1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:২৫ অপরাহ্ন

আতঙ্কের নাম বাইক রেসিং

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

রাত ৯টা। চারদিকে কোলাহল। সড়কের দুই পাশে আড্ডা। থেমে থেমে চলছে যানবাহন। হঠাৎই উচ্চশব্দ। সবার কানে হাত। চার মিনিটে ১০ বার রাউন্ড দিল একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল। কখনও হেলেদুলে আবার কখনও স্টান্ট করে রেসের ভঙ্গিতে। সবার দৃষ্টি ওই বাইকারের দিকে। না, এটি কোনো সিনেমার শুটিং নয় কিংবা কোনো জরুরি প্রয়োজনে নয়। শুধু শখের বশেই তার এই শোডাউন। আর এতে চরম বিরক্ত ও আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। ভয়ে কারও মুখে টু শব্দ নেই। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, তবু থেমে নেই এই রেস খেলা। এমন বিপজ্জনক রেস প্রতিরোধে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আর ট্রাফিকের ওপর দায় চাপায় থানা পুলিশ।

এ চিত্র রাজধানীর আগারগাঁও এলাকার। দিনের বেলায় যেমন তেমন, সন্ধ্যা হলেই শুরু হয় বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল রেস। কখনও মানুষ আবার কখনও কুকুরকে পিষে দিয়ে ভয়ঙ্কর উন্মাদনায় মেতে ওঠে উঠতি বয়সি একদল কিশোর। সম্প্রতি আগারগাঁও এলাকাটি আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রশস্ত সড়কে এলইডির আলোর ঝলকানি সবার নজর কেড়েছে। বিকাল হলে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে সময় কাটাতে আসে। এদের মধ্যে নারী-শিশু ও বিদেশি পর্যটকও থাকে।

কিন্তু সন্ধ্যা হলেই সঙ্ঘবদ্ধ একদল কিশোর মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকাটি দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করে, চলে গভীর রাত পর্যন্ত। বেপরোয়া গতি ও উচ্চশব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে আশপাশের সবাই। এ ছাড়া এলাকাটি টিকটক ও লাইকি গলি হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে ইতোমধ্যে। বিকাল হলেই বেড়ে যায় তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা।

নির্বাচন কমিশনের পেছন থেকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের সামনে থেকে আগারগাঁও তালতলা সড়ক, আইসিটি ভবন থেকে পর্যটন কেন্দ্রের সড়কসহ প্রায় প্রতিটি সড়কেই চলে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার। প্রচণ্ড শব্দদূষণের কারণে অস্বস্তিতে পরে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এমনিতেই এখানে আসা রোগীদের ব্রেনে সমস্যা। তার ওপর বাইকের এই শব্দে রোগীদের আরও ক্ষতি হচ্ছে। কিছু বাইকের শব্দ সরাসরি ব্রেনে আঘাত করে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় আগারগাঁও পিকেএসএফ ভবনের সামনের সড়কে ১৮ থেকে ২০ বছরের দুই যুবক দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল নিয়ে উল্লাস করে ছোটে। এ সময় সামনে পড়ে একটি কুকুর। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায় কুকুরটি। বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ওই দুই যুবকও।

এর পরের দিন রাত সাড়ে ৮টা। ডাক ভবনের সামনে মুখোমুখি সংর্ঘষ হয় বেপরোয়া গতির দুটি মোটরসাইকেলের। একটির পেছনে ছিলেন এক নারী আরোহী। অপরটিতে ছিল দুই যুবক ও চার বছরের একটি মেয়েশিশু। উভয় মোটরসাইকেলের সবাই ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

বাইক দুটির সামনের অংশ ভেঙে যায়। এরপর শুরু হয় দুইপক্ষের ঝগড়া। এ সময় শেরেবাংলা নগর থানার একটি টহল টিম ঘটনাস্থলে এসে একজনকে জরিমানা করে মিটমাট করে দেয়।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টা। এক যুবক একেবারে মাতালের মতো নির্বাচন কমিশন থেকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল পর্যন্ত মোটরসাইকেল নিয়ে চার মিনিটে অন্তত দশবার চক্কর দেয়। এ সময় মোটরসাইকেল ছেড়ে পেছনের চাকায় ভর দিয়ে সামনের চাকা স্টান করে চালাতে থাকে। প্রচণ্ড শব্দে বিরক্ত হয় ঘুরতে আসা মানুষ ও স্থানীয় দোকানিরা।

কিছুদিন আগে গভীর রাতে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি প্রাইভেট কার ফুটপাথে তুলে দিলে বিকট শব্দ হয়। এতে আশপাশে থাকা লোকজন এসে ভেতরে থাকা ৫ যুবককে উদ্ধার করে। ব্যাপক ক্ষতি হয় গাড়িটির। খবর পেয়ে পুলিশের টিম আসে ঘটনাস্থলে। প্রাইভেটকারটির চালক পুলিশের গাড়ি দেখে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাড়া করে পাসপোর্ট অফিসের পাশের রাস্তায় গিয়ে ধরে ফেলে গাড়িটি। এ সময় গাড়িতে থাকা ৫ যুবককে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। তাদের গাড়ি তল্লাশি করে বেশকিছু বিয়ার ও গাঁজা উদ্ধার করে। গাড়িসহ আটককৃত সবাইকে শেরেবাংলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘুরতে আসা একজন বলেন, এখানে সংঘবদ্ধভাবে কিছু কিশোর বেপরোয়া গতিতে বাইক রেস করে। সব সময় আতঙ্কে থাকি, কখন কী হয়ে যায়। আমার তিন বছরের বাচ্চা একবার যদি হাত ছেড়ে দৌড় দিয়ে বাইকের সামনে চলে যায় তাহলে আর বেঁচে ফিরবে না। শুধু বাচ্চা নয়, নারী ও বয়স্করাও ঝুঁকিতে রয়েছে। একবার বেখেয়ালি হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এখানে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো উচিত।

ডাক ভবনের সামনের এক চা দোকানি বলেন, ‘এখানে ১০ বছর ধরে চায়ের দোকান করছি। প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনার সাক্ষী আমি। দ্রুত গতিতে মোড় ঘুরতে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছে। মোটরসাইকেলের শব্দে এখন আমি কানে কম শুনি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। বাসায় গেলেও মনে হয় এখনও শব্দ কানে বাজে, ব্রেনে আঘাত লাগে। কাউকে কিছু বলতেও পারি না। কারণ যারা বাইক চালায় তারা সবাই প্রভাবশালীর সন্তান। পুলিশই তাদের কিছু বলতে পারে না আর আমি তো আদার বেপারি।

নটর ডেম কলেজে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাহাত (ছদ্মনাম) বলেন, গত তিন মাস ধরে শখের বশে বাইক রেসিং করছি, আমার একটি ফেসবুক গ্রুপ আছে সেখানে নিয়মিত ভিডিও আপ করি। আমি নিজে নিজেই শিখেছি। কোথাও প্রশিক্ষণ নিইনি। এটি সাহস ও কৌশলের বিষয়। এ পর্যন্ত অনেকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাইক রিপেয়ারিংয়ে ৯০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. ফোরকান হোসেন বলেন, প্রতিদিন সকালে এখানে হাজার হাজার লোক হাঁটতে আসে, বিকালে ঘুরতে আসে। আমরাও চাই মানুষ এখানে বিনোদন করুক। কিন্তু উঠতি বয়সি ছেলেরা এখানে মেয়েদের পেছনে বসিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাদের মাঝেমধ্যে ধরে নিয়ে যায়, তারপরও কিন্তু থামছে না।

তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মাহমুদ খান বলেন, আমরা অভিযান চালাই, তারা যখন পুলিশের গাড়ি দেখে তখন রাস্তা ঘুরে পালিয়ে যায়। আমাদের টহল টিম সার্বক্ষণিক একটা জায়গায় রাখার সুযোগ নেই। আর এটা কিন্তু থানাকেন্দ্রিক কোনো ক্রাইম নয়, রোডকেন্দ্রিক। এখানে ট্রাফিকের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হয়। বাইকের ওপরে একটা মামলা দিলে যদি একটু শোধরায়। আমরা ট্রাফিকের সঙ্গে কথা বলে একসঙ্গে অভিযান চালাব।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর