1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২১ অপরাহ্ন

আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ৭ চোর ইডি

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ৭ জন চোর ইডি। যুবকের ৩ লাখ গ্রাহকের ২৫৮৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে নির্বাহী পরিচালক হোসেন আল মাসুমসহ ৭ কর্মকর্তা। বিপুল অঙ্কের এই অর্থ অবৈধ ব্যাংকিং,মিথ্যা প্লট ব্যবসাসহ নানা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার সাত বছর পর সিআইডির তদন্তে এসব বেরিয়ে এসেছে। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন-যুবকের নির্বাহী পরিচালক মো: মনির উদ্দীন,সৈয়দ রশিদুল হুদা চৌধুরী,মিসেস রহিমা খাতুন,মিসেস তাহমিনা খাতুন,মিসেস মাহবুবা বেগম মীনা ও উদ্যোক্তা হাবিবুল্লাহ। সম্প্রতি এদের বিরুদ্ধে সিআইডি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুবকের ক্ষতিগ্রস্থ জনকল্যাণ সোসাইটি।
যুবকের ক্ষতিগ্রস্থ জনকল্যাণ সোসাইটির সভাপতি মাহমুদ হোসেন মুকুল বলেন,সরকার গঠিত রফিকুল ইসলাম কমিশনের রিপোর্টে যুবকের টাকা আত্মসাতের জন্য ৪০ জনকে দায়ী করা হয়। কিন্তু সিআইডির চার্জশিটে ৭ জনকে দায়ী করা হয়েছে। বাকি ৩৩ জনকে এই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সোসাইটির ঢাকা জেলার সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন,তদন্ত শেষ করতে সাত বছর সময় পেরিয়ে গেছে। এরই মধ্যে যুবকের অনেক সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন, কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং আত্মগোপনে আছেন। এদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অভিযুক্তদের ব্যাপারে সিআইডির চার্জশিটে বলা হয়, যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি (যুবক) সামাজিক কার্যক্রমের লক্ষ্যে দি সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ১৯৮০-র ধারা ১-এর অধীনে গঠিত একটি সমিতি। এটি কোম্পানি আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী রেজিস্ট্রার অব জয়েন স্টক অ্যান্ড ফার্মস (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ধীন) থেকে রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করে। এসব আসামি যুবকের সদস্য। টাকা আত্মসাৎকারী আসামিরা দুষ্ট প্রকৃতির লোক, এরা ঠক,প্রতারক, পরধন লোভী, সরল বিশ্বাস ভঙ্গকারী, আমানতের খেয়ানত এবং স্বাধীন দেশের উন্নয়ন ব্যাহতকারী। এরা পরস্পর যোগসাজশে সারা দেশে যুবক গ্রুপ এবং যুবকের নামে ভুয়া ও মিথ্যা প্রকল্প গ্রহণ করে। এরপর জেনেশুনে ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে সহজ সরল নিরীহ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করতে থাকে। আসামিদের চক্রান্তমূলক প্রস্তাবে সম্মত হয়ে যুবকের প্রতারিত গ্রাহকরা তাদের সঙ্গে লিখিত চুক্তি করে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজস্ব প্যাডে ছাপানো ফরমের মাধ্যমে, নিজস্ব পাসবই, মানি রসিদ বা মাসিক সঞ্চয়,পেনশন স্কিম, মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প,মুনাফা প্রকল্প, স্বল্পমেয়াদি ঋণ,হাউজিং,বোনাস মেয়াদি ঋণ, বিশেষ সঞ্চয় কার্যক্রম,ভিক্টরি হাউজিং লিমিটেডে বিনিয়োগ করেছেন। এসব বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা না দিয়ে পুরো টাকা অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করেছে। এতে গ্রাহকরা নিঃস্ব, ক্ষতিগ্রস্থ ও প্রতারিত হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন স্থানে হাউজিংয়ের মাধ্যমে প্লট দেওয়ার নামে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে চুক্তি করেছে। কিন্তু অদ্যাবধি তাদের প্লট দেওয়া হয়নি। এভাবে টাকা-পয়সা হাতিয়ে বারবার অফিস বদল করেছে যুবক। চরমভাবে প্রতারণার মাধ্যমে এই টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এসব আসামি তাদের প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রচলিত আইন ও নিয়ম লংঘন করে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। প্রলোভন দেখিয়ে নারী ও পুরুষদের চাকরি দেন এবং তাদের আমানত সংগ্রহের কাজে লাগান। অথচ এসব কর্মীর আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কোনো উচ্চ ধারণা ছিল না। এদের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে কোটি টাকা আদায় করে তারা আত্মসাৎ করেন। গ্রাহকরা হচ্ছে দরিদ্র ও নিুআয়ের মানুষ। অধিক মুনাফার লোভে তাদের সঞ্চয়কৃত অর্থ এসব আসামির হাতে তুলে দিয়েছেন। বর্তমানে অনেক সদস্য সব হারিয়ে ফেলেছেন। কেউ কেউ নিজ বাড়ি-ঘর বিক্রি করে এলাকার দেনা পাওনা শোধ করেছেন।এর আগে যুবকের সমস্যা নিষ্পত্তি করতে ২০১০ সালের ২৬ জানুয়ারি সাবেক গভর্নর ড.ফরাস উদ্দিনকে চেয়ারম্যান করে কমিশন গঠন করা হয়। এছাড়া রফিকুল ইসলামকে চেয়ারম্যান করে ২০১১ সালের ৪ মে দ্বিতীয় একটি কমিশন গঠন করে সরকার। পাশাপাশি ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কমিশন ও কমিটি প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি।
ড.ফরাস উদ্দিন তার রিপোর্টে বলেছিলেন, যুবকের মোট গ্রাহক ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩শ জন। যুবকের কাছে এসব গ্রাহকের পাওনা হচ্ছে ২ হাজার ১৪৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তবে যুবকের সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকের দায়দেনা পরিশোধ সম্ভব। কাজী রফিকুল ইসলামের কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে ২৫৮৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে যুবক। ৩ লাখ ৩৭শ গ্রাহকের কাছ থেকে এ টাকা নেওয়া হয়। এ অর্থ গ্রাহককে ফেরত দিতে ও সব স্থাবর,অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য যুবকে প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ করে কমিশন। এছাড়া যুবকের নিবন্ধন বাতিল, সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য আইন পরিবর্তন,গ্রাহকদের আইনি সহায়তার জন্য লিগ্যাল এইড গঠন ও দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয় রিপোর্টে। জানতে চাইলে যুবকের ক্ষতিগ্রস্থ জনকল্যাণ সোসাইটির ঢাকা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড.হেরেন পারভিন জানান,আদালতে বিচারের পাশাপাশি সরকার একজন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ৩ লাখ গ্রাহকের পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন বলে আমি আশা করছি। কারণ যুবকের সারা দেশে ৬ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের পাওনা নিয়ে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ক্ষতিগ্রস্থ জনকল্যাণ সোসাইটির হিসাবে দেশব্যাপী যুবকের ২২৬৮ একর সম্পত্তি আছে। বেনামে রয়েছে আরও এক হাজার একর। এর মধ্যে ৩৫টি জেলায় ১৮টি বাড়ি, ১০টি প্রকল্প ও ৭১টি খন্ড জমি আছে। জমির বাজার মূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। যা বিক্রি করলে গ্রাহকদের পাওনার চেয়ে বেশি হবে।সুত্র-যুগান্তর

 

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর