1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

কথিত মডেলদের অবৈধ গাড়ি ও অর্থের সন্ধানে সিআইডি

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১
  • ১০১ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: কথিত মডেলদের অবৈধ গাড়ি ও অর্থের সন্ধানে সিআইডি। আমদানি নিষিদ্ধ গাড়ির ব্যবসা ছিল আলোচিত মডেল পিয়াসা ও মৌয়ের। কয়েক বছরে চোরাইপথে গাড়ি আমদানি করে প্রায় পাঁচশ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন তারা। বিআরটিএর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে গাড়ির কাগজপত্র করে তা বাজারজাত করেছে চক্রটি। এ কাজে তাদের মূল সহযোগী ছিলেন শরফুল হাসান মিশু ওরফে মিশু হাসান। এসব গাড়ি অনেক সময় অবৈধভাবে মাদানি রোডের তার মালিকানাধীন ইউরো কার সল্যুশনে রাখা হতো। যা বিক্রি করা হতো ধনীর দুলালদের কাছে। এ চক্রের কাছ থেকে যারা গাড়ি কিনেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খোঁজে নেমেছে।এর মধ্যে চট্টগ্রামের সাবেক এক এমপিপুত্রও রয়েছেন। অবৈধ উপায়ে তার সংগ্রহে রাখা কোটি টাকা মূল্যের বিএমডবিøউ গাড়িটি নজরদারিতে রয়েছে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে আনা আরেকটি ওডি আর-৮ ও একটি ল্যাম্বরগিনি গাড়ির সন্ধান করছেন গোয়েন্দারা। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য এখন তাদের হাতে। এদিকে চিত্রনায়িকা পরীমনি, মডেল মৌ ও পিয়াসা এবং হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধেসহ সম্প্রতি করা আলোচিত সাতটি মামলা সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্তভাবে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটি বলছে, তদন্তে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নাম এলেও তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মামলাসংশ্লিষ্ট ছয়জনের বাসায় শনিবার বিকালে একযোগে অভিযান চালিয়েছে সিআইডি। সেখান থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। এরমধ্যে অবৈধ গাড়ি ও অর্থ উপার্জনসংক্রান্ত তথ্যও রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান বাংলাদেশে দামি ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবসা করেন। পিয়াসা-মৌ অবৈধ গাড়ির ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন তার হাত ধরেই। তারাও দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি ব্যবহার করতেন। মিশুর ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ২টি রেঞ্জ রোভার, অ্যাকুয়া, ভক্সওয়াগন ও ফেরারিসহ পাঁচটি গাড়ি রয়েছে। তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে গাড়ির ট্যাক্স জালিয়াতি করে থাকেন। এছাড়া অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ গাড়ি ব্যবসার মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টাও করেছেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদেও মিশু অবৈধ গাড়ি ব্যবসার কথা স্বীকার করেছেন। এর আগে রোববার রাতে গ্রেফতার হন মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ। মাদক আইনের মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের শুক্রবার আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এরপর রাজধানীর তিন থানার পৃথক তিনটি মাদক মামলায় পিয়াসার ৮ দিন ও মৌকে একটি মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। বর্তমানে তারা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হেফাজতে রিমান্ডে আছে। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এছাড়া বুধবার বিকালে পরীমনিকে গ্রেফতারের পর মাদক মামলায় তাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। সূত্র জানায়, মাঝেমধ্যেই নামি-দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়তেন এ চক্রের সদস্যরা। গুলশানের রাস্তাায় বিভিন্ন সময়ে তাদের রেস দিতেও দেখা যায়। এমন রেসের সময়ে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও জানা গেছে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে খুলে দেওয়ার পর ওই সড়কে প্রায়ই বের হতেন তারা। কখনো কখনো শহরের ধনীর দুলাল,রাজনৈতিক,প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও তাদের সঙ্গে যোগ দিতেন। এতে করে রাস্তায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও ভয়ে কথা বলতেন না। আরেকটি সূত্র জানায়-এ পর্যন্ত গুলশান, বারিধারা, বনানী, বসুন্ধরা আবাসিক ও ধানমন্ডি এলাকার ধনাঢ্য পরিবারের বখে যাওয়া সন্তানের কাছে শতাধিক গাড়ি বিক্রি করে এ চক্রটি। এসব গাড়ির মধ্যে রয়েছে-ফেরারি,ওডি,বেন্টলি কন্টিনেন্টাল কার, মার্সিডিজ বেঞ্জ, বিএমডবিøউ, রেঞ্জ রোভার মডেল। ছয় হাজার সিসির এসব গাড়ি দুই হাজার সিসি দেখিয়ে বড় অঙ্কের কর ফাঁকি দিয়ে চোরাইপথে আমদানি করা হয়।এরপর বিআরটিএর একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে অবৈধ কাগজপত্র তৈরি করে এ গাড়িগুলো বিক্রি করা হয়। চক্রটির গাড়ি ব্যবসার কাগজপত্র যাচাই করলেই এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে জানায় সূত্রটি। আরেকটি সূত্র জানায়, মিশু ও পিয়াসা গ্রেফতার হলেও তাদের গ্রæপের অস্ত্রধারী সদস্য জনৈক সৌরভের নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ওডি আর-৮ ও একটি বেন্টলি কন্টিনেন্টাল কার রয়েছে। যেগুলো উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মিশু-পিয়াসার চোরাচালান চক্রের সদস্যদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এদিকে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী,আমলা,রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কারা পরীমনি ও পিয়াসার পার্টিতে যাতায়াত করতেন তাদের সম্পর্কেও খোঁজখবর নিচ্ছে তদন্ত সংস্থা। এ বিষয়ে দরকার হলে পরীমনি ও পিয়াসাকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বিশেষ করে পিয়াসা এমন কোনো বড় চাকরি বা ব্যবসা না করলেও তিন লাখ টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকা এবং বিলাসবহুল গাড়ি চালানোর অর্থের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে তদন্ত সংস্থা। প্রভাবশালীসহ জড়িত কাউকে ছাড় নয় : রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক বলেন, শুক্রবার চিত্রনায়িকা পরীমনি,ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর, কথিত প্রযোজক রাজ,মডেল পিয়াসা ও মৌয়ের সাতটি মামলা আমাদের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর হয়েছে। আসামিদের আমরা হেফাজতে পেয়েছি। ইতোমধ্যে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। এখনই বিস্তাারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আইনের মধ্যে থেকেই মামলা তদন্ত করবে সিআইডি। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত কাজ সম্পন্ন হবে। যারা সত্যিকারভাবে দোষী সিআইডি তাদের খুঁজে বের করবে। এর আগে মামলাগুলোর তদন্তে থাকা কোনো তদন্তকারী বা তদারকি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে- জানতে চাইলে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা হন বা যে কেউ হন। আমরা চাই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য ঘটনা উদ্ঘাটন করতে। তারা যত ক্ষমতাধরই হন না কেন, আইনের আওতায় আসতে হবে। পরীমনির সঙ্গে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সাকলায়েনের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করব। মামলা ও আসামিসংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যম ও গণমাধ্যমে যা প্রকাশ পাবে-সে বিষয়গুলো তদন্তে আসামি ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি হওয়া আলোচিত সাতটি মামলার ডকেট আমরা শুক্রবার বুঝে পেয়েছি। আসামিদের মধ্যে পরীমনি, মৌ, পিয়াসা ও রাজ বর্তমানে সিআইডির হেফাজতে রয়েছে। তবে হেলেনা জাহাঙ্গীর ও মিশু হাসান আমাদের হেফাজতে নেই। তারা অন্য মামলার তদন্তে ডিএমপির কাছে রয়েছে। তিনি আরও বলেন-আমাদের ফরেনসিক ল্যাব, কেমিক্যাল ল্যাব, ডিএনএ ল্যাব ও আইটি ফরেনসিক ল্যাব রয়েছে। তাই মামলাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তে কোনো সমস্যা হবে না। ৩ আগস্ট রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং তার সহযোগী মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকার গুলশান, বারিধারা ও বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টি আয়োজনের বেশ কয়েকটি স্থানের তথ্য প্রদান করেন। এর ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েদা শাখা ও র‌্যাব-১ এর একটি দল বনানী এলাকায় বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে পরীমনি,নজরুল ইসলাম রাজ,পরীমনির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দীপু ও রাজের ম্যানেজার সবুজ আলীকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার রাতে পরীমনির কস্টিউম ডিজাইনার জিমিকে গ্রেফতার করে ডিবি। এর আগে পৃথক ঘটনায় হেলেনা জাহাঙ্গীর, পিয়াসা এবং মৌসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ছয়জনের বাসায় অভিযান : এদিকে শনিবার বিকালে ছয়টি বাসায় অভিযান চালিয়েছে সিআইডি। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক শেখ বলেন, সম্প্রতি যে সাতটি মামলা তদন্তের জন্য আমাদের কাছে এসেছে সে সংক্রান্ত সবার বাসায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে।যাদের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে তারাহলেন-হেলেনাজাহাঙ্গীর,পরীমনি, পিয়াসা,মৌ,নজরুল ইসলাম রাজ,মিশু হাসান। সিআইডির ছয়টি টিম একই সময়ে এ অভিযান চালায়।অভিযানে বাসাগুলো থেকে বেশকিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।তবে এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।সুত্র-যুগান্তর

 

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর