1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন

ইউনিয়ন ব্যাংকের ১৯ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি ধামাচাপার চেষ্টা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১২১ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে দেশের চতুর্থ প্রজন্মের ইউনিয়ন ব্যাংকের কার্যক্রম। ব্যাংকটির ভল্ট থেকে গত রবিবার উধাও হয়ে যায় ১৯ কোটি টাকা। কীভাবে উধাও হলো এ টাকা, গেল কোথায়? এ নিয়ে ব্যাংকপাড়া তোলপাড়। অবশেষে ঘটনার ৪ দিন পর জানানো হলো- একজন ভিভিআইপি গ্রাহককে এই টাকা দিয়েছে ব্যাংকটি। কে সেই ভিভিআইপি- তা অবশ্য জানায়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বরং নানাভাবে এই কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। গ্রাহক-ব্যাংক সম্পর্কে এমন লেনদেন হয় দাবি করলেও ঘটনার জেরে ইউনিয়ন ব্যাংক গুলশান শাখার তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকিং খাতের অভিজ্ঞরা বলছেন- ব্যাংকিং রীতিনীতি না মেনেই ১৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। বিষয়টিকে এই খাতের জন্য মন্দ নজির হিসেবেও দেখছেন তারা। এছাড়া প্রশ্ন উঠেছে, ‘গ্রাহক-ব্যাংক এমন লেনদেন হয়েই থাকে’-ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এ দাবি যদি ঠিক হয় তাহলে তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হলো কেন? আর যদি অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে নিচের স্তরের তিন কর্মকর্তার ঘাড়ে দায় চাপিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়া কেন? এত বড় অঙ্কের টাকার লেনদেন নিশ্চয়ই ওপরের স্তরের সিদ্ধান্তে হয়েছে। নিদেনপক্ষে স্থানীয় শাখা ব্যবস্থাপকের অজান্তে এমনটি হওয়ার কথাই নয়। তার বিরুদ্ধেও ন্যূনতম ব্যবস্থা নেয় হয়নি কেন? অবশ্য ইউনিয়ন ব্যাংকের এই কেলেঙ্কারির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছেন নীতিনির্ধারণী মহল। এ ঘটনায় যথাযথ নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে ২০০৩ সালে তৎকালীন ওরিয়েন্টাল ব্যাংক থেকে ৫৭৪ কোটি টাকা হাওয়া ভবনের টেলিফোনে কোনোরকম চেক না লিখেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ ঘটনার কারণে সেখানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এক বছরের জেল খাটেন। চলতি বছরের ১৭ জুন ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে পৌনে ৪ কোটি টাকার হিসাবে গরমিল পাওয়া যায়। পরে জানা যায়, এ টাকা সরিয়ে নেন ওই ব্যাংকেরই একজন কর্মকর্তা। ওই ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শাখাটির দুই কর্মকর্তাকে পুলিশ হেফাজতে দেয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এছাড়া কয়েক মাস আগে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে ব্যাংকটির একজন আইটি অফিসার ১ হাজার ৩৬৩টি লেনদেনের মাধ্যমে ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। ঘটনাটি ব্যাংকের অডিটে ধরা পড়ে। জানা গেছে, ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখার ভল্ট থেকে ১৯ কোটি টাকা উধাও হয়েছে বলে গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল জানতে পারে। তবে সব মহলে জানাজানি হয় বৃহস্পতিবার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং পরিদর্শন বিভাগ-৭-এর এক যুগ্ম পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখা পরিদর্শনে আসে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শুরুতেই পরিদর্শক দল ভল্ট পরিদর্শন করে। কাগজে-কলমে শাখার ভল্টে ৩১ কোটি টাকা দেখানো হলেও সেখানে ১২ কোটি টাকা পায় পরিদর্শক দল। ব্যাংকটি থেকে এর কোনো সদুত্তরও পায়নি তারা।
তবে বৃহস্পতিবার গুলশানে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে অতি?রিক্ত ব্যবস্থাপনা প?রিচালক (ডিএমডি) হাসান ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংকিং আওয়ারের পর একজন ভিভিআইপি গ্রাহককে ওই টাকা দেয়া হয়েছিল। ব্যাংকিং রুলস ভঙ্গ হলেও এমন ঘটনা নতুন নয়। গ্রাহক-ব্যাংক সম্পর্কে এমন লেনদেন হয়। তবে কে এই ভিভিআইপি গ্রাহক এবং তিনি প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়ে এ টাকা নিয়েছেন কিনা, এ বিষয়ে কিছু জানাননি হাসান ইকবাল। এমনকি এ বিষয়টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম মোকাম্মেল হক চৌধুরী জানতেন না বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে ওই ব্র্যাঞ্চের সেকেন্ড অফিসার, ক্যাশ ইনচার্জ ও ক্যাশের আরেক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একজন শাখা ব্যবস্থাপকের দায় থাকলেও অজ্ঞাত কারণে ওই ব্র্যাঞ্চের শাখা ব্যবস্থাপক রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান ব্যাংকের এমডি হাসান ইকবাল। তিনি বলেন, ‘ঘটনায় ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখার তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলের উপস্থিতিতেই ১৯ কোটি টাকার হিসাব সমন্বয় করা হয়।’ এ বিষয়ে কোনো মামলা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের লেনদেন অনেক সময়ই হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এটা শুধুই ভুল বোঝাবুঝি। এ বিষয়ে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে ভল্টের টাকায় গরমিলের মতো প্রমাণ যদি বাংলাদেশ ব্যাংক পায়, তবে অবশ্যই যথাযথ নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, ইউনিয়ন ব্যাংকের কাছে আমরা ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছি। জবাব পেলে ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন লেনদেনের শুরুতে এবং শেষে ভল্টের টাকা মিলিয়ে রাখার দায়িত্ব শাখা ব্যবস্থাপক, শাখা পরিচালনা ব্যবস্থাপক, ক্যাশ ইনচার্জ ও ক্যাশ অফিসারের। এ চার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে যে কোনো দুজনের কাছে চাবি থাকবে। দুজনের উপস্থিতি ও চাবি ছাড়া ভল্ট খোলা ও বন্ধের সুযোগ নেই। প্রতিদিন লেনদেন শেষে ঠিক কত টাকার কতটি নোট ভল্টে জমা রাখা হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট রেজিস্টার খাতায় লিপিবদ্ধ করতে হয়। সেই খাতাও থাকে ভল্টের ভেতরে। টাকার হিসাব মেলার পর কর্মকর্তারা প্রতিদিন ওই রেজিস্টারে স্বাক্ষর করেন। তাই ভল্টের টাকার গরমিলের সুযোগ কম। শাখা ব্যবস্থাপক ও প্রধান শাখার কর্মকর্তারা হঠাৎ হঠাৎ ভল্ট পরিদর্শন করে টাকার হিসাব মিলিয়ে দেখেন। গরমিল পাওয়া গেলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহি করতে হয়। সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ করার বিধান আছে। তবে ইউনিয়ন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার আওতাধীন গুলশান থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ থানায় আসেনি। ইউনিয়ন ব্যাংকের ২০২০ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ব্যাংকটিতে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতই ৪ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। ওই বছর শেষে ব্যাংকটির বিনিয়োগ (ঋণ) ছিল ১৬ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। গত বছর ব্যাংকটি ৯৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। গত বছর ব্যাংকটির শাখা ছিল ৯৫টি। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৫ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও অনুমোদন করেছে। ব্যাংকটি শেয়ারবাজার থেকে ৪২৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। বিভিন্ন সংকটে থাকা ব্যাংকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ওপর ভর করে চলছে। গত বছর শেষে ব্যাংকটির মোট আমানত ছিল ১৭ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতই ৪ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে চতুর্থ প্রজন্মের যে ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশে অনুমোদন পায় সেগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড অন্যতম। প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মালিকানায় ছিল ব্যাংকটি। এখন ব্যাংকটি পরিচালনা করছে একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর