালস অক্সিমিটারের দাম ধরা হয়েছিল প্রতিটি ৮৩ হাজার ১৬০ টাকা। এ হিসাবে মোট বরাদ্দ ধরা হয় ৯ লাখ ১৪ হাজার ৭৬০ টাকা। প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব ১১টির জন্য একেকটির দাম ধরা হয় ৮৫ হাজার টাকা করে মোট ৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। সর্বশেষ দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব ওই ১১টির জন্য প্রতিটির দামের প্রস্তাব করা হয় ২ লাখ ২১ হাজার টাকা করে মোট ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে প্রথম সংশোধনীর তুলনায় বৃদ্ধি পায় ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এর বাইরে মূল অনুমোদিত প্রকল্পে না থাকলেও ডিপিপির (উন্নয়ন কল্প প্রস্তাব) আরেক স্থানে প্রথম সংশোধনীতে দুটি অক্সিমিটারের দাম ধরা হয় ১০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে এসে ১০টি অক্সিমিটারের জন্য প্রস্তাব করা হয় ৯ লাখ টাকা। এছাড়া অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের জন্য মূল প্রকল্পে ৪০টি ফেসমাস্কের (১-৫আকারের) দাম ধরা হয়েছিল প্রতিটি ১ লাখ টাকা করে ৪০ লাখ টাকা। পরে প্রথম সংশোধনীতে এসে ব্যয় কমিয়ে ৪০টি মাস্কের জন্য ধরা হয় প্রতিটির জন্য ৬ হাজার টাকা করে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এখন দ্বিতীয় সংশোধনীতে এতে ধরা হয় ৪০টির জন্য প্রতিটি ১৫ হাজার ৬০০ টাকা করে ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে ৫ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে রাজস্ব খাতে আরও কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরা হয়। এর মধ্যে-প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবে রেজিস্ট্রেশন খাতে বরাদ্দ ছিল ৬ লাখ টাকা। সেটি বাড়িয়ে দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রস্তাব করা হয় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। মুদ্রণ ও বাঁধাই অঙ্গে ৩ লাখ টাকার স্থলে ধরা হয় ১৫ লাখ টাকা। স্টেশনারি অঙ্গে ৬ লাখ টাকা স্থলে ধরা হয় ১২ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ভ্রমণ অঙ্গে ৮ লাখ টাকার স্থলে ২০ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে প্রকল্প প্রস্তাবটির ওপর গত ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব খাতে অস্বাভাবিক অর্থ সংস্থান বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অবশ্যই দুুর্নীতির সুযোগ হিসেবে এ ধরনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যারা প্রকল্প তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত তারা নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে এ ধরনের কাজ করছেন। যেহেতু মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল এবং অতীতে এ ধরনের অপরাধে কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বারবার একই ঘটনা ঘটছে।

সংশ্লিষ্টসূত্রগুলো জানায়, মূল প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে মোট ২৭৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে হাতে নেয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সূত্র-যুগান্তর

এ জাতীয় আরো খবর