1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

ক্রেডিট কার্ডে ইচ্ছামতো সুদ, সর্বোচ্চ ২৭% আদায়

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: অন্য সব খাতে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও ক্রেডিট কার্ডে এখনো ইচ্ছামতো সুদ আদায় করছে ব্যাংকগুলো। বর্তমানে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ সুদ ২৭ শতাংশ। এর বাইরে রয়েছে নানা রকম ফি ও চার্জ। এমনকি সুদ নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালাও মানা হচ্ছে না। এটা মানলে ১ এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ সুদ হতো ১৪ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা ভেঙে বাড়তি সুদ আদায় করছে ব্যাংকগুলো। এটা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। তাই আবারও ক্রেডিট কার্ডের সুদ পুনর্র্নিধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু ফরাহ মো. নাছের বলেন, ‘ক্রেডিট কার্ড ব্যবসায় ব্যাংকের খরচ বেশি। তাই ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে ক্রেডিট কার্ডের সুদ পুনর্র্নিধারণের দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। আশা করছি, শিগগিরই এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হবে।’
ক্রেডিট কার্ডের ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে ২০১৭ সালের ১১ মে নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।ওই নীতিমালায় বলা হয়, বিদ্যমান ভোক্তা ঋণের সর্বোচ্চ সুদের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বেশি সুদ হবে ক্রেডিট কার্ডে। এই বিষয়ে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে তখনই আপত্তি তোলার পর একই বছরের ৩ আগস্ট সংশোধনী এনে বলা হয়, অন্য যেকোনো ঋণের সর্বোচ্চ সুদের তুলনায় ক্রেডিট কার্ডে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বেশি সুদ নিতে পারবে ব্যাংকগুলো। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে এটা কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু গত আড়াই বছরেও নীতিমালা অনুযায়ী সুদহার কার্যকর করেনি ব্যাংকগুলো।

ওই নীতিমালা কার্যকর হলে এখন ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ সুদ হতো ১৪ শতাংশ। কেননা গত ১ এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য সব ঋণের সর্বোচ্চ সুদ ৯ শতাংশ ঠিক করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ১ এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ সুদ হওয়ার কথা ১৪ শতাংশ। তবে এই নির্দেশনা অমান্য করে ক্রেডিট কার্ডে ব্যাংকগুলো আগের মতোই ২৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে। এভাবে বছরের পর বছর ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের সঙ্গে অবিচার করছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর বক্তব্য হলো—এ সেবা পরিচালনায় খরচ অনেক বেশি। এখানে অনেক জনবল খাটাতে হয়। কল সেন্টারের সেবা দিতে হয়। তাই ১৪ শতাংশ সুদে এই সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অন্য সব খাতে ঋণের সুদ ৯ শতাংশ হওয়ায় নীতিমালা অনুযায়ী ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ সুদ হয় ১৪ শতাংশ। কিন্তু এই ১৪ শতাংশ সুদে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবসা করা সম্ভব নয়। কারণ ক্রেডিট কার্ড ব্যবসা পরিচালনার খরচ অনেক বেশি।’ তিনি বলেন, ‘ক্রেডিট কার্ড লাইফস্টাইল প্রডাক্ট। পৃথিবীর সব জায়গায় এর সুদের হার ২২-২৩ শতাংশ। তাই আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এই সেবার সুদের হার পুনর্র্নিধারণের দাবি জানিয়েছি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’

বর্তমানে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা প্রায় ৬০টি। এর মধ্যে ৩৫টি ব্যাংকেরই ক্রেডিট কার্ডের সেবা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত জুলাই মাসে বেসরকারি ও বিদেশি খাতের ২৬টি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের সুদ ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এর মধ্যে ২৪টিই বেসরকারি খাতের ব্যাংক। এই সময়ে ২৭ শতাংশ সুদ নিয়েছে পাঁচটি ব্যাংক। সাড়ে ২৬ শতাংশ নিয়েছে একটি ব্যাংক। ২৬ শতাংশ নিয়েছে দুটি ব্যাংক। সাড়ে ২৫ শতাংশ নিচ্ছে একটি। চারটি ব্যাংকের সুদহার রয়েছে ২৫ শতাংশ। ২৪.৯৬ শতাংশ সুদারোপ করেছে একটি। ২৪ শতাংশ নিয়েছে ১২টি। এ ছাড়া ১৮ থেকে ২২ শতাংশ নিয়েছে চারটি ও ১৫ থেকে ১৭ শতাংশের মধ্যে ছিল দুটির সুদ। তবে বেসরকারি ও সরকারি মিলিয়ে চারটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের সুদ নির্ধারিত ১৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। শুধু বেশি সুদ আদায়ই নয়, ক্রেডিট কার্ডে বাড়তি ফি ও চার্জ নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। যেমন : করোনা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ছিল, ১৫ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বিলের বিপরীতে কোনো ধরনের বিলম্ব ফি বা চার্জ নেওয়া যাবে না। তবে এই নির্দেশনা কাগজেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ করেন ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা। তাঁদের দাবি, এপ্রিল ও মে এই দুই মাস সব ধরনের ঋণের সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের সুদ আদায় স্থগিত রাখার নির্দেশনা থাকলেও সেটিও মানা হয়নি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ করার পরও সুদ নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি তাঁরা।

যখন খুশি তখন কেনাকাটাসহ নানা রকম সুবিধা মেলায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ছে মানুষের। ফলে দিন দিন এই সেবায় গ্রাহকসংখ্যাও বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের এপ্রিল শেষে ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮২৩ জন।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর