1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

অস্তিত্ব সংকটে ২০ দলীয় জোট

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১
  • ২৫১ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কার্যত কোনো অস্তিত্বই নেই। অনেকটা নামেই চলছে দেশের বড় এ জোট। আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা মাঠের রাজনীতিতে তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেখা যায় না। যে যার মতো চলছে।

বিএনপির একলা চলো নীতির কারণে জোটের শরিকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে হতাশা। বিভিন্ন কর্মসূচি ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব না দেয়ায় শরিকদের কারও কারও ভেতরে রয়েছে চাপা ক্ষোভ।

এছাড়া অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীকে জোটে রাখা বা ছেড়ে দেওয়া নিয়েও চলছে টানাপোড়েন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে ২০ দলীয় জোট। এতে মাত্র ছয়টি নিবন্ধিত দল আছে, বাকি দলগুলো অ-নিবন্ধিত। অধিকাংশ দল চলছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক।

সিটি নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনেও অংশ নেয়নি তারা। বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন না ভোটের মাঠে। আন্দোলন-সংগ্রামেও রাজপথে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।

সূত্র জানায়, ২০ দলীয় জোটে থাকা জামায়াতে ইসলামী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, লেবার পার্টি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ইস্যুভিত্তিক কিছু কর্মসূচি পালন করলেও বাকি দলের কোনো তৎপরতা নেই।

অধিকাংশ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত নেই। কেন্দ্রীয় কমিটি থাকলেও নেই জেলা কমিটি। কয়েকটি আবার এক ব্যক্তির এক দল নামেও পরিচিত।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০ দলীয় জোটে কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ জোট থেকে বেরিয়ে যান। এরপর জোটে আর কোনো সমস্যা নেই। করোনার কারণে হয়তো দেখা হয় না; কিন্তু সবার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। জোটের ঐক্য অটুট আছে। এছাড়া এ মুহূর্তে আমরা দল নিয়ে বেশি ভাবছি।

২০ দলের অন্যতম শরিক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, জোটের এখন কোনো কার্যক্রম নেই। বিভিন্ন কারণে বিএনপির পক্ষ থেকে কিছু সমস্যা রয়েছে।

ফলে ২০ দলীয় ঐক্যজোট সক্রিয় হচ্ছে না। বিএনপি হলো একটি সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। তারা একটি আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে ২০ দলীয় জোট গঠন করেছিল।

এখানে অনেকগুলো দল আছে যাদের কিছু দুর্বলতা রয়েছে। কতদূর তাদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যাবে, কতদূর সফলতা আসবে এটা বলা খুব কঠিন।

আমি মনে করি, চালকের আসনে থাকা বিএনপিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা সঠিক ভূমিকা পালন করলে সরকারের পতন যে কোনো সময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরেক শরিক লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, জোটের ভেতরে বেশ কিছু দল আছে যাদের সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল, নেতৃত্বের অবস্থা খুবই খারাপ।

আমরাও বিএনপির সঙ্গে যেমন জোট করেছি, উনারাও সেভাবে জোটে আসছেন। এখন বিএনপি তাদের কেন নিয়েছে, কেন রাখছে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হবে বিএনপিকেই।

আমি মনে করি, ২০ দলীয় জোটকে যদি বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামে কাজে লাগায় সেক্ষেত্রে যারা আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে পারবে তাদের নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, গত বছরের জুলাইয়ে সর্বশেষ ২০ দলীয় জোটের একবার ভার্চুয়াল বৈঠক হয়।

বিএনপি ২০ দলীয় জোটের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী দল। তাদেরই ২০ দলীয় জোট চাঙা করার ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা জোটগত রাজনীতি চালু রাখার ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিয়েই অগ্রসর হতে হবে বলে আমি মনে করি।

১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোটকে সঙ্গে নিয়ে ‘চারদলীয় জোট’ গঠন করেছিল বিএনপি।

পরে এইচএম এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি বেরিয়ে গেলে নাজিউর রহমান মঞ্জুর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) জোটে থেকে যায়।

পরে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল চারদলীয় জোট কলেবরে বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ দলীয় জোটে। এরপর পরিধি দাঁড়ায় ২০ দলে।

তবে ২০ দলীয় জোট থেকে ইসলামী ঐক্যজোট, এনপিপি, ন্যাপ ও এনডিপির একাংশ বেরিয়ে যায়। আন্দালিব রহমান পার্থর দল বিজেপিও বেরিয়ে যায় জোট থেকে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ছোট ছোট দল নিয়ে জোট ভারি করলেও কোনো সফলতাই পায়নি প্রধান শরিক বিএনপি। আন্দোলনে অধিকাংশ শরিক দলের নেতাকর্মীদের পাওয়া যায়নি।

বরং জাতীয় নির্বাচনের আগে মনোনয়ন পেতে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। যা নিয়ে দলটি বিব্রত হয়েছে। অথচ নির্বাচনের পরে এখন আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।

যে কারণে এখন জোট নির্ভরতা কমিয়ে একলা চলো নীতিতে বিএনপি। জোটের সঙ্গে দলটির সম্পর্ক এখন অনেকটা কাগজে-কলমে।

বিএনপি-জামায়াত টানাপোড়েন : এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোভাব, দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাওয়াকে প্রাধান্যসহ নানা কারণে জামায়াতে ইসলামীকে ছাড়ার প্রসঙ্গ এসেছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে।

এ নিয়ে চলছে দুদলের মধ্যে টানাপোড়েন। সূত্র জানায়, হতাশা এবং বিপর্যস্ত পরিস্থিতি কাটিয়ে দল সামনে কীভাবে এগোতে পারে, সে ব্যাপারে সুপারিশ বা প্রস্তাব তৈরির জন্য স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

তিনি গত বছর একটি প্রতিবেদন দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পেশ করেন। সেই প্রতিবেদনে জামায়াতের সঙ্গে জোটগত সম্পর্ক না রাখার প্রস্তাব করে তার সপক্ষে কারণ এবং যুক্তিও তুলে ধরা হয়।

আর এ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই জামায়াত ইস্যুটি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামে। এখন সেই আলোচনাই সিদ্ধান্ত নেয়া পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে বিষয়টি আলোচনায় আসে গত বছরের শেষ দিকে।

দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ সদস্যই জামায়াতের সঙ্গে দলের জোটগত সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

শুধু দুজন সদস্য মত দিয়েছেন জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক বহাল রাখার পক্ষে। আর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনও এ ব্যাপারে তার মতামত দেননি।

জামায়াত নিয়ে এতদিন নীরব থাকলেও ফের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার মতামত দেয়ার

পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছেই যেতে হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

জামায়াত ছাড়া প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর