1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন

কোনাবাড়ী এলাকার ‘ত্রাস’ কাউন্সিলর সেলিম

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

কোনাবাড়ী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন কাউন্সিলর সেলিমুর রহমান সেলিম। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও মাদক ব্যবসাসহ তার নানাবিধ অপকর্মে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী সাবেক এ ছাত্রদল নেতা প্রকাশ্যে অপরাধ করলেও থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তার এই অপকর্মের সহযোগী কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. এমদাদ হোসেন। আর এর মধ্য দিয়ে তিনিও কামিয়েছেন অঢেল অর্থ।

কুখ্যাত কাউন্সিলর সেলিমের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না। সরকারি সংস্থাগুলো ব্যবস্থা না নেয়ায় ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সেলিমুর রহমান সেলিম গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হয়েও জনসেবার পরিবর্তে এ পদের অপব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি করছেন।

নিজ ওয়ার্ডের গণ্ডি পেরিয়ে আরও চার ওয়ার্ড এবং কাশিমপুর এলাকাতেও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি। কলকারখানার ঝুট ব্যবসা, কাঁচাবাজার, ডিশ ব্যবসা, অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়েও অবৈধ বাণিজ্য করছেন কুখ্যাত এই কাউন্সিলর ও তার ক্যাডার বাহিনী।

জমি দখল, ফুটপাত দখল, আবাসিক হোটেল ব্যবসার নামে পতিতাবৃত্তির নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে। ওই চক্রের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন তাদের টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। থানার সঙ্গে আঁতাত করে মামলা দিয়েও হয়রানি করা হয়।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো এলাকার জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে স্থানীয় সরকার বিভাগ তদন্ত করে দেখে। ঘটনার সত্যতা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। এমন কোনো কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে লিখিত কোনো অভিযোগ জমা পড়ে থাকলে সেটিরও তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনপ্রতিনিধিদের কোনো ধরনের অপরাধ প্রশ্রয় দেয়া হয় না। অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ইতোমধ্যে অনেক জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, ‘কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় দল বা সিটি কর্পোরেশন নেবে না। কেউ অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, কাউন্সিলর সেলিম বিলুপ্ত কোনাবাড়ী ইউনিয়নের হরিণাচালা ইউনিয়নের গাড়িচালক মাহবুবুর রহমানের ছেলে। শুরুতে ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সেই সময় থেকেই নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। ইয়াবা সম্রাটখ্যাত সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা, গাজীপুর, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে তার জায়গা ও সম্পত্তি। দেশের বাইরে টাকা পাচার করেছেন বলেও সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদাবিতে রয়েছেন বহু অপকর্মের হোতা কাউন্সিলর সেলিম।

কোনাবাড়ীর হরিণাচালার ভুক্তভোগী মো. ইসমাইল হোসেন গত বছর নভেম্বর মাসে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে সেলিমের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়েছেন।

ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, কাউন্সিলর সেলিমুর রহমান সেলিম ও তার ক্যাডার রেজাউল করিম, রুবেল মিয়াসহ তাদের অনুসারীরা এলাকায় নানা ধরনের অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।

কোনাবাড়ীর হরিণাচালায় তার (ইসমাইল হোসেন) ৬৯ শতাংশ জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করে ভাড়াবাণিজ্য করছেন কাউন্সিলর সেলিমুর রহমান সেলিম।

মালিকানা সংক্রান্ত সব তথ্য-উপাত্ত থাকলেও সেখানে কাউন্সিলরের ক্যাডার বাহিনী কোনো সাইনবোর্ড রাখতে দিচ্ছে না। সাইনবোর্ড লাগালেই তারা খুলে ফেলছে। সাইনবোর্ড লাগালে খুন করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় তিনি কোনাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি)। ডিজি নম্বর ৫১৯। কিন্তু এ ব্যাপারে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় কাউন্সিলরের ক্যাডার বাহিনী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এখন কাউন্সিলরের ক্যাডাররা তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।

এছাড়া অপকর্মে জড়িত কাউন্সির সেলিমের বিরুদ্ধে গত বছরের অক্টোবর মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কানাবাড়ীর বাসিন্দা ও আওয়ামী মোটরচালক লীগের কোনাবাড়ী থানা সভাপতি মো. মঞ্জুর আলম।

অভিযোগে বলা হয়, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী সাবেক ছাত্রদল নেতা কাউন্সিলর সেলিমুর রহমান সেলিম এবং তার ক্যাডার বাহিনী রেজাউল করিম, রমজান আলী, আওয়াল মোল্লা, মো. রশিদ, মো. রুবেল, জাকিরসহ বেশকিছু বখাটে এলাকায় নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।

এসবের প্রতিবাদ করায় কাউন্সিলরের ক্যাডাররা মোটরচালক লীগের কোনাবাড়ী অফিস ভাংচুর করে। এ সময় অফিসে টানানো বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে তারা।

কাউন্সিলরের অপকর্মের প্রতিবাদ করায় মঞ্জুর আলমকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়া হয়েছে।

গাজীপুর মহানগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হেলাল উদ্দিন হেলু বলেন, সেলিমুর রহমান সেলিম ক্যাডার বাহিনী নিয়ে আমার জমিতে জোরপূর্বক সাইনবোর্ড লাগাতে আসেন। তবে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হন।

তিনি অভিযোগ করেন, কাউন্সিলর সেলিম আওয়ামী লীগে বিভেদ সৃষ্টি করে চলেছেন। তিনি জেলখানা রোডে আওয়ামী লীগের নতুন অফিস খুলে বসেছেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। কাউন্সিলরের সঙ্গে সব সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা চলাফেরা করেন। যুবলীগের কয়েকজন কর্মীকে টাকা দিয়ে সঙ্গে রেখেছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, কাউন্সিলর সেলিমের কারণে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনাবাড়ীর হরিণাচালা, দেওলিয়াবাড়ী, চমকনগর, গুচ্ছগ্রাম, জমিদার মাঠ, সাবেক পুলিশ ফাঁড়ি এলাকা থেকে শুরু করে জেলখানা রোডের পূর্ব ও পশ্চিমে ঝুটপল্লী পর্যন্ত এলাকার পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রতিটি মুহূর্তে তটস্থ থাকেন কাউন্সিলর সেলিমের ভয়ে।

হরিণাচালা এলাকার গুচ্ছগ্রাম এলাকার আবুল হোসেন বলেন, ৩০ বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করছি। নগরায়ণের ফলে কোনাবাড়ী এখন শিল্পসমৃদ্ধ ব্যস্ততম এলাকা। যাতায়াত করতে কোনো সড়কের অভাব ছিল না। এখন জমির দাম বৃদ্ধির কারণে সড়কও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

হরিণাচালাসহ আশপাশের অন্তত ৩৫ হাজার লোকজনের জন্য গুচ্ছগ্রাম ও জেলখানা রোডের পাশ দিয়ে চলাচলের সড়ক ছিল। স্থানীয় কাউন্সিলর ওই সড়কটি বন্ধ করে সড়ক দখল করে ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছেন। ফলে ওই এলাকার মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনাবাড়ী মৌজায় সরকারি বনের জমিতে ৩০ বছর ধরে বসবাস করছিল ৫৫টি ভূমিহীন পরিবার। কাউন্সিলর সেলিম তাদের উচ্ছেদ করে ওই জমিতে ট্রাকস্ট্যান্ড গড়ে তুলেছেন। সেখান থেকে মাসে তিনি কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন।

আরও জানা যায়, কাশিমপুর কারাগার সড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকান থেকে প্রতি মাসে তিন থেকে চার লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে সেলিমের ক্যাডাররা।

ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, সেলিমের লোকজন বাইরে থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান এনে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

দেওলিয়াবাড়ী এলাকার শামসুল হক বলেন, কাউন্সিলর সেলিম ও তার লোকজন আমার জমি দখল করে সেখানকার ১২টি গুদাম ভেঙে মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৫০ বান্ডেল টিন ও বিপুল পরিমাণ ঝুট কাপড় রয়েছে।

এ ঘটনার আগে আমি ও আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দেয়। এছাড়া তিনবার আমার বাড়ি ঘেরাও করে আমাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। সেলিমের ভয়ে থানায় মামলাও করতে পারিনি। কোথাও গিয়ে এর বিচারও পাইনি।

নির্বাচনের আগে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করে নির্বাচিত হয়েই প্রত্যাহার : ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনের আগে সেলিম এলাকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য বিনামূল্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করেন।

বলেছিলেন, এ অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে এলাকার রোগীদের হাসপাতালে নেয়া হবে এবং সার্ভিসটি অব্যাহত থাকবে। কিন্তু নির্বাচনের পরপরই সেই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস উধাও হয়ে যায়। স্থানীয়রা বলছেন, ভোটের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস খুলে কাউন্সিলর জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

হরিণাচালা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এই এলাকার প্রায় সব মানুষ কাউন্সিলর সেলিম ও তার ক্যাডার বাহিনীর হাতে জিম্মি। সেলিম বাহিনীর লোকদের হাতে প্রতিনিয়ত পোশাক শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ নির্যাতনের শিকার হন।

ওসির সঙ্গে কাউন্সিলর সেলিমের সখ্য : গাজীপুর মেট্রোপলিটন থানার কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. এমদাদ হোসেনের সঙ্গে কাউন্সিলর সেলিমের রয়েছে গভীর সখ্য।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, মাদক ও পতিতাবৃত্তির কাজে সেলিমকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন ওসি এমদাদ হোসেন। আর এসব করে তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, এলাকার বিভিন্ন ঝুটের গুদাম থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত সব স্থান থেকে উঠানো চাঁদার ভাগ পান ওসি। আর এ কারণেই কাউন্সিলর সেলিমের ক্যাডার বাহিনীকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে পুলিশের এসআই পদে যোগদান করেন এমদাদ হোসেন। ২০০৮ সালে এসআই থেকে পুলিশ পরিদর্শক হন।

গত দশ বছরে তিনি নরসিংদী, রায়পুরা, ফরিদপুর, সাতক্ষীরা, যশোর, ডিএমপি ডিবি ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিদর্শক (তদন্ত) ও ওসির দায়িত্ব পালন করেন।

এসব স্থানে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নানা অপকর্ম করে অনেক অর্থ উপার্জন করেন। বগুড়া সদর থানা থেকে নারায়ণগঞ্জে পোস্টিং হলেও থানায় যোগ দেয়ার সুযোগ হয়নি তার। ২০১৮ সালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ী থানায় ওসি হিসেবে যোগ দেন এমদাদ হোসেন।

আর এখানে এসেই মওকা পেয়ে যান। কাউন্সিলর সেলিমের অপকর্মের হোতা হয়ে তিনি দুই হাতে অর্থ কামাতে থাকেন। এমদাদের বাড়ি মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন পাইকপাড়া ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে। তার বাবার নাম বালা মিয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমদাদের গ্রামের বাড়িতে নির্মাণাধীন রয়েছে বিলাসবহুল একটি বাড়ি। ওই বাড়ির সব নির্মাণ সামগ্রী অর্থাৎ রড, সিমেন্ট, ইট, থাইগ্রাস, এসি, দরজা-জানালাসহ যাবতীয় মালামাল গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে পাঠানো হয়েছে। ওই ভবন নির্মাণ শ্রমিক ও নকশার প্রকৌশলীও যান কোনাবাড়ী থেকে।

এ ব্যাপারে শ্রমিক সরদার মো. দুলাল মিয়া জানান, ওসি এমদাদ তার গ্রামে আধুনিক বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণকালে কোনাবাড়ী থেকে দু’বারে শতাধিক শ্রমিক নিয়ে কাজ করিয়েছেন। যার এক-একজনের হাজিরা ছিল পাঁচ থেকে সাতশ’ টাকা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. এমদাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দুই বছর দায়িত্ব পালনকালে এখানে কোনো অনিয়ম করিনি। কারও কোনো ক্ষতিও করিনি। গাজীপুর থেকে নির্মাণ ও অন্যান্য সামগ্রী মাদারীপুর নেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

কোনাবাড়ীতে আমি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবাইকে আইনি সেবা দিয়েছি। এছাড়া বাড়ি ও অর্থ সংক্রান্ত বিষয়গুলোও সঠিক নয়। কাউন্সিলর সেলিম রহমানের সঙ্গে সখ্য ও লেনদেনের অভিযোগও সঠিক নয়।

জানতে চাইলে কাউন্সিলর সেলিমুর রহমান সেলিম যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা মিলবে না। আমি সব সময় আমার এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করি। কারও জমি দখল, মাদক ব্যবসা কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই। আমার জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে একটি মহল এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। জনগণের ভালোবাসায় আমি দু’বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। এটা অনেকে সহ্য করতে পারছেন না।’

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর