1. successrony@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailykhabor24.com : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. shaker@dailykhabor24.com : shaker :
শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন

এমপি শাহীনের ‘নাশকতার পরামর্শ’ ফৌজদারি অপরাধ

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

যশোর-৬ আসনের ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারকে নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে এখন রাগ-ক্ষোভের হলকা বইছে। একজন পরিবেশবাদী আইনজীবীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে থানার ওসিকে দেওয়া তাঁর পরামর্শকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, যশোরের ওই আইনজীবীর কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ থাকলে ইচ্ছা করলে তিনি সংশ্লিষ্ট এমপির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মামলা করতে পারেন। আর মামলায় যদি অপরাধ প্রমাণিত হয় তবেই কেবল এমপির সদস্য পদ নিয়ে টান পড়তে পারে।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অপ্রত্যাশিত। সাধারণ মানুষের জন্যই কাজ করার দায়িত্ব একজন সংসদ সদস্যের। সেখানে একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার জন্য প্রশাসনকে প্ররোচিত করার অভিযোগ গুরুতর। এ কারণে ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।’ তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে বলা হয়েছে, সেই ব্যক্তি ইচ্ছা করলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদের ঘটনা ঘটতে হবে। অর্থাৎ কোনো ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দুই বছরের সাজা হতে হবে। আলোচিত ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলা করতে হবে। মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হতে হবে। এসব কিছু ঘটলেই কেবল সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।’

আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, একজন সংসদ সদস্যের দায়িত্ব হলো দেশের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, দেশ সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য যেসব আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন তা করা। সেখানে একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকের মিথ্যা মামলা দিতে থানার ওসিকে প্ররোচিত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ওই নাগরিক এমপির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ নম্বর ধারায় পাল্টা মামলা করতে পারেন। আর যদি তা আদালতে প্রমাণিত হয় তবে সাত বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। আইনের এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা ছাড়া এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।

এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নজির নেই

সংসদের বাইরে একজন এমপির অনৈতিক আচরণ, ক্ষমতার দাপট দেখানো ও চাপ প্রয়োগ করার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে স্পিকারের ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত সেই ব্যবস্থা গ্রহণের নজির নেই। এমনকি এমপিদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো অভিযোগ সংসদ সচিবালয়ে জমাও হয়নি। অভিযোগ না পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ফৌজদারি অপরাধের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব আদালতের। কোনো সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেলে আদালত সেই অপরাধের বিচার করবেন। এরপর আদালতের রায় সম্পর্কে স্পিকার বা জাতীয় সংসদকে অবহিত করলেই সরকার ব্যবস্থা নিতে পারবে। কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য পাপুলের বিষয়টিও সংসদে জানানো হলে স্পিকার নিশ্চয়ই সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশিশক্তির দাপট দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ যশোর জেলার কেশবপুরের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সাইফুল্লাহকে ফাঁসাতে তাঁর বিরুদ্ধে ‘ডাকাতির উদ্দেশ্যে বোমা হামলা’র মামলা করতে থানার ওসিকে ফোনে নির্দেশ দিয়েছেন যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শাহীন চাকলাদার। গত সপ্তাহে তিনি কেশবপুর থানার ওসি জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে কল করে এই নির্দেশনা দেন। সাইফুল্লাহ বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করেছেন।

সূত্র জানায়, পরিবেশবাদী কর্মী সাইফুল্লাহ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সঙ্গে মিলে কাজ করেন। সম্প্রতি তিনি ওই এলাকায় ‘মেসার্স সুপার ব্রিকস’ নামে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন। আদালত থেকে ইটভাটার বিরুদ্ধে নির্দেশনা আনায় তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন স্থানীয় এমপি শাহীন চাকলাদার। এমপি ফোন করে ওসির কাছে জানতে চান যে তিনি ‘সাতবাড়িয়ার সাইফুল্লাহ’কে চেনেন কি না। জবাবে ওসি বলেন, ‘ওই ইটভাটার একটা বিষয় নিয়ে সাইফুল্লাহ বেলায় যেয়ে মামলা-টামলা করে আর কী। বাজে একটা ছেলে স্যার।’

এরপর এমপি শাহীন চাকলাদার ওসিকে বলেন, ‘আপনি এখন রাত্তিরে থানায় বোম মারেন একটা। মারায়ে ওর নামে মামলা করতে হইবে। পারবেন? আপনি থাকলে এগুলো করতে অইবে। না অইলে কোন জায়গায় করবেন? আমি যা বলছি, লাস্ট কথা এডাই। ঘটনা হচ্ছে, আপনি যদি পারেন ওই এলাকা ঠাণ্ডা রাখতি, আমি বন ও পরিবেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য। ওখানে কারো বাপের ক্ষমতা নেই। তাহলে এ (সাইফুল্লাহ) বারবার যেয়ে কেন করে, আপনি কী করেন?’

এরপর ওসি বলেন, ‘ও (সাইফুল্লাহ) তো স্যার হাইকোর্টের কাগজ নিয়া আসে বারবার।’ এরপর এমপি বলেন, ‘আরে কোথার হাইকোর্ট-ফাইকোর্ট। কোর্ট-ফোর্ট যা বলুক, বলুগ্যা। আমাদের খেলা নাই?’

এরপর সাইফুল্লাহকে ফাঁসানোর নির্দেশনা দিয়ে ওসিকে এমপি বলেন, ‘আপনে ওকে যেকোনোভাবে যেকোনো লোক দিয়ে কাইলকে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটায়ে কালকে এটা কাজ করতে হবে, ওকে?… যেকোনো ভাটায় যেয়ে, দরকার হলি পুলিশের লোক যেয়ে সিভিলে যেয়ে বোম ফাটায় দিয়ে চলে আসুক। এখানে হামলা করেছে ডাকাতি করার জন্য। এটা ছিল অমুক। একটা বানাই দিলে হয়া গেল।’

এ জাতীয় আরো খবর