1. successrony@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@dailykhabor24.com : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. shaker@dailykhabor24.com : shaker :
শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন

প্রতিদিনই নতুন কৌশলে বিক্ষোভ

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

মিয়ানমারে পুলিশের চেয়েও এককাঠি সরেস দেশটির জনগণ। চলমান সেনা অভ্যুত্থান ও অবৈধ ক্ষমতা দখলবিরোধী বিক্ষোভে প্রতিদিনই তা তারা প্রমাণ করে যাচ্ছে। যদি পুলিশ থাকে ডালে ডালে, তাহলে বিক্ষোভকারীরা থাকছে পাতায় পাতায়। প্রতিদিন নতুন নতুন কৌশলে বিক্ষোভ-আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

এমনকি কখনও কখনও দেশের কঠোর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ এই বাহিনীটিকে তারা বোকা বানিয়ে ছাড়ছে। কোথায়, কিভাবে বিক্ষোভ হবে ‘বিশেষ কিছু সংকেত’-এ তা আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর বিন্দুমাত্র আচ করতে পারছে না নিরাপত্তা বাহিনী। মিয়ানমারের সংবাদ মাধ্যম দ্য ইরাবতির এক প্রতিবেদনে এসব জানানো হয়েছে।

অভ্যুত্থানের পর দুই সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমারে সর্বাত্মক রূপ নিয়েছে আন্দোলন-সংগ্রাম। এতে যোগ দিয়েছে কৃষক-শ্রমিক-মজুর থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। বিশেষ করে শহরের শিক্ষিত ও রাজনীতি সচেতন নাগরিকদের একটা বড় অংশই আন্দোলনে শামিল হয়েছে।

রাস্তার বিক্ষোভের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সরব এই অভ্যুত্থানবিরোধীরা। প্রতিদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে রাতের বেলা একবার নিজেদের ফেসবুক বা টুইটারের নিউজফিড বা ইনবক্স চেক করেই ঘুমাতে যায়। আগামীদিন সকালে কি কি বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে তা আগেভাগে জেনে রাখাই উদ্দেশ্য।

তবে নিউজফিড বা ইনবক্সের ম্যাসেজ বা বার্তাগুলোর বেশিরভাগই এক ধরনের কোড তথা বিশেষ সাংকেতিক ভাষায় লেখা। প্রধানত সেনা-পুলিশের চোখে ধুলো দিতেই এটা করা হয়ে থাকে। অভ্যুত্থানের পর থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত এভাবেই চলে আসছে।

অনেক সময়ই বার্তায় যা লেখা থাকে, দেখা যায়, পরদিন সকালে তার উল্টোটা ঘটছে। উদাহরণস্বরূপ কোনো বার্তায় লেখা, ‘আগামীকাল এটা করবেন না। বরং উল্টোটা করুন। আপনাদেরকে এটাই করতে বলা হচ্ছে।’ ফলে পুলিশ ঠিক বুঝে উঠতে পারে না, আগামী আসলেই কি ঘটতে যাচ্ছে।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে টানা বিক্ষোভের পর চলতি সপ্তাহে আন্দোলনের কৌশল বদলে ফেলে বিক্ষোভকারীরা। এক্ষেত্রে নিজেদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনগুলোকেই প্রধান অস্ত্র করে তুলেছে তারা। প্রতিদিন রাতে বিভিন্ন সংকেতের মাধ্যমে ফেসবুক ও টুইটারের মাধ্যমে পরবর্তী দিনের বিক্ষোভ কৌশল জানিয়ে দেয় আয়োজকরা।

পরিকল্পনা মতো পরদিন সকালে প্রবল বিক্রমে বিক্ষোভে ঝাঁপিয়ে পড়ে অনুসারীরা। এভাবে প্রথম মঙ্গলবার সকালে ইয়াঙ্গুন ও দক্ষিণাঞ্চলীয় মন রাজ্যের মধ্যকার রেললাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিন রাতেই সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা হয় আরেকটি বার্তা, যা মুহূর্তেই মোবাইলে মোবাইলে ভাইরাল হয়ে যায়।

তাতে বলা হয়, ‘কারস ডোন্ট ব্রেক ডাউন টুমোরো’ যার মানে ‘আগামীকাল রাস্তায় কোনো গাড়ি ব্রেক করবে না’। কিন্তু পরদিন সকালেই দেখা যায় একেবারেই বিপরীত চিত্র। বুধবার সর্বাধিক জনবসতির শহর ইয়াঙ্গুনের সব বড় সড়ক ও সেতুর ওপর রহস্যজনকভাবে থেমে যায় হাজার হাজার গাড়ি।

আসল ঘটনা হচ্ছে, ইচ্ছাকৃত নিজেদের গাড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে অভ্যুত্থানবিরোধীরা। এরপর শহরের কেন্দ্রে বিশাল সমাবেশ করে। যাতে অংশ নেয় লাখো মানুষ। ফলে প্রধান সড়ক এবং সেতুগুলোর ওপর হঠাৎই যানজট তৈরি হয়। সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা।

গাড়ির চালকদের ভাবটা এমন যেন গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেছে। পুলিশ এসে এভাবে রাস্তায় গাড়ি রাখার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলছে, গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে বা তেল ফুরিয়ে গেছে। ‘ব্রোকেন ডাউন কার ক্যাম্পেইন’ নামে একেবারেই নতুন এই আন্দোলনের ফলে ওইদিন শহরে গাড়ি নিয়ে টহল দিতে পারেনি সেনা ও দাঙ্গা পুলিশ। আগের দিনগুলোর মতো বিক্ষোভও হঠাতে পারেনি তারা।

এভাবে একটা সফল বিক্ষোভের পর এদিন রাতেই আরেকটি বার্তায় বিক্ষোভকারীরা। এবার বলা হয়, ‘লেট’স ড্রাইভ কারস ভেরি ফাস্ট’ অর্থাৎ ‘আগামীকাল গাড়ি দ্রুত চালাতে হবে।’ কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে দেখা গেল, ইয়াঙ্গুনের সব বড় রাস্তায় খুবই মন্থর গতিতে চলছে গাড়ি। এদিন শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম।

এদিনের আন্দোলনও সফল। এসব আন্দোলন মূলত দেশটির চলমান অসহযোগ আন্দোলনের (সিডিএম) অংশ। নতুন নতুন কৌশলের মাধ্যমে এই আন্দোলনে নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করছে শহরবাসী নাগরিকরাও। সরকার ও প্রশাসন অকেজো করেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাই এর লক্ষ্য।

এদিকে চলমান অসহযোগ আন্দোলন ঠেকাতে বেছে বেছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেফতার করছে পুলিশ। রাজধানী নেপিদো, অন্যতম প্রধান শহর মান্দালয় ও কাচিন রাজ্য থেকে চলতি সপ্তাহেই আটক করা হয়েছে প্রায় ৩০ জনকে। এর মধ্যে নেপিদো থেকে আটক করা হয়েছে অন্তত ২০ জনকে।

এদের মধ্যে নয়জন নারী ও দুজন পুরুষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা। এদিকে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকট অবসানে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে মিয়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মগুরুদের সর্বোচ্চ সংগঠন ‘মা হা না’। বুধবার মান্দালয়ের বুদ্ধিজম ইউনিভার্সিটিতে মান্দালয় অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর এই আহ্বান জানান সংগঠনের চেয়ারম্যান ভামো সায়াদো ভেদান্ত কুমারা। চলমান অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে বিভিন্ন বৌদ্ধ সংগঠন ও এর নেতারাও অংশ নিচ্ছেন।

এ জাতীয় আরো খবর