1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:২৫ অপরাহ্ন

আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতি

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপে বিএনপির না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি রাজনীতিতে সংঘাতের নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। দলটি স্পষ্টতই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ফিরে গেছে। রাজপথে কর্মসূচি বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়াচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি মীমাংসিত। এখানে বদলের আর কোনো জায়গা নেই।

দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি স্পষ্টতই নয় বছর আগে ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল পরবর্তী অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে।

সে সময় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কথার লড়াইয়ের পর সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ। এতে ঝরে বহু প্রাণ, সম্পদহানি ছিল ব্যাপক।

দুই পক্ষই আবার অনড় অবস্থান নেয়ার ইঙ্গিত দেয়ার পর প্রায় এক দশক আগের অচলাবস্থা ফিরে আসছে কি-না, এ নিয়ে আলোচনা এরই মধ্যে শুরু হয়ে উঠেছে।

বিষয়টি কেবল কথার লড়াইয়ে সীমিত নয়। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষের পর সিরাজগঞ্জে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘাতে জড়ানোর ছবি এসেছে গণমাধ্যমে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ বলেন, ‘এবারও বিএনপি আন্দোলনে গেলে দেশে কিছু তো অস্থিতিশীল হবেই।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সংলাপে যাচ্ছে না। এটা দলের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে না। বরং সংলাপে গিয়ে গঠনমূলক প্রস্তাব রাখলে সেটা তাদের জন্য আরও ভালো ফল নিয়ে আসতো। পরে তাদের দাবি না মানা হলে তারা বলতে পারতো, তারা বলার পরও তাদের দাবি মানা হয়নি।’

তবে দেড় দশক ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির পক্ষে ২০১৩ থেকে ২০১৪ এর শুরু আর ২০১৫ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি সহজ হবে না বলে মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আন্দোলন হবে আন্দোলনের মতো। আন্দোলন হবে সত্যের জন্য, মুক্তির জন্য।’

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আবার ২০১৩ সাল হবে কি না, জানি না। কেউ তো কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কিছু করে না। তবে দেশটা এখন একজনের হাতের ইশারায় নাচছে। ডিজিটালি মৃত্যু হচ্ছে। মানুষ পঙ্গু হয়ে আছে। সেই পঙ্গুত্ব থেকে উতরাতে হলে কঠোর আন্দোলনে যেতেই হবে।’

আন্দোলন হলে আবার সহিংসতা, মানুষের প্রাণহানি, সম্পদ নষ্ট হবে, এই বিষয়টি তুলে ধরলে গয়েশ্বর বলেন, ‘পাকিস্তানিদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে আমরা যুদ্ধ করিনি? স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করা হয়নি?’

বিএনপির এই হুমকির জবাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘আন্দোলন বিরোধীদল করতেই পারে। কিন্তু আন্দোলনের নামে কেউ যদি গান পাউডার দিয়ে বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়, বাসে অন্তঃসত্ত্বাকে পুড়িয়ে মারে, সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারে, তাদের দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিহত করবে।

‘আওয়ামী লীগ জনগণের দল। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য আওয়ামী লীগ যা করণীয় তাই করবে।’

ক্ষমতাসীন দলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মনে হচ্ছে বিএনপি ২০১৩-১৪ সালের মত দেশে অগ্নিসন্ত্রাস করতে পারে। যদি তারা এমনটা করতে যায়, তাহলে আমরা তাদের রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করব।’

২০১১-১২ সালের মতো বাগ্‌যুদ্ধ

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের বাকি আর দুই বছরের মতো। এরই মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্টতই ঘোষণা দিয়েছেন ‘ফয়সালা হবে রাজপথে।’

দলটির এখন রাজপথে তাদের প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরছে দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া। তবে এই দাবিতে জেলায় জেলায় কর্মসূচিতে লোক সমাগমের আরেক উদ্দেশ্যও আছে।

মির্জা ফখরুল আরেক দিন বলেছেন, এই কর্মসূচি তাদের ‘ওয়ার্ম-আপ’ তথা গা গরম। এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘আপনারা দেখেছেন খেলার আগে ফুটবলাররা ওয়ার্ম-আপ করে। ঠিক তেমনি সারা দেশে আন্দোলনের ওয়ার্ম-আপ শুরু হয়েছে।’

ওদিকে এর জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, বিএনপি যতই ওয়ার্ম-আপ করুক, কোনো কাজ হবে না। তাদের ভোটে আসতে হবে দলীয় সরকারের অধীনেই।

সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেছেন, ‘সরকার পতন, আন্দোলন এসব মুখরোচক শব্দবৃষ্টি করে কোনো লাভ নেই। নির্বাচনে জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যান আর আন্দোলনে চরম ব্যর্থতাই বিএনপির একমাত্র প্রাপ্তি।’

বিএনপি দুই দফা আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ হয়ে গত সংসদ নির্বাচনে আসার বিষয়টিই বারবার ইঙ্গিত করছেন সরকারদলীয় নেতারা।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘গাধা যেমন পানি ঘোলা করে খায়, বিএনপিও পানি ঘোলা করে নির্বাচনে আসবে।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কেউ নির্বাচনে না এলে মানুষ বসে থাকবে না। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দুই বছর কথার এমন লড়াই দেখা গিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে বিশেষভাবে উৎসাহী বিএনপি

বিএনপির নেতা ও মাঠের কর্মীদের তথ্য বলছে, দলটির এই সক্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে একটি অনুসঙ্গ হচ্ছে বাংলাদেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি পদক্ষেপ। বাহিনী হিসেবে র‌্যাব ও এর ছয় কর্মকর্তা ও পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিএনপি বিশেষভাবে আগ্রহী হয়েছে।

দলটি মনে করে, তারা ২০১৩ ও ২০১৫ সালে যে আন্দোলন করেছিল, সে সময় সরকার যে কঠোর ভূমিকা নিয়েছিল, এই পরিস্থিতিতে এসে তারা তা পারবে না।

২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এবং পরে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে টানা কয়েক মাস বিএনপির আন্দোলনে সহিংসতা ছিল ব্যাপক। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাও ছিল কঠোর।

বিএনপির অভিযোগ, সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাদের অনেক নেতা-কর্মীকে তুলে নেয়া হয়েছে, যাদের সিংহভাগই পরে আর ফেরেনি, অনেককে গুলি করা হয়েছে। এতে কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নেতা-কর্মীর সংখ্যা ক্রমেই কমেছে। এর পর্যায়ে ২০১৫ সালে বিএনপির ডাকা অবরোধ কর্মসূচি অকার্যকর হয়ে যায়। তখন থেকেই বড় ধরনের কোনো কর্মসূচিতে আর যাচ্ছে না দলটি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পর নেতারা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাঁধন এবার কিছুটা হলেও আলগা থাকবে। আর এই ধারণায় সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণও বেশি দেখা যাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২৪ ডিসেম্বর গাজীপুরে দলটির সমাবেশে বলেছেন, ‘র‌্যাবের সাত কর্মকর্তাকে আমেরিকা ভিসা বাতিল করে দিয়েছে। এই সরকারের পতন ঘণ্টা বেজে গেছে।’

অচলাবস্থা শুরু যেভাবে

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে বিএনপি সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংযোজন করে। সে সময় বিধান করে, সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হবেন এই সরকারের প্রধান।

দুটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গঠন হয় এভাবে। ২০০৬ সালে তৃতীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, এই বিষয়টি নিয়ে বাঁধে গোল।

সে সময়কার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বিচারপতিদের অবসরের বয়স সীমা দুই বছর বাড়ানোর পর এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন কে এম হাসান। তবে তাকে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না আওয়ামী লীগ। এর কারণ, হাসান তার রাজনৈতিক জীবনে ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক।

এ নিয়ে ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে ২০০২ সালের ২২ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যায় বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মতই এই নির্বাচনকে প্রতিহতের ডাক দিয়ে রাজপথে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ ও সমমনারা।

এ পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১১ জানুয়ারি জারি হয় জরুরি অবস্থা। দুই বছর পর জাতীয় নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে উচ্চ আদালতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিটের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

আবেদনটি করা হয়েছিল বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ বলে ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারী পক্ষ আপিল বিভাগে গিয়েছিল।

আইনজীবী এম সলিম উল্লাহসহ কয়েকজন এই আবেদনটি করেন। সলিমুল্লাহর মৃত্যু হলে আব্দুল মান্নান খান নামের আরেকজন আইনজীবী রিট আবেদনটিকে এগিয়ে নেন।

২০১১ সালের ১০ মে আসে আপিল বিভাগের রায়। এই সরকার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা বাতিল করে দেয়া হয়। পরে জাতীয় নির্বাচন ৩০ জুন এই সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করে জাতীয় সংসদ। সেদিনেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী থাকবে।

২০১২ সালে কর্মসূচি বাড়িয়ে পরে সংঘাত

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের পর ২০১২ সাল থেকে রাজপথে কর্মসূচি বাড়াতে শুরু করে বিএনপি ও তার জোট ২০ দল। ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী এক সপ্তাহ চলে সংঘাত। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানোর দাবি ও নির্বাচন বানচালে সহিংস আন্দোলনে শত শত মানুষ পেট্রল বোমায় প্রাণ হারায়, হাজার হাজার মানুষ হয়েছে আহত। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতি হারায়, রপ্তানিতে প্রভাব পড়ার শঙ্কা জাগে।

ভোট শেষে বিএনপির জোট কর্মসূচি স্থগিত করলেও ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ওই নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন আবার সহিংস অবরোধে ফিরে যায়। এর পর এক মাসের বেশি সময় চলে সংঘাত-সহিংসতা। আবার বহু প্রাণ জ্বলে যায় পেট্রল বোমায়।

তবে সরকার অবস্থান থেকে সরেনি।

পরে আসে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সে সময় বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বদলে নিয়ে আসে ‘সহায়ক সরকার’ এর দাবি। তবে ওই সরকারের রূপরেখা কেমন হবে, সেটি দিতে পারেনি দলটি।

পরে আওয়ামী লীগের অধীনেই ভোটে আসে বিএনপি। তখন নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দুই পক্ষের বিবাদের আপাত অবসান হয়েছে বলে ধরা হলেও ভোট শেষে বিএনপি আবার ‘দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়’ অবস্থানে ফিরে যায়।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর