1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

ডেইরি খবর ডেস্ক: খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আদালতের বিচারে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়ার দাবিতে তার দল রাজপথের আন্দোলনে নেমেছে। সরকার বলছে,আইনের আওতায় তা সম্ভব নয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের বাইরে বিএনপি নেতারাও অনেক কথা বলছেন। গুরুতর আশঙ্কা ব্যক্ত করা হচ্ছে। তার স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশে উত্তেজনার পারদ ওপরে উঠছে। সমকাল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় তরফ থেকে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি এ ব্যাপারে সর্বশেষ তথ্য জানার পাশাপাশি সংশ্নিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিচ্ছেন।আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের কয়েকজন এমন তথ্য জানিয়ে বলেছেন,খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে বর্তমান সরকার বেশ আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও এ বিষয়ে মানবতা দেখিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতাবলে বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারামুক্তি দিয়ে বাসায় থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে তার চিকিৎসার দাবি করছে বিএনপি। কিন্তু আইনের বাইরে গিয়ে দন্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৭ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বলেছেন,সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি খালেদা জিয়ার জন্য যতটুকু করার ছিল,সেটা করেছেন। বাকিটুকু আইনের বিষয়। এ ব্যাপারে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক গত ১৬ নভেম্বর সংসদে বলেছেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে হলে খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফিরে যেতে হবে। সেইসঙ্গে নতুন করে আবেদন করতে হবে। সেই আবেদন বিবেচনা করে দেখবে সরকার।
বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসা দেওয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘরানার পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারক মহল নিজেদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে নানামুখী আলাপ-আলোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করছেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর দু’জন সদস্য এবং মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বিএনপির দাবি অনুযায়ী খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তাই তার কোনো অঘটন ঘটে গেলে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হতে পারে, সেটা নিয়েও আগাম চিন্তাভাবনা চলছে সরকার ও আওয়ামী লীগে। সে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রস্তুতিও রয়েছে। সেইসঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে করণীয় বিষয়াদি নিয়েও অল্পবিস্তর আলোচনা হচ্ছে। সতর্ক দৃষ্টিও রয়েছে।
খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়ার দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন। তারা বলেছেন,বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শীর্ষ পর্যায়ের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং সেই বোর্ড পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে মনে হচ্ছে, তারা এখন চিকিৎসক বনে গেছেন। খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে দাবি করছেন। অথচ এ বিষয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কিছু বলেননি। আগেও অসুস্থ হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তখনও বিদেশ না পাঠালে তাকে বাঁচানো যাবে না বলে দাবি করেছিল বিএনপি। অথচ দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এখনও বিএনপি সেই আগের মতো একই দাবি করছে। আসলে খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়ার দাবি তার স্বাস্থ্যগত কারণে নয়, এই দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে তার চিকিৎসার দাবিতে বিএনপির আন্দোলনের হুমকির বিষয়টি মোটেই গুরুত্ব দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। এর পাল্টা জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে আন্দোলন ও সরকার পতনের হুমকি দিয়ে আসছে বিএনপি। কিন্তু এ নিয়ে সরকার ও জনমনে কোনো উদ্বেগ কিংবা আগ্রহ তৈরি হয়নি।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা জানিয়েছেন,বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার বিষয়টি মানবিকভাবেই দেখছে আওয়ামী লীগ। তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হিংসাত্মক ভূমিকার কথা ভুলে গেলে চলবে না। খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বাসায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। অথচ ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন এই খালেদা জিয়াই। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার না করে খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারির একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল রশিদকে বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসিয়েছিলেন। ২০০০ সালে কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রেখে এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন শেখ হাসিনাকে।সমকাল

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর