1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১২:১৫ অপরাহ্ন

খেলাপি ঋণে জর্জরিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ হিসাবে দেশের ৩৪টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (এনবিএফআই) মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণই হচ্ছে ১১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা।

চলতি বছরের জুন শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৬৯ হাজার ৩৩১ কোটি ৭২ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বিতরণ করা ঋণের ২৩ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

শেষ প্রান্তিকে, অর্থাৎ তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।

দেশে বর্তমানে ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ছয়টির অবস্থা একেবারেই নাজুক।

গত কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এ খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের তালিকায় আছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফসি)। মোট বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৯৬ দশমিক ৭৭ শতাংশই খেলাপি। বিআইএফসির বিতরণ করার ঋণের মধ্যে খেলাপি ৭৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার। এর মধ্যে মন্দ ঋণ ৭৫১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের (এফএফআইএল) বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৯৩ দশমিক ২১ শতাংশই খেলাপি। ফারইস্ট ফাইন্যান্সের মোট বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি ৮৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণ ৬১৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৮৯ দশমিক ৬৯ শতাংশই খেলাপি। ৮২০ কোটি ৪৭ লাখ টাকার খেলাপি ঋণের মধ্যে ৭৩৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকাই মন্দ ঋণ।

এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৮৯ দশমিক ১৬ শতাংশই খেলাপি। প্রতিষ্ঠানটির মোট খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৭২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৭০৯ কোটি ২৫ লাখ টাকাই মন্দ ঋণ।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৬৩ শতাংশই খেলাপি। ৩ হাজার ১৫১ কোটি ২৮ লাখ টাকা খেলাপির মধ্যে মন্দ ঋণ ২ হাজার ৮৭৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৬৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ খেলাপি। মোট ৯১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার খেলাপির মধ্য মন্দ ঋণ ৬৩০ কোটি ১১ লাখ টাকা।

এই ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি থেকেই নামে-বেনামে ঋণ নিয়েছিলেন বহুল আলোচিত ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া পি কে হালদার।

প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি।

এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মুনতাসির কামাল বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নানা রকমের কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়েছে। ফলে এই খাতে সুশাসনের যথেষ্ট অভাব আছে।’

তিনি বলেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কাদের, কীভাবে এবং কিসের ভিত্তিতে লোন দিচ্ছে, এই বিষয়গুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকির প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি।’

মুনতাসির কামাল আরও বলেন, ‘সার্বিকভাবে আর্থিক খাতের সবার মধ্যে আস্থার অভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের জন্য এই আস্থার অভাবে এক দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, হাতে গোনা কিছু প্রতিষ্ঠানের কারণে এ খাতে অরাজকতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা খারাপ নয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অনেক ভালো করছে। তবে আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করার কোনো বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর