1. successrony@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailykhabor24.com : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. shaker@dailykhabor24.com : shaker :
শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে অস্ত্রের ছড়াছড়ি

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপকর্মে। এমনকি নির্বাচনী সহিংসতায়ও ব্যবহার হচ্ছে এসব অবৈধ অস্ত্র। যেভাবে অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন দেখা যাচ্ছে ঠিক সেভাবে উদ্ধার হচ্ছে না। তাই সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর দাপটও কমছে না। জানা যায়, চট্টগ্রামে বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা ৪ হাজার ২৭৫টি। এর মধ্যে মহানগরে ২ হাজার ৪৭৭টি ও উপজেলায় অবৈধ অস্ত্র আছে ১ হাজার ৭৯৮টি।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও বিভিন্ন উপজেলায় পৌরসভা নির্বাচনেও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে নজিরবিহীন। এর মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় চসিক নির্বাচন ঘিরে ৩ জন ও পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর ভাই নিহত হয়।

চন্দনাইশেও পৌরসভা নির্বাচনে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এছাড়া নির্বাচনী সহিংসতায় বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার হয়। নির্বাচনের আগের রাতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ফাঁকা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হয়।

এদিকে ৭ বছরেও উদ্ধার হয়নি সিআরবির সাত রাস্তার মাথা এলাকায় রেলওয়ে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাবল মার্ডারে ব্যবহৃত অস্ত্র। চট্টগ্রামে গত দুই বছরে জেলা ও নগরীতে অসংখ্য লোক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। অধিকাংশ ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। বর্তমানে একাধিক কিশোর অপরাধী গ্রুপের হাতেও শোভা পাচ্ছে অবৈধ অস্ত্র। সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, বৈধ অস্ত্রের যাতে অবৈধ ব্যবহার না হয় সেদিকে নজর রাখছে প্রশাসন। থানা পুলিশের পাশাপাশি

গোয়েন্দা পুলিশ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

১৪ ফেব্রুয়ারি পটিয়া ও চন্দনাইশ পৌরসভা নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তার নিয়েও বেশ কিছু স্থানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়। এর মধ্যে পটিয়ায় সংঘর্ষের সময় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার তথা গোলাগুলি হয়। ছুরিকাঘাতে নিহত হয় আবদুল মাবুদ নামে এক ব্যক্তি। তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল মান্নানের ভাই। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ব্যাপক অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়। ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনে আমবাগান এলাকায় নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয় আলাউদ্দিন নামে এক দিনমজুর। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার এসআই কামরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত এ মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

চসিক নির্বাচন চলাকালে নগরীর ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী পুলক খাস্তগীরের অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ইসমাইল বালির সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালীন অস্ত্র হাতে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ সহসভাপতি সাইফুদ্দিনকে অস্ত্র তাক করে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এ ছবিটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ প্রসঙ্গে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত অস্ত্রধারী সাইফুদ্দিনকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

নির্বাচনের কদিন আগে ১২ জানুয়ারি নগরীর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের মগপুকুর পাড় এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আজগর আলী ওরফে বাবুল নামের এক মহল্লা সরদার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এখনো উদ্ধার হয়নি এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর শাহাদাত হোসেন বলেন, মামলা তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত এ মামলায় ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। এছাড়া নির্বাচনের আগের রাতেও আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য নগরীর চান্দগাঁও, বাকলিয়া, বায়েজিদ বোস্তামী, পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে ফাঁকা গুলি ছোড়াসহ একাধিক ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে অবৈধ অস্ত্র।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন চট্টগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার কবীর চৌধুরী বলেন, অবৈধ অস্ত্র থাকলে এর অবৈধ ব্যবহার হবেই। নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। মানুষ মারা গেছে। ভোটকেন্দ্রে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। ভোটের দিন অস্ত্র নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অথচ পুলিশ এখনো সেসব অস্ত্র উদ্ধার করছে না।

নির্বাচন শেষ হলেও অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধার না হওয়ায় আতঙ্ক কাটছে না। কেননা অবৈধ অস্ত্রগুলো খুনাখুনি, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ জীবন এবং সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হবেই। আশা করব প্রশাসন দ্রুত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালাবে।

এ জাতীয় আরো খবর