1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন

আ’লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১০১ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা। ১১ মাস পরে এই সভা। আওয়ামী লীগ সভাপতি,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রস্তুত করা হয়েছে আওয়ামী লীগের আট বিভাগের সাংগঠনিক রিপোর্ট। সভায় এ সব রিপোর্টে জেলা, উপজেলাসহ তৃণমূল পর্যায়ে দলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন সাংগঠনিক সম্পাদক। এতে তৃণমূল পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ কাইজা-বিবাদের পরিসংখ্যানও রয়েছে। সেই সঙ্গে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী নেতৃবৃন্দের নামও তুলে ধরা হয়েছে।
অবশ্য এই রিপোর্টগুলো নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার সম্ভাবনা কম। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা বলেছেন, দায়িত্বপ্র্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা বৈঠকে ঢাকা,চট্টগ্রাম,খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক রিপোর্ট উপস্থাপন করবেন। এ নিয়ে বিশদ আলোচনা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে বৈঠকে চলতি বছর অনুষ্ঠেয় কয়েকটি জেলা পরিষদ,উপজেলা পরিষদ এবং প্রায় চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা বাছাইয়ের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। সেসঙ্গে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগে সৃষ্ট বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।
২০২৩ সালের শেষের দিকে কিংবা ২০২৪ সালের শুরুর দিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে ২০২২ সালের ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের জাতীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরেই বিশেষ কাউন্সিল আয়োজন নিয়ে দলের ভেতরে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। নেতাদের কেউ কেউ আজকের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনার কথা বললেও অনেকেই আবার তা উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ২০২২ সালের মধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক জেলাসহ উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।
অবশ্য তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলন প্রক্রিয়া প্রায় গুছিয়ে এনেছিলেন দলের চার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি,ড.হাছান মাহমুদ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আট সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এস এম কামাল হোসেন,মির্জা আজম, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও সাখাওয়াত হোসেন শফিক। কয়েকটি জেলা ও উপজেলা সম্মেলনের দিনক্ষণও ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সেই সব সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসায় আবারও তৃণমূল সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুি নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে সাংগঠনিক টিম গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জানা গেছে,এই টিমের সদস্যরাই তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন।
আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড শাখা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। এর মধ্যে জেলা পর্যায়ে রয়েছে-রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা,মানিকগঞ্জ,টাঙ্গাইল,গোপালগঞ্জ,নরসিংদী,কিশোরগঞ্জ,ফরিদপুর, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ মহানগর,গাজীপুর মহানগর,নারায়ণগঞ্জ,গাজীপুর, চট্টগ্রাম মহানগর, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর,চাঁদপুর,কক্সবাজার,কুমিল্লা দক্ষিণ,কুমিল্লা মহানগর, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, মেহেরপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ,চুয়াডাঙ্গা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বরগুনা, ভোলা, পিরোজপুর, বরিশাল, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও ময়মনসিংহ মহানগর।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় ১৫ বছর আগে। ২০০৬ সালের ২৬ জুন এই শাখার সম্মেলন হয়েছিল। ২৫ বছর আগে সম্মেলন হয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার। ১৯৯৬ সালে এ উপজেলা কমিটির সম্মেলন হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে প্রায় ২৫ বছর ধরে চলছে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম। এর মধ্যে আহ্বায়ক কমিটির প্রধানসহ ২৯ জন সদস্যই মারা গেছেন। নীলফামারীর ডিমলা ও কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় দশক আগে। তৃণমূল পর্যায়ের কমিটিগুলোর অনেক নেতাই মারা গেছেন।
বেশ কয়েকটি জেলায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা এসেছে। দ্বন্দ্ব-বিবাদ লেগেই আছে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মাগুরা, সাতক্ষীরা,নরসিংদী,চট্টগ্রাম মহানগর,কক্সবাজার,সিলেটে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সিরাজগঞ্জ,নরসিংদীতে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকরা দায়িত্ব পালন করছেন। এই জেলাগুলোতে আগেভাগে সম্মেলন করার প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের সম্মেলন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় আজকের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ বৈঠকের ভিন্নমাত্রা রয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এ বৈঠক। সর্বশেষ ২০২০ সালের ৩ অক্টোবর কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক হয়েছিল। আজকের বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য ৫৩ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা গত মঙ্গলবার করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন। অপেক্ষাকৃত বয়স্ক,অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং অনেকের স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় এনে কেন্দ্রীয় অন্য নেতাদের এ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর