1. successrony@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailykhabor24.com : Daily Khabor : Daily Khabor
রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে মাঠপর্যায়ে টিকা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

সরকারের পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী চলতি জানুয়ারির শেষ সপ্তাহের আগেই দেশে আসছে বহু প্রত্যাশিত করোনাভাইরাসের টিকা। অর্থাৎ আগামী ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যেই দেশে টিকা আসবে, এটি এখন নিশ্চিত। সেই টার্গেট ধরেই এখন শুরু হয়েছে টিকা দেশে আসার পরবর্তী সব কার্যক্রম। সব কিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে মাঠপর্যায়ে এই টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হবে। এ জন্য নিবন্ধন শুরু হবে আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে।

এর আগে দেশে টিকা এসে পৌঁছার পরপরই ঢাকার কোনো একটি হাসপাতালে এবং ঢাকার বাইরের একাধিক হাসপাতালে একটি পাইলট প্রগ্রামের আকারে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে টিকা দেওয়া হবে। অন্য দেশে যা ড্রাইরান বা মহড়া হিসেবে বিবেচিত হয়, এখানে সেই মহড়াটি অভিনয় নয়, বরং বাস্তব প্রয়োগ করে এক সপ্তাহের জন্য পরীক্ষামূলক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।

এদিকে নিবন্ধনপ্রক্রিয়ার কারিগরি নানা ছক এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগে প্রতি মাসে ২৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার কথা বলা হলেও এখন বলা হচ্ছে, প্রতি মাসে ৫০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া আগে প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৮ দিন পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও এখন সেখান থেকে সরে এসে দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। এখন প্রথম ডোজ দেওয়ার আট সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশিদ আলম টিকাসংক্রান্ত এসব প্রস্তুতির বিষয়ে অবহিত করেন। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, আরেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার নাসিমা সুলতানা, টিকাদান কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মহাপরিচালক বলেন, টিকা কবে আসবে না আসবে তা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা বা ধোঁয়াশা পরিস্থিতি মাঝখানে তৈরি হয়েছিল, সেটা দূর হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বলা হচ্ছিল, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে টিকা আসবে। সেটাই এখন সত্যি হয়েছে। এখন আর টিকা পাওয়া নিয়ে কোনো সন্দেহ বা দীর্ঘসূত্রতার ব্যাপার নেই। চুক্তি অনুযায়ী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকা প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে দেশে আসবে। যেহেতু এখন প্রথম ডোজ দেওয়ার আট সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে, তাই প্রতি লটে যে পরিমাণ টিকা আসবে, সমপরিমাণ মানুষকেই সেই টিকা দেওয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশে টিকা আসবে। আর ুফেব্রুয়ারি থেকে টিকা দেওয়া শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে টিকা সরবরাহ ও সংরক্ষণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলার সরকারি ঔষধাগারের উপযুক্ত তাপমাত্রাসংবলিত ব্যবস্থাপনায় টিকা রাখা হবে। এরপর তালিকা অনুসারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার কাজ করবেন সরকার নির্ধারিত স্বাস্থ্যকর্মীরা। সাত হাজার ৩৩৪টি টিকাদান দল সারা দেশে টিকা দেওয়ার কাজ করবে। প্রতি দলে দুজন করে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী ও দুজন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল এই টিকাদানকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক বলেন, ‘অন্য দেশে টিকা দেওয়ার আগে যেভাবে ড্রাইরান করছে বা মহড়া দিচ্ছে, আমরা শুধু সেই অভিনয়ের মহড়ায় যাচ্ছি না। বরং আমরা ঢাকা ও ঢাকার বাইরের কয়েকটি সেন্টারে সত্যিকারভাবেই আগে থেকে নির্ধারিত স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন ইতিবাচক প্রচারণার ওপর খুব জোর দিচ্ছি। যদি মানুষের মধ্যে অ্যাপস সিস্টেম নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি দেখা দেয়, প্রয়োজনে আমরা অ্যাপস বাদ দিয়ে বিকল্প হিসেবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ও তালিকা ধরে ধরে টিকা দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘২১ থেকে ২৫ তারিখের কথা বললেও এই সময়ের মধ্যে এবং তার দু-এক দিন আগে-পরে ভাগে ভাগে টিকা আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে ২৬ তারিখ একটি বড় অংশ আসবে বলে শুনেছি।’

টিকা পেতে যেভাবে নিবন্ধন করতে হবে

স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ব্যবহার করে অ্যাপের মাধ্যমে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হবে। দেশে করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ তৈরি করেছে সরকার।

স্মার্টফোনে অ্যাপটি ডাউনলোডের পর ফোন নম্বর ও এনআইডি নম্বর দিয়ে ব্যবহারকারী অ্যাপে নিজের নিবন্ধন করবেন। অ্যাপে নিবন্ধন করার সময় নাম, জন্ম তারিখ, এনআইডি নম্বর, অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা আছে কি না, পেশা ইত্যাদি বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।

তবে কারা আগে টিকা পাবেন, কবে টিকা পাবেন, সেই অগ্রাধিকারের তালিকাটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকে সংগ্রহ করা হবে। অর্থাৎ কোন কেন্দ্রে, কবে টিকা দেওয়া হবে তা মোবাইল বার্তার (মেসেজ) মাধ্যমে জানানো হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি দুটি করে ডোজ পাবেন। তাঁদের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের বিস্তারিতও অ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাঁদের হাতে স্মার্টফোন নেই, তাঁরা ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন বলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ জাতীয় আরো খবর