1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে হচ্ছে কি? দুর্নীতি নাকি প্রতারনা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২২
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে হচ্ছে কি? দুর্নীতি নাকি প্রতারনা?চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। মালপত্র না পেয়েও বিল পরিশোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এ ফাউন্ডেশনের একটি প্রকল্পে শিক্ষা উপকরণ,কম্পিউটার সামগ্রী ও আসবাব কেনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। দেড় শতাধিক উপজেলায় এসব মালপত্র সরবরাহ করা না হলেও ঠিকাদারদের পুরো বিল দেওয়া হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি টাকা। একই প্রকল্পের আওতায় যেসব উপজেলায় যেসব সামগ্রী দেওয়া হয়েছে তার কোনোটিই ব্যবহার উপযোগী নয় বলে সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন। এর পরেও ঠিকাদারদের পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তার পরিমাণ প্রায় সোয়া ছয় কোটি টাকা।বিভিন্ন জেলার ২০ জনের বেশি উপপরিচালক সমকালকে জানান, গত ২৬ ডিসেম্বর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় গোপালগঞ্জ জেলার উপপরিচালক আবু অবায়দা মোহাম্মদ মাস-উ-দুল হক বলেন,যেসব মালপত্র সরবরাহ করা হয়েছে তা ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট,ব্যবহার অনুপযোগী। তার বক্তব্যের সঙ্গে ৬৪ জেলার উপপরিচালকরা একমত পোষণ করেন। তারা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের কাছে কার্যাদেশ অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য মালপত্র সরবরাহের দাবি করেন। সংশ্নিষ্টরা জানান, তিনটি প্রতিষ্ঠানকে কাজগুলো দেওয়া হয়- দেশ ইঞ্জিনিয়ার্স,স্মার্ট টেকনোলজি ও সনিয়া স্টিল। কিন্তু গত অর্থবছরের মালপত্র চলতি বছরের ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও সরবরাহ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অর্থবছরের প্রকল্পের অব্যবহূত বরাদ্দ অর্থ বিভাগে ফেরত যাবে। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ফারুক আহম্মেদ তা ফেরত পাঠাননি। বরং তিনি সেই অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে জমা রাখেন এবং মালপত্র সরবরাহের আগেই ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, মালপত্র প্রাপ্তির প্রত্যয়নপত্র না পেয়েই ঠিকারদারদের বিল অগ্রিম পরিশোধ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আংশিক মালপত্র দিয়ে সম্পূর্ণ মালের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র নেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা।সরবরাহের আগেই বিল: ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের টাকা পিডি অ্যাকাউন্টে না রাখার কৌশল হিসেবে চেকে স্বাক্ষর করা হয়েছে ৩০ জুন ২০২১ সালের। গত বৃহস্পতিবার ঠিকাদাররা টাকা উত্তোলন করেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেন, ২৬ ডিসেম্বরের সমন্বয় সভায় যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো আমাকেও জানানো হয়েছে। আমি সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দিয়েছি।প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালপত্র সরবরাহের আগে ঠিকারদারদের টাকা পরিশোধ করা হলে আইন অনুযায়ী পিডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ডিসেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ফারুক আহম্মেদ বলেন,প্রকল্পের টাকা যথাযথভাবে ব্যবহারের জন্য গত সপ্তাহে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। যেসব উপজেলায় মালপত্র পৌঁছেনি সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, মালপত্র প্রাপ্তি স্বীকারপত্রের জন্য এক মাস আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরপরও ২৪ জেলা থেকে এখনও কোনো প্রাপ্তি স্বীকারের চিঠি পাওয়া যায়নি। এজন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব তাহমিদ হাসনাত খান সমকালকে বলেন, সরকারের টাকা অগ্রিম উত্তোলন করে পিডি তার অ্যাকাউন্টে রাখতে পারেন না। সরাসরি চেকের মাধ্যমে ঠিকাদারকে টাকা পরিশোধ করা হয়। যদি সরকারের টাকা ধরে রাখে তাহলে তাদের জবাবদিহি করতে হবে।অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫টি উপজেলা ও মহানগরীর ৬টি জোনে ২১টি স্ক্যানার পাঠানোর পরিসংখ্যান দেওয়া হলেও গ্রহণ কমিটি মাত্র ১টি স্ক্যানার পেয়েছে। একইভাবে ডেস্কটপ কম্পিউটার, চেয়ার, লেজার প্রিন্টার, ইউপিএস ও ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স মেশিনের সংখ্যা সঠিক পাওয়া যায়নি। লোহাগাড়া উপজেলার ইউপিএসটি নষ্ট। কম্পিউটার টেবিল লেমিনেটেড বোর্ডের বদলে ম্যালামাইন বোর্ডের দেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিকের মাদুর, চক সাইনবোর্ড ও বø্যাকবোর্ড অতি নিম্নমানের এবং কার্যাদেশের বিবরণীর সঙ্গে কোনো মিল নেই। গোপালগঞ্জ জেলায় চক ব্যবহার অনুপযোগী, লক্ষ্মীপুর জেলার চক ও ব্ল্যাকবোর্ড ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় গ্রহণ করা হয়নি। কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক মালপত্র সরবরাহ করা হয়েছে কিন্তু সেটআপ করা হয়নি। কার্যাদেশে ৫টি স্ক্যানার প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও এ জেলায় কোনো স্ক্যানার সরবরাহ করা হয়নি। কক্সবাজার জেলায় পাঠানো চকগুলো সামান্য চাপে গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে এবং বø্যাকবোর্ডে একবার লেখার পর ডাস্টার দিয়ে মোছা যায় না। বোর্ডটি একাধিকবার ব্যবহার যোগ্য নয়। পঞ্চগড় ও বরগুনা জেলায় পাঠানো শিক্ষা উপকরণগুলো সংখ্যায় ঠিক নেই এবং গুণগতমান ভালো নয়।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার সমকালকে বলেন, সরবরাহকৃত মালপত্র ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় তা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রহণ কমিটি।তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, আগে ৬৪ জেলায় ক্রয় কমিটির মাধ্যমে মালপত্র কেনা হতো। এবারই প্রথম প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে সারাদেশের মালপত্র ক্রয় করা হয়েছে। তাই অনিয়মের সুযোগ পেয়েছে ঠিকাদাররা।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গোপালগঞ্জ জেলার উপপরিচালক আবু অবায়দা মোহাম্মদ মাস-উ-দুল হক বলেন, সব মালপত্র পেয়েছি। তবে কিছু ব্যবহার অনুপযোগী। ২৫টির বেশি জেলার উপপরিচালকরা বলেন, অর্ধেক মাল দিয়ে পুরো মালের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র চাচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক কার্যালয়ের এক উপপরিচালক। তিনি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের চাপ দিচ্ছেন। কয়েকজনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও নানারকম হুমকি দিয়েছেন।জানতে চাইলে দেশ ইঞ্জিনিয়ার্সের ম্যানেজার শাহজাহান বলেন, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহে কিছু ঝামেলা হয়েছে। তবে কী অনিয়ম হয়েছে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।স্মার্ট টেকনোলজিস বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজার ফখরুল হাসান বলেন, কম্পিউটার সেটআপের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সেটআপ কাজ শেষ হতে পারে।সনিয়া স্টিলের ম্যানেজার সাফাওয়াত হোসেন বলেন, চুক্তির পর করোনাকালে কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় সব মাল সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে তিনি চুক্তি বাতিলের আবেদন করেছিলাম।১৯৯৩ সালে শুরু হওয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে কোনো কম্পিউটার ছিল না ২০১৯-২০ অর্থবছরে ডেস্কটপ কম্পিউটার, ইউপিএস,লেজার প্রিন্টার,স্ক্যানার, ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স মেশিন, ল্যাপটপ,কম্পিউটার টেবিল ও চেয়ার এবং শিক্ষা সহায়ক উপকরণ কেনার উদ্যোগ নেয় সরকার। ৮ কোটি ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৫১৪ টাকার এসব মালপত্র অর্থ বছরের শুরুতেই সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু বছরের শেষ পর্যায়ে কেনার কাজ শুরু করেন প্রকল্প পরিচালক। গত জুনের শুরুতে দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়। এর ৩০ দিনের মধ্যে মালপত্র ৫৫০টি উপজেলা কার্যালয়ে পৌঁছানোর কথা ছিল।সুত্র-সমকাল

 

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর