1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

অভিনব কৌশলে র‌্যাব-পুলিশকে বোকা বানায় সুমন

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৬ মে, ২০২১
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর সাহিনুদ্দিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার এড়াতে অভিনব কৌশল নিয়েছিলেন সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন। র‌্যাব-পুলিশকে রীতিমতো বোকা বানিয়ে তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জালে সুমন ধরা পড়েন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত তিনি বর্ণনা করেছে। সোমবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং এর আগে পুলিশের কাছে দেওয়া সুমনের জবানবন্দি অনুযায়ী- রকির মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকায় চার বহিরাগত খুনি ভাড়া করা হয়।

১৬ মে বিকালে হত্যাকাণ্ডের পর মোটরসাইকেল প্রহরায় (এসকর্ট করে) কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া ঘাতকদের নির্বিঘ্নে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন সুমন নিজেই। পরে সুমন নিজেও এলাকা ত্যাগ করেন। গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত কোথায় কিভাবে ছিলেন তাও তিনি বর্ণনা করেছেন ডিবির কাছে।

ডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে জানায়, ঘটনাস্থল থেকে নির্বিঘ্নে সবাইকে পালানোর ব্যবস্থা করার পর সুমন মোটরসাইকেলে শাহবাগ এলাকায় যান। সেখানে কিছু সময় থাকার পর ডেমরায় শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। সেখানে তার স্ত্রী লিমা আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে আগেই তিনি তার মোবাইল ফোন থেকে সিম বিচ্ছিন্ন করেন। শ্বশুরবাড়িতে দুদিন থাকার পর ১৮ মে ভোরে কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজারে তিনি চলে যান।

সেখানে তার মোবাইল ফোন সেটে দুটি সিম লাগালেও পরে সেগুলো খুলে স্যালাইনের প্যাকেটে ভরে আঁটিবাজার মোড়ের একটি মসজিদের পাশে বরই গাছের নিচে রেখে ডেমরায় চলে যান। এটা ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বোকা বানানোর একটি কৌশল। গ্রেফতার এড়াতে এর আগে কোনো অপরাধী এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করেনি।

এক ডিবি কর্মকর্তা জানান, সাধারণত কোনো এলাকায় সিম ওপেন করা হলে মোবাইল ফোন সেটটির অবস্থান ১২ ঘণ্টা ওই এলাকায় দেখায়। আঁটিবাজার এলাকায় তার মোবাইল ফোনের লোকেশন পেয়ে আমরা সেখানে তাকে খুঁজতে থাকি।

অনেক চেষ্টার পর সিম দুটি উদ্ধার করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সিমগুলো রেখে সুমন ডেমরার খানবাড়ির শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। তার শ্বশুরবাড়ি যে ডেমরায় সেটিও আমাদের জানা ছিল না। সুমনের সিম উদ্ধারের পর তার স্ত্রী লিমার তিনটি মোবাইল ফোন নম্বর খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। একপর্যায়ে লিমার একটি নম্বরের লোকেশন ডেমরার খানবাড়ি চৌরাস্তা এলাকায় পাওয়া যায়।

আগের রাতে সেখানে সুমনের মোবাইল ফোনের লোকেশন ছিল। তখন আমরা বুঝতে পারি, স্বামী-স্ত্রী আগের রাতে একসঙ্গেই ছিলেন। সুমন-লিমার অবস্থান বের করতে ৬০০টি নম্বর নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এরপর খানবাড়ি চৌরাস্তা এলাকার চারটি সচল নম্বর বের করা হয়। একটি নম্বর পর্যালোচনা করে ফোন মালিকের নাম-ঠিকানা বের করা হয়। তার নাম সিদ্দিক। তার ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পর্যালোচনায় এক বাড়িওয়ালার নম্বর পাওয়া যায়। সিদ্দিকের খোঁজে ১৯ মে ভোর রাতে ওই বাড়িতে গেলে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে সিদ্দিক এ বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। এখন সিদ্দিক কোথায় থাকেন তা কেউ বলতে পারেননি।

তবে হামিদ নামের এক গাড়িচালকের নম্বর দিয়ে বাড়িওয়ালা বলেন, ওই গাড়িচালক সিদ্দিকের বিষয়ে তথ্য দিতে পারেন। সিদ্দিক নিজেও একজন গাড়িচালক। এরপর হামিদের মাধ্যমে সিদ্দিকের বাড়ির ঠিকানা পাওয়া যায়। তাকে নিয়ে সিদ্দিকের বাসায় গেলে পুলিশ পরিচয় পেয়ে সিদ্দিক দরজা খুলতে কালক্ষেপণ করতে থাকে। কৌশলগত কারণে সিদ্দিকের কাছে সুমনের সন্ধান না চেয়ে লিমার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। কারণ লিমাকে পেলেই সুমনকে পাওয়া যাবে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও জানান, সিদ্দিক বলেন, লিমা আমার মেয়ে এবং সুমন আমার মেয়ের জামাই। কিন্তু তাদের সঙ্গে আমার অনেকদিন যোগাযোগ নেই। তারা আমার বাসায় দীর্ঘদিন আসে না। পরে তার স্ত্রীকে (দ্বিতীয়) জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। লিমা সিদ্দিকের প্রথম স্ত্রীর মেয়ে। এক্ষেত্রে সিদ্দিকের দ্বিতীয় স্ত্রীকে কাজে লাগানো হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী জানান, সুমন-লিমা তার দেবরের বাসায় আছে। তাকে নিয়ে তার দেবরের বাসায় যাওয়া হয়। সেখান থেকেই সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে সুমন বলেন, জমি-জমা নিয়ে বিরোধে পল্লবীর হ্যাভেলি প্রপার্টিজের মালিক সাবেক এমপি এমএ আওয়াল তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে হাত-পা কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার নির্দেশেই ভাড়াটে কিলারদের নিয়ে সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সুমন জানান, রকি নামের একজনের মাধ্যমে চার খুনি ভাড়া করি। কিলিং মিশনে আমি এবং রকিসহ ১০-১২ জন ছিলাম।

টিটুর মাধ্যমে সাহিনকে ডি ব্লকের একটি বাসার গ্যারেজে ডেকে আনা হয়। আমি প্রথমে আঘাত করার পর অন্যরা চাপাতি, রামদাসহ অন্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। সাহিনুদ্দিন দৌড়ে পালাতে গেলে মানিক ও মনির রাস্তার মধ্যে প্রকাশ্যে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, ভাড়া করা খুনিদের মধ্যে শরিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর শরীফ ঢাকার বাইরে চলে যান। পরে ঢাকায় আসার পথে কাঁচপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কিশোরগঞ্জে দুজনের অবস্থান বলে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, সাহিনুদ্দিনকে হত্যার জন্য প্রাথমিকভাবে সুমনকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। আউয়াল খুশি হলে আরও বেশি টাকার আশ্বাস দেওয়া হয়। ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার আহসান খান যুগান্তরকে বলেন, যে মোটরসাইকেল দিয়ে সুমন খুনিদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সহায়তা করেছিল সেই মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে আউয়ালের কলাবাগানের অফিসে সাহিনুদ্দিনের ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হয়। ওই সময় সুমন, তাহের, কিবরিয়া ও টিটুসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিল।

 

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর