1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০১:৫৪ অপরাহ্ন

কমেনি সরকারি গাড়ির জ্বালানি ব্যয়, বন্ধ হয়নি যথেচ্ছ ব্যবহার

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) ঢাকা মেট্রো-ঘ ০২০৬৬১ নম্বর জিপটি সার্বক্ষণিকভাবে ব্যবহার করেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিস্টেম এনালিস্ট এসএম সহিদ। তার মতো সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর পিএস ও এপিএসসহ মন্ত্রণালয়ের ১৬ জন কর্মকর্তা প্রাধিকারবহির্ভূতভাবে সওজের গাড়ি ব্যবহার করেন, যার জ্বালানি খরচও বহন করা হয় সওজ থেকে। এসব গাড়ির জন্য মাসে জ্বালানি তেল বরাদ্দ রয়েছে ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত।

সওজের কয়েকজন গাড়িচালক জানান, ‘তারা অনেকে ৬ থেকে ৭ বছর ধরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ডিউটি করছেন। বৈশ্বিক সংকটজনক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়ে পরিপত্র জারি করা হলেও বাস্তবে এ নির্দেশনা সবাই মানছেন না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।’

তারা বলছেন জ্বালানির পরিমাণ ২০ শতাংশ কমানো হলেও অকটেন ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় কমেনি বরং বেড়েছে। অন্যদিকে প্রাধিকারবহির্ভূত গাড়ির ব্যবহারও বন্ধ হয়নি।

এ ছাড়া উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তারা ৩০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনার পর তেল খরচ ও চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করার পাশাপাশি একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পের গাড়িও ব্যবহার করেন। এসব গাড়ির বেশিরভাগ জ্বালানি খরচ হয় মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বাজেট থেকে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার হওয়ায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। গত ২১ জুলাই জারি করা পরিপত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি যানবাহন এমনকি নিজের মালিকানাধীন গাড়িও একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেয় সরকার। যুগ্ম সচিব থেকে তার ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তারা গাড়ি ব্যবহারে মাসিক ২৫০ লিটার জ্বালানি তেল পান। তবে ২০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে বরাদ্দ তেলের ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ২১০ লিটার ব্যবহার করতে পারেন। সরকারি পরিবহন অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি ২০ শতাংশ কমানো হলেও অকটেন ও ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে খরচ কিন্তু কমেনি।

তারা জানান, চলতি অর্থবছরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য গাড়ির জ্বালানির পেছনে বরাদ্দ রয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রাধিকার পাওয়া প্রায় তিন হাজার উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সচিব ও সিনিয়র সচিরের গাড়ির পেছনে মেরামত, চালক ও জ্বালানি বাবদ বছরে খরচ হয় প্রায় ১৮০ কোটি টাকা। তবে অকটেন ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরে এই ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জ্বালানি সাশ্রয়ী হতে মন্ত্রীদের গাড়ি নিয়ে বেশি ছোটাছুটি না করার নির্দেশনা দিলেও অনেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং তাদের দফতরের কর্মকর্তারা তা মানছেন না বলে বলে অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রীদের এপিএস ও দফতরের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তারাও প্রাধিকারবহির্ভূতভাবে সরকারি ও বিভিন্ন অধিদফতরের গাড়ি ব্যবহার করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনু বিভাগ প্রধানের দায়িত্বে থাকা বেশিরভাগ অতিরিক্ত সচিব অবৈধ গাড়ি ও জ্বালানি সুবিধা নিচ্ছেন।

‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী, ঋণের টাকায় গাড়ি কিনলে অধিদফতরের গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বেশ কয়েক দফা চিঠি দিয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করে বলেছে ১০০ শতাংশ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় গ্রহণের ক্ষেত্রে সুদমুক্ত ঋণের অর্থে কেনা গাড়ি অফিসের কাজে ব্যবহার করতে হবে এবং মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর, সংস্থা ও উন্নয়ন প্রকল্পের যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীন দফতর, সংস্থা বা উন্নয়ন প্রকল্পের যানবাহন ব্যবহার করা ‘অসদাচরণ’ বলে গণ্য হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বারবার চিঠি দেওয়ার পরও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতিই হয়নি বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

সরকারি যানবাহন অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সবচেয়ে বেশি জ্বালানি চায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। যেহেতু যানবাহন অধিদফতর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে তাই তাদের অতিরিক্ত জ্বালানি দিতে তারা বাধ্য থাকেন।

তারা বলেন, অধিদফতরের বাইরেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব বাজেট থেকে গাড়ির জ্বালানি ব্যয় বহন করে। জ্বালানি খাতে চলতি অর্থবছরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বরাদ্দ রয়েছে ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয়ে ৬৫ লাখ টাকা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগে ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

সরকারি যানবাহন অধিদফতরের পরিচালক (সড়ক) মো. আলমগীর হোসেন চৌধুরী জানান, ‘অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় এক হাজার সাতশ গাড়ি রয়েছে যার মধ্যে ঢাকায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ব্যবহার হয় ৩৫০টি। বাকিগুলো বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর কার্যালয়ে ব্যবহার করা হয়।’

তিনি জানান, ‘২০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি চাওয়া হয়। তবে এখন চাইলেও জ্বালানি দেওয়া হয় না, সফরসূচি ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করার পর জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, ‘২০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নিয়মের বাইরে যাতে গাড়ি ব্যবহার করা না হয়, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুদমুক্ত সরকারি ঋণে কেনা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়ার পরও কোনো কর্মকর্তা যদি নিজের গাড়ি ব্যবহার না করে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দিয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর