1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন

এবার অস্থিরতা রেলে

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ৯০ বার পড়া হয়েছে

অতিরিক্ত ডিউটির ভাতা বাতিল নিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে অস্থিরতা চলছে দুদিন ধরে। প্রতিবাদ হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন বন্ধ করে দিয়েছেন রেল চালকরা। সেই সঙ্গে শিডিউল ভেঙে দেরিতে নিয়ে যাচ্ছেন রেল। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

যাত্রীরা জানান, একদিকে সড়কে চলছে পরিবহন ধর্মঘট। এ কারণে রেলে বেড়েছে যাত্রী। এই সময়ে নির্ধারিত সময়ে চলছে না রেল। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেলস্টেশনে বসে থাকতে হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত সময়ে পৌঁছানো যাচ্ছে না গন্তব্যে।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এই অবস্থা চলছে বলে জানান যাত্রীরা। বিষয়টি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার রতন কুমার চৌধুরী স্বীকার করলেও কৌশলে এড়িয়ে যান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত ডিউটির ভাতা বাতিলের খবরে চালকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলেও রেল চলছে। দুয়েকটা রেল হয়তো একটু দেরিতে যাচ্ছে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা রেল ঠিকমতো চালাবেন বলেছেন। আমরা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কী করা যায়, সেটা দেখছি।

স্টেশন ম্যানেজার রতন কুমার চৌধুরী বলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত ডিউটির সুযোগ-সুবিধা বাতিলের খবরে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে চালকেদর মাঝে অস্থিরতা দেখা দেয়। ফলে ওইদিন ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস বিকেল ৫টায় ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি প্রায় ৪৫ মিনিট দেরিতে চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়।

চাঁদপুরের উদ্দেশে মেঘনা এক্সপ্রেস বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে যায়। এ ছাড়া রাতের মধ্যে সিলেটে উদয়ন এক্সপ্রেস, ঢাকায় তূর্ণা নিশিথা ও ঢাকা মেইলও নির্ধারিত শিডিউলে চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়নি। এমনকি শুক্রবারও চালকরা সঠিক সময়ে ডিউটিতে না আসায় শিডিউল অনুযায়ী রেল ছাড়তে পারেননি। শনিবার সকাল থেকেও একই অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, রেল চালকরা দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ডিউটির জন্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তা বাতিল করে দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এর প্রতিবাদ হিসেবে চালকরা নির্ধারিত সময়ের পর রেল নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে রেলের শিডিউল রক্ষা করা যাচ্ছে না। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

বাংলাদেশ রানিং স্টাফ শ্রমিক ও কর্মচারী সমিতির (রেল চালক) সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান বলেন, লোকবল সংকট থাকায় রেল চালকরা অতিরিক্ত কাজ করতেন। এ জন্য সুযোগ-সুবিধাও পেতেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত ডিউটিতে বাড়তি সুবিধা বাতিলের খবরে চালকরা অতিরিক্ত ডিউটি না করার সিদ্ধান্ত নেন। একই কারণে রেলও দেরিতে ছাড়ছেন।

রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, রেলওয়ে রানিং স্টাফসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা জানান, সৃষ্ট জটিলতা কাটাতে আগামী রোববার (৭ নভেম্বর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে বসবে সংগঠনগুলোর একটি প্রতিনিধি দল। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সিআরবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে রেলওয়ে শ্রমিক লীগ। সেদিনই নির্ধারণ হবে আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি।

সূত্র মতে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ১২০ জন চালকের পদের বিপরীতে আছেন ৬৫ জন। এ জন্য তাদের ৮ ঘণ্টা দায়িত্বের অতিরিক্ত সময় রেল চালাতে হয়। অতিরিক্ত দায়িত্বের জন্য মাইলেজ সিস্টেমে তাদের ভাতা নির্ধারিত ছিল।

রেল পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, মাইলেজ সিস্টেম হচ্ছে মূলত পার্ট অব পে অর্থাৎ বেতনের অংশ। রেলের গার্ড, চালক, কন্ট্রোলারসহ যারা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় কাজ করছেন তারা মাইলেজের সমপরিমাণ টাকা পাবেন। এভাবে যারা একশ মাইল রান করেন, তাদের কর্মঘণ্টা হিসাব করা হয় ৮ ঘণ্টা। এই নিয়মে মাস শেষে কারও মাইলেজ নির্ধারণ হয় ২ হাজার, আবার অনেকের মাইলেজ আসে ৬ কিংবা ৭ হাজার।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর