1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন

অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম : এখন সময়ের দাবি

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ১০ জুন, ২০২০
  • ৬২ বার পড়া হয়েছে

জাহিদুল করিম: বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার এই সময়কালে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এখন লকডাউন অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। বিপণিবিতান, কল-কারখানা, অফিস-আদালত ও গণপরিবহনও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক খুলে দেওয়া হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রমের জন্য একেবারে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অফিসও খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বলা যায়, এখন শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম খোলা বাকি। অবশ্য এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের ভবিষ্যত্ আখ্যায়িত করে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে তাদের কোনো ধরনের ঝুঁকির মধ্যে না ফেলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে, নতুন করে সংক্রমিত না হওয়ার পরিবেশ ফিরে এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পক্ষে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে তিনি শিক্ষার্থীদের বাসায় থাকার সুযোগটা ভালোভাবে কাজে লাগানোর নিমিত্তে পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং শিক্ষকদের অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে প্রধানমন্ত্রী পাঠদানের মাধ্যম হিসেবে ‘অনলাইনে’র ওপর গুরুত্বারোপ করে সঠিক কথাই বলেছেন।

এ কথা অস্বীকার করা যায় না যে সরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করা এবং এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম সীমিত আকারে চালু থাকলেও তেমন উল্লেখ করার মতো নয়। শুধু ইউরোপ বা আমেরিকা নয়, এশিয়া মহাদেশের অনেক উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশ যেমন—জাপান, চীন, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনলাইনে শিক্ষাদানসহ উচ্চতর ডিগ্রি প্রদানের সুযোগও তারা তৈরি করেছে। আমরা অবশ্য এখনো সেই পথে পা বাড়াইনি। বলা যায়, করোনার এই সময়কালে আমাদের দেশে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে মাত্র।

পরিবেশ-পরিস্থিতির বাস্তবতা আমাদের জানান দিচ্ছে যে এখন সময় হয়েছে অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম সীমিত আকারে হলেও তা চালু করার। তা না হলে আমরা শিক্ষাকার্যক্রমে পিছিয়ে পড়ব এবং শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হবে। বিশ্বব্যাপী করোনার এই মহামারি আমাদের বুঝিয়ে দিল যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। প্রথাগত ধারণা আর পশ্চাত্পদতা পরিহার করে বিশ্বায়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সরকার কাজ করছে, তার শুরুটা হওয়ার কথা ছিল শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার মধ্য দিয়ে। অনেকেই বলেন, আমরা উল্টো পথে হাঁটতে পছন্দ করি। অনেক ক্ষেত্রে তাই লক্ষণীয়। ডিজিটাল সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ডিজিটাল জ্ঞানসম্পন্ন জনসম্পদ প্রয়োজন। এই ডিজিটাল জনসম্পদ তৈরি হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে, যারা ডিজিটাল সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ জন্য সর্বাগ্রে আমাদের শিক্ষা খাতকে ডিজিটাল করার প্রয়োজন। এরপর পর্যায়ক্রমে চিকিত্সা এবং পরিবহন সেবাসহ অন্য সব সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাবসায়িক কার্যক্রমকে ডিজিটাল সিস্টেমে রূপান্তর করতে পারলেই আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে অধিক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে পারব।

সবাই জানেন যে আমাদের দেশে অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে ‘উইকেন্ড’ অথবা ‘ইভিনিং’ প্রোগ্রাম রয়েছে, তার বেশির ভাগ শিক্ষাকার্যক্রমে বিভিন্ন সফটওয়্যার কম্পানির অনলাইন সেবা ব্যবহার করা হয়, যার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি কার্যক্রমসহ, ক্লাস অ্যাটেনডেন্স, পরীক্ষার মার্কস সংরক্ষণ ও শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়নের মতো নানা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব কার্যক্রম যদি অনলাইনে হতে পারে তাহলে কেন ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান অনলাইনে সম্ভব হবে না। আমাদের শুধু প্রয়োজন সাহসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়ন করা। বাংলাদেশে অনেক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং আইটি স্পেসালিস্ট রয়েছেন। তাঁদের কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার কাজ কঠিন কিছু নয়। আমাদের দেশে বেশির ভাগ সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ শিক্ষকের বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কমবেশি সবাই কিছু অনলাইনে কোর্স করেছেন। বর্তমানে ইউরোপ-আমেরিকার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্নয়ন সংস্থার ডিসট্যান্স লার্নিং প্রোগ্রামের আওতায় অনলাইনে ট্রেনিং কোর্সে ভর্তি হয়ে অনেকেই নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করছেন এবং সার্টিফিকেট পাচ্ছেন।

এমন বাস্তবতায় আমাদের অনলাইনে ক্লাস এবং পরীক্ষা নেওয়ার কথা চিন্তা করার এখনই সময়। আমেরিকায় পড়াশোনা করার সময় আমি প্রত্যক্ষ করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে কিভাবে ক্লাস নেওয়া হয়। যেসব প্ল্যাটফর্ম তাঁরা ব্যবহার করেন তা ব্ল্যাকবোর্ড বা ক্যানভাস নামে পরিচিত। এনব প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে খুব বেশি অর্থায়নের প্রয়োজন হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে নিজস্ব অর্থায়নে অথবা সামান্য সরকারি সহায়তায় তা তৈরি করতে পারে। এসব প্ল্যাটফর্মে শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি রেকর্ড করা থেকে শুরু করে লেকচার প্রদান, লেকচারের ভিডিও রেকর্ডিং আপলোড, কুইজ, মিডটার্ম, ফাইনাল এক্সাম গ্রহণ এবং পরীক্ষার মার্কস আপলোড—সবই করেন। সাক্ষাত্কার ও আলোচনার জন্য জুম, স্কাইপি, হোয়াটসআপ এবং ভাইভার ব্যবহার করেন। অনেক ক্ষেত্রে এক্সামের জন্য গুগল ফর্ম ব্যবহার করেন। এসব সফটওয়্যার আমরা অনলাইনে ফ্রি পেতে পারি।

আমি সম্প্রতি এক জরিপে তথ্য পেয়েছি যে আমাদের দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৬০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী স্মার্টফোন, ডেস্কটপ অথবা ল্যাপটপ কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে। বাকি ৪০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রীকে যদি বিশ্ববিদ্যালয় অথবা সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে স্মার্টফোন প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত, তাহলে অনলাইনে পাঠদান করার বিষয়টি আরো সহজ হতো। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কিছুটা একমত হয়ে আমি বলব মানসিকতা আমাদের অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম চালুর একটি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা, তবে প্রধান প্রতিবন্ধকতা নয়। একটি অনলাইন জরিপে দেখা যায়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৫০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী অনলাইনে ক্লাস করতে আগ্রহী। বাকি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী মনে করে, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ব্যবহার এবং ইন্টারনেট সেবা বৃদ্ধি করতে পারলে ৯৫ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী অনলাইনে ক্লাস করতে আগ্রহ প্রকাশ করবে। এবং ৪০ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার জন্য তাঁদের স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে। সুতরাং এই বিষয়ের প্রতি সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই দৃষ্টি দিতে পারে।

আশঙ্কার বিষয় হলো, আমরা জানি না কবে এবং কখন আমরা করোনার এমন মহামারি থেকে পরিত্রাণ পাব। কিন্তু তাই বলে আমাদের শিক্ষাকার্যক্রম এমন অনিশ্চয়তা এবং স্থবিরতার মধ্যে ফেলে রাখা যায় না। সামনের দিনগুলোর কথা ভেবে সীমিত আকারে হলেও আমাদের অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চালুর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সরকারের পক্ষ থেকে যেভাবে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সব প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়া হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম নিয়েও ভাবতে হবে। আবার আমরা এটাও মনে করি যে দ্রুতই শিক্ষাকার্যক্রম খুলে দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত আমাদের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকি এবং বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। কেননা সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বাংলাদেশ করোনার প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এমন বাস্তবতা সামনে রেখে আমাদের উচিত এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে আমরা সীমিত আকারে অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম চালু করতে পারি। উদ্যোগটি হবে সাহসী। তবে আজকের সাহসী উদ্যোগই আমাদের আগামী দিনের সম্ভাবনার দার উন্মোচন করবে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক এবং সভাপতি, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর

বিজ্ঞাপন