1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

আরও সুযোগ-সুবিধা চান নির্বাচন কমিশনাররা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২১
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

সরকারি বিলাশবহুল বাড়ি ও আজীবন পেনশনের সুবিধাসহ আরও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চান নির্বাচন কমিশনাররা। এ লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের বেতন-ভাতাদি, পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসংক্রান্ত আইনের অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি মাসে এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানে হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, বর্তমান কমিশনের মেয়াদ আর মাত্র ১ বছরের মতো রয়েছে। এর আগে এ আইন যাতে পাস হয় এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা যায়, এজন্য আইনটি পাস করে যেতে চায় কমিশন। গত ৩ জানুয়ারি কমিশনের ৭৪তম সভায় আইনের খসড়াটি তোলা হয়। পরে সভা শেষে ইসির সিনিয়র সচিব

মো. আলমগীর বলেন, বিষয়টি নিয়ে কমিশনে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বিস্তারিত আমি বলতে পারব না।

এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব মো. আবুল কাসেম বলেন, আইনটি আনুমোদন দেওয়া আছে। আরও কিছু সংশোধন থাকলে তা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সে ক্ষেত্রে কমিশন যেদিন বলবে, সেদিন পাঠাব, আমরা প্রস্তুত আছি।

সুত্র জানায়, নতুন আইনের ১৫(৩) ধারায় আবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর প্রাধিকার অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনারদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার বিধান রাখা হয়েছে। ১৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, গার্ড শেডসহ আসবাবপত্রে সজ্জিত বাসা পাবেন সিইসি ও নির্বাচন কমিশনাররা। এ বাসার গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ বিল ইসি সচিবালয় বহন করবে। বাড়ি না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনাররা মাসে ৫০ হাজার ৬০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। এর বাইরেও ধারা ১১ অনুযায়ী সিইসি ও নির্বাচন কমিশনাররা মাসে ১৬ হাজার টাকা নিরাপত্তা ভাতাও পাবেন।

জানা যায়, বর্তমানে সিইসি কেএম নূরুল হুদা মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে থাকেন। বাকি চার কমিশনার সরকারি বাসভবনে নয়, নিজ বাসায় থাকেন। বাসাগুলোয় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিয়ে আসছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এবার সেটি আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আইনের ১৬(৫) ধারায় বলা হয়েছে, ‘দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার সরকার কর্তৃক প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার জন্য নির্ধারিত সময় জারিকৃত আদেশ অনুযায়ী টিএ ও ডিএসহ সব ভাতা ও সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।

এছাড়া ১৬(৬) ধারায় বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর এলাকার বাইরে সরকারি ভ্রমণে গাড়িতে জাতীয় পতাকা ও নির্বাচন কমিশনের পতাকা ব্যবহার করতে পারবেন। বর্তমানে কমিশনাররা গাড়িতে শুধু জাতীয় পতাকা ব্যবহার করেন। এ আইন পাস হলে তারা দুটি পতাকা ব্যবহার করতে পারবেন। বর্তমানে কমিশনাররা পাচক ভাতা পান না। খসড়া আইনে পাচক ভাতা হিসেবে মাসে ১৬ হাজার টাকা ধরা হয়েছে।

বিভিন্ন পেশা থেকে অবসর নেওয়া কর্মকর্তাদের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। যে পেশা থেকে অবসর নেন, সেখান থেকে তারা পেনশন পান। কিন্তু খসড়া আইনে ৩ বছর নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করলে আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগের বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ৫ বছর দায়িত্ব পালন করলে ৫/৫ হারে সর্বশেষ উত্তোলিত বেতনের শতভাগ, ৪ বছর দায়িত্ব পালন করলে ৪/৫ হারে ৮০ ভাগ এবং ৩ বছর পূর্তিতে ৩/৫ হারে ৬০ ভাগ মাসিক পেনশন পাবেন।

যদিও প্রাথমিক খসড়ায় ৬ মাস দায়িত্ব পালন করলেই পেনশন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেটি থেকে সরে ৩ বছরের বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনাররা মারা গেলে তাদের স্ত্রী বা স্বামী আমৃত্যু এ সুযোগ পাবেন। তাদের অবর্তমানে ছেলে ২৫ বছর পর্যন্ত সেই ভাতা পাবেন। খসড়া আইনে প্রতি মাসে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বিশেষ ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, উৎসব ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, চিকিৎসা সুবিধাসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে এ আইনে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শপথগ্রহণ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, মাহবুব তালুকদার, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদত হোসেন চৌধুরী ও বেগম কবিতা খানম। সে হিসেবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর আগে সব প্রক্রিয়া শেষ করে আইনটি পাস করতে চান বর্তমান কমিশনাররা।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর