1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
অক্টোবরের শেষে ফেসবুকের নাম বদল সরকারি চাকরির প্রশ্ন ফাঁসে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তি ছড়ালেই ব্যবস্থা স্ত্রী ও ভাইয়ের হিসাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেন অডিট রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে ইভ্যালির ভাগ্য স্বাস্থ্যে চাকরি করে নজরুলের সম্পদ হয়েছে ৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা মাত্র পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী আজ ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রধানমন্ত্রীর নিবন্ধ: উন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্থদের গুরুত্ব দিচ্ছে না ই-কমার্স প্রতারণা:১১ প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে মাত্র ১৩৬ কোটি,গ্রাহকের পাওনা ৫ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের ৪২ হাজার ২৯৮টি পদ বিলুপ্ত

কিছু রোগী করোনার সংক্রমণ থেকে কেন সেরে উঠতে পারে না

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

বেশির ভাগ রোগীই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সাধারণত গড়ে দু’সপ্তাহের মধ্যেই ভালো হয়ে যান। কিন্তু কিছু রোগী আছেন – যাদের দেহে এই রোগের লক্ষণ অনেকদিন থেকে যায়। কিন্তু কেন? বিবিসির এক প্রতিবেদনে খোঁজা হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তর।

ব্রিস্টল শহরের ডেভিড হ্যারিস একজন স্থপতি, বয়স ৪২। তার দেহে প্রথম কোভিড-১৯ এর লক্ষণ দেখা দিয়েছিল সাত সপ্তাহ আগে। তিনি বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে শুরু করলেন, স্ত্রী ও শিশুকন্যা থেকে দূরত্ব বজায় রেখে। সপ্তাহখানেক পরই তিনি ভালো বোধ করতে লাগলেন।

কিন্তু আরও দু’সপ্তাহ পর তাকে বিস্মিত করে করোনাভাইরাসের লক্ষণগুলো আবার দেখা দিলো এবং এবারের উপসর্গগুলো ছিল গুরুতর। সেই একই রকম জ্বর, কিন্তু তার সঙ্গে যোগ হলো শ্বাসকষ্ট। তিনি নিশ্চিত হলেন যে এটা করোনাভাইরাসেরই লক্ষণ।

হ্যারিস বলেন, ‘দু সপ্তাহ পর আমার মনে হলো আমি সেরে উঠছি, কিন্তু ভীষণ ক্লান্ত বোধ করছিলাম। কিন্তু সপ্তম সপ্তাহে আমার তৃতীয়বারের মতো সংক্রমণ দেখা দিল। যখন আমি ভাবছি আমি ভালো হয়ে উঠছি তখন আবার অসুস্থ হয়ে পড়াটা ছিল খুবই ভয়ের ব্যাপার। আমি বুঝতে পারছিলাম না আমার কী হতে যাচ্ছে।’

হ্যারিসের জীবন হয়ে গেল ঘরবন্দী। মাঝে মাঝে বাথরুমে যাওয়া, একা একা খাওয়া-ঘুমানো, এমনকি ১০ মাসের কন্যা সন্তানটিকে তার দেখার সুযোগ হতো যখন তার স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে কাচের জানালার ওপাশে এসে দাঁড়াতেন।

ডেভিড হ্যারিসের মতোই টানা ৫ সপ্তাহ ধরে ভুগেছেন লন্ডনের ফেলিসিটি (৪৯)। তারা কেউই কোভিড-১৯ এর টেস্ট করাননি, কিন্তু দু’জনকেই ডাক্তাররা বলেছেন, সম্ভবত তারা করোনাভাইরাসেই আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদেরকে ডাক্তাররা আশ্বস্ত করেছেন যে তারা এখন আর সংক্রমিত নন। কিন্তু দুজনেই এই দীর্ঘ সময়টা পার করেছেন এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে।

কেন এটা হয় বিজ্ঞানীরা এখনো জানেন না। করোনাভাইরাস সম্পর্কে অনেক কিছুই এখনো অজানা। কেন কিছু লোকের মধ্যে মৃদু উপসর্গ হয় এবং অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই তারা সেরে ওঠেন, অন্যদিকে আরেকজনকে হয়তো স্বাস্থ্যবান লোক হয়েও সপ্তাহের পর সপ্তাহ ভুগতে হয় – এখনও এর কোন স্পষ্ট জবাব নেই।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ জনিত অসুস্থতা মাত্র কয়েক মাসের পুরনো, কিন্তু এখনো এটি বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে চলেছে।

লন্ডনের উষ্ণমণ্ডলীয় রোগ সংক্রান্ত হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. ফিলিপ গোথার্ড বলছেন, ‘বেশির ভাগ রোগীই দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গভাবে সেরে ওঠেন, কিন্তু কিছু লোকের ক্ষেত্রে কাশিটা বেশ কিছু দিন থাকতে পারে। তাছাড়া এমন কিছু রোগী আমরা পাচ্ছি যাদের খুব বেশি ক্লান্তি এবং অবসন্নতা দেখা দেয়। আর সেটা তিন থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে থাকে।’

জ্বর সেরে যাওয়ার অর্থ তার সংক্রমণ আর নেই। তার পরও কাশি থাকলে তাই ভয়ের কিছু নেই, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। তবে কোভিড-১৯ সংক্রমণে দীর্ঘদিন ভুগেছেন- এমন রোগীর সংখ্যা কম নয়।

লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক টিম স্পেক্টার বলেন, কোভিডের উপসর্গগুলো নিয়ে যে জরিপ হচ্ছে তাতে দেখা যায় – রোগীদের সেরে উঠতে গড়ে ১২ দিন লাগে। কিন্তু আমরা একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী দেখতে পাচ্ছি যাদের উপসর্গগুলো ৩০ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে রয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আরো উপাত্ত সংগ্রহ করার পরই আমরা চিহ্নিত করতে পারবো কেন কেউ কেউ সেরে উঠতে দীর্ঘদিন সময় নেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, যাদের সেরে উঠতে দীর্ঘদিন লাগে, তাদের দরকার প্রচুর বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ এবং প্রচুর পানি পান করা। রোগীকে যদি ইনটেনসিভ বা ক্রিটিকাল কেয়ারে থাকতে হয়, তাহলে তার সেরে উঠতেও সময় বেশি লাগবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রোগীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ক্রিটিকাল কেয়ারে থাকতে হলে, তার পুরোপুরি সুস্থ হতে ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত লাগতে পারে। কারণ, হাসপাতালের বিছানায় দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকলে মাংসপেশির ভর কমে যায়, রোগী অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েন, এবং হারানো মাংসপেশি আবার তৈরি হতে অনেকটা সময় লাগে। কোনো কোনো রোগীর হাঁটার ক্ষমতা ফিরে পেতে ফিজিওথেরাপি দরকার হয়। তাছাড়া মানসিক সমস্যার সম্ভাবনাও থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্বাসতন্ত্রের রোগের ফলে ফুসফুসেরও ক্ষতি হতে পারে। কার্ডিফ ও ভেইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপিস্ট পল টোজ বলছেন, কোনো কোনো রোগীর হয়তো পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে শারীরিক-মানসিক সমস্যা হতে পারে।

করোনাভাইরাসের মৃদু উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীদেরও অবসন্নতার মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যাও হতে পারে। তবে সাধারণভাবে বলা যায়, ধূমপান না করা, মদ্যপান কমানো, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা- এগুলো মেনে চলতে পারলে করোনার সংক্রমণ থেকে অল্পদিনেই সেরে ওঠা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর