1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:১০ অপরাহ্ন

করোনায় প্রাণ হারালেন বহু গুণী, যে ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও ভয়াবহ থাবা বসিয়েছে করোনাভাইরাস। এক বছরে কেড়ে নিয়েছে ১১ হাজারেরও বেশি প্রাণ। এর মধ্যে আমরা এমন কিছু মানুষকে হারিয়েছি যারা সমাজ-সংস্কৃতি-রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছিলেন মহীরুহসম।

বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, আমলা, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন পেশার গুণী এসব মানুষকে হারানোর মধ্য দিয়ে যেন একটি প্রজন্মকেই হারিয়েছি আমরা।

বিশিষ্টজনরা মনে করেন, এসব কীর্তিমান তাদের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দিয়ে রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারতেন বহুদূর। এত অল্প সময়ে এসব মানুষকে হারানোয় যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, যে ক্ষতি হয়েছে-তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

এ সময়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামান ও লোকশিল্প গবেষক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানকে যেমন হারিয়েছি আমরা, তেমনি হারিয়েছি মোহাম্মদ নাসিম ও বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানের মতো রাজনীতিবিদকে। যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তাকে হারিয়েছি আমরা।

‘মিষ্টি মেয়ে’ সারাহ বেগম কবরী, রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী মিতা হক, লোকসংগীত শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশীকে হারিয়ে শোকাভিভূত চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গন। ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ সামসুজ্জামানের মতো সম্মুখসারির করোনাযোদ্ধা এবং কামাল লোহানী ও হাসান শাহরিয়ারের মতো জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকও হার মেনেছেন করোনার কাছে।

৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু হয়। এখনো সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ভয়াবহ মাত্রার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

রাজনীতিবিদ : এক বছরে খ্যাতিমান কয়েকজন রাজনীতিবিদের জীবন কেড়ে নিয়েছে করোনা। এদের মধ্যে সর্বশেষ প্রাণ হারান সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন খসরু। ১৪ এপ্রিল তিনি মারা যান। দেশে খ্যাতিমান আইনজীবীও ছিলেন তিনি। ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সবশেষ নির্বাচিত সভাপতি।

মহামারির প্রথম ঢেউয়ে প্রাণ হারান সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। সিলেটের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান, সাবেক এমপি হাজী মকবুল আহমেদ ও ইসরাফিল আলম করোনার কাছে পরাজিত হন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের ছেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান শনিবার রাতে মারা যান। তিনি ধামরাই থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। করোনায় প্রথম ঢেউয়ে মারা যান সাবেক (চারদলীয় জোট সরকার) বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আনোয়ারুল কবির তালুকদার, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১৬ আসনের এমপি প্রার্থী আহসানউল্লাহ হাসান।

বিশিষ্টজন : করোনার প্রথম ঢেউয়ে সবচেয়ে বড় আঘাত ছিল বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামানের চলে যাওয়া। তার মৃত্যুতে সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রাণ হারান আরেক শিক্ষাবিদ, লোকশিল্প গবেষক, বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

পহেলা বৈশাখ তিনি মারা যান। প্রথমে ঢেউয়ে মারা যান শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মো. ইমামুল কবীর শান্ত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর স্ত্রী ঢাকার সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. নাজমুল করিম, সাবেক স্বাস্থ্যসচিব আব্দুল মান্নানের স্ত্রী কামরুন্নাহার।

শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী : করোনা মহামারি কেড়ে নিয়েছে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তার প্রাণ। এর মধ্যে রয়েছেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম। প্রথম ঢেউয়ে গত বছরের ১৩ জুলাই তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে দেশের ব্যবসায়ী অঙ্গনসহ সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে।

শিল্প ও সেবা খাতে শীর্ষ স্থানে থাকা যমুনা গ্রুপের দেশে বিশেষ অবদান রয়েছে বস্ত্র, ইলেকট্রনিকস, রাসায়নিক, চামড়া, বেভারেজ, টয়লেট্রিজ, নির্মাণ ও আবাসন খাতে। যুগান্তর ও যমুনা টিভির স্বপ্নদ্রষ্টা নুরুল ইসলাম গড়ে তুলেছিলেন এশিয়ার সবচেয়ে বড় শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক।

করোনায় প্রাণ হারান দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এমএ হাসেম। এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল আলম, চা-শিল্পের ব্যবসায়ী শিল্পপতি আজমত মঈন এবং শিল্পপতি ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোনেম গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল মোনেমও মারা যান করোনায়।

চলচ্চিত্র ও সংগীতাঙ্গান : রাজধানীর একটি হাসপাতালে ১৬ এপ্রিল রাতে মারা যান বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। এ ‘মিস্টি মেয়ে’র মৃত্যুতে শুধু চলচ্চিত্রাঙ্গন নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নামে। করোনা কেড়ে নেয় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদের জীবনও।

ইত্যাদির সূচনা সংগীত ‘কেউ কেউ অবিরাম চুপি চুপি’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের সুরকার ছিলেন তিনি। প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী মিতা হকও হার মানেন করোনার কাছে। নাট্যজন এসএম মহসীন, বিশিষ্ট নৃত্য পরিচালক হাসান ইমাম, একুশে পদক পাওয়া লোকসংগীত শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশীও মারা যান করোনায়।

চিকিৎসক : সম্মুখসারির যোদ্ধা চিকিৎসকরাও মারা যাচ্ছেন করোনায়। এরই মধ্যে প্রখ্যাত কয়েকজনকে হারিয়েছি আমরা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর ২৪ দিনে ১৫ চিকিৎসকের মৃত্যু হয়।

শনিবার মারা যান ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান। তিনি রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক ছিলেন। এর আগে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবু আহমেদ আশরাফ আলী মারা যান ১৭ এপ্রিল।

চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে রোববার পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৪৬ চিকিৎসক মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় তিন হাজার চিকিৎসক। একই সময়ে দেশে ১ হাজার ৯৯৮ জন নার্স এবং ৩ হাজার ২৯৫ জন অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হন।

করোনায় দেশে প্রথম চিকিৎসকের মৃত্যু হয় গত বছর ১৫ এপ্রিল। ওইদিন মারা যান সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মঈন উদ্দীন আহমেদ। এরপর যেসব চিকিৎসক মারা গেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক (মেডিকেল সার্ভিস) ও সিনিয়র কনসালটেন্ট মির্জা নাজিম উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) মো. মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. আবুল মোকারিম, প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট ডা. মঞ্জুর রশীদ চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইউরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এসএএম কিবরিয়া প্রমুখ।

সাবেক ও বর্তমান আমলা : সবশেষ তথ্য অনুযায়ী করোনায় প্রশাসনের ২৫ জন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে মারা যান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল খায়ের মো. মারুফ হাসান। বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তা আবুল খায়ের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকাবস্থায় ১৫ এপ্রিল মারা যান।

এ ছাড়া করোনায় প্রাণ হারান প্রতিরক্ষা সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গৌতম আইচ সরকার, পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম-প্রধান উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম খান, যুগ্ম-সচিব খন্দকার অলিউর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব লিয়াকত আলী, সিনিয়র সহকারী সচিব একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একেএম রফিক আহম্মদ, যুগ্ম-সচিব শামস ই আরা বিনতে হুদা, সাবেক সচিব বজলুল করিম চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম-সচিব, মুক্তিযোদ্ধকালীন মুজিববাহিনীর কমান্ডার ইসহাক ভূঁইয়া, সাবেক যুগ্মসচিব সামসুল কিবরিয়া চৌধুরী, তপন কুমার সরকার, নাসিরউদ্দিন আহমেদ, দুদক পরিচালক জালাল সাইফুর রহমান, সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব তৌফিকুল আলম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব পদমর্যাদা) মো. ফখরুল কবির, সাবেক যুগ্ম-সচিব মো. সরওয়ারী আলম, সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. নূর হোসেন তালুকদার।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কয়েক মেধাবী কর্মকর্তাও হার মানেন করোনার কাছে। কাস্টমস কমিশনার হোসাইন আহমেদ, আয়কর কমিশনার আলী আজগর ছাড়াও ঢাকা কাস্টম হাউসের রপ্তানি পরীক্ষা ইউনিটে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা খোরশেদ আলম, এনবিআরের কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন মজুমদার করোনায় প্রাণ হারান।

গণমাধ্যমকর্মী : করোনার আঘাত সইতে হয়েছে সম্মুখসারির যোদ্ধা গণমাধ্যমকর্মীদেরও। অসংখ্য কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সবশেষ তথ্য অনুযায়ী ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ১৪ জন। সাংবাদিকদের ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ ‘আমাদের গণমাধ্যম, আমাদের অধিকার’-এ তথ্য উঠে আসে। করোনায় সবশেষ প্রাণ হারান জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার। ১০ এপ্রিল তিনি মারা যান।

এর আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান খ্যাতিমান সাংবাদিক কামাল লোহানী, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, খন্দকার মোজাম্মেল হোসেন (গেদু চাচা), এনটিভির অনুষ্ঠান প্রধান মোস্তফা কামাল সৈয়দ। দৈনিক সময়ের আলোর নগর সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খোকনও পরাজিত হন করোনায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী : এ পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীর ৯০ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন র‌্যাবের। মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি)। পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৮ এপ্রিল পুলিশে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর থেকে এ পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীতে করোনায় আক্রান্ত হন ২০ হাজার ২৯১ জন।

বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ডিএমপিতে ৩ হাজার ৪১৩ জন। এরপর রয়েছে র‌্যাব-২ হাজার ৬২৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় পুলিশে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ২৮ এপ্রিল, মারা যান কনস্টেবল জসিম উদ্দিন (৪০)। তিনি ডিএমপির ওয়ারী ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। সবশেষ মারা যান নরসিংদী পুলিশ লাইনসের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান (৫৬)।

বিচারাঙ্গন : সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্টে শেষ দুই সপ্তাহে অর্ধশত আইনজীবী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৭ জন। এ নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে দুই শতাধিক আইনজীবী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেলেন ১০ জন। এদের মধ্যে আছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী রশিদ আহমেদ, মমতাজ আলী ভূঁইয়া, সৈয়দ মোকাদ্দাস আলী, অ্যাডভোকেট রেজিনা চৌধুরী জেনি, মনজুর কাদের প্রমুখ।

ব্যাংকার : রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পরিকল্পনা ও গবেষণা বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক সহিদুল ইসলাম খান মারা যান করোনায়। করোনায় আরও প্রাণ হারান গ্রামীণ ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী মহিদুল হক। দ্বিতীয় ঢেউয়ে ১৬ দিনে ১৩ ব্যাংকারের মৃত্যু হয়।

ক্রীড়াঙ্গন : করোনার ভয়াল থাবা থেকে বাদ যায়নি দেশের ক্রীড়াঙ্গনও। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য নওশেরুজ্জামান, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মাহবুব উজ জামান, এশিয়ান কারাতে ফেডারেশনের রেফারি ও বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সদস্য হুমায়ুন কবীর জুয়েল, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কাজী জনি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর