1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৮ অপরাহ্ন

জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবস আজ

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: মানুষ আর মানুষের হৃদয়কে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রেখে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন-‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই’। আবার তার কলম থেকেই বেরিয়ে এসেছিল বজ্রনির্ঘোষ আহ্বান- ‘জাগো অনশন-বন্দি, ওঠ রে যত জগতের বঞ্চিত ভাগ্যহত’। আজ ১২ ভাদ্র; প্রেম ও বিদ্রোহের অমর কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৬তম প্রয়াণ দিবস।
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় জন্ম নেন কাজী নজরুল ইসলাম। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) ৭৭ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও আলাদা বাণী দিয়েছেন।
ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধেও নজরুলের কবিতা-গান জনগণকে উজ্জীবিত করেছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় তিনি লিখে গেছেন ইসলামী গজল আর শ্যামা সংগীত। বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের হাত ধরে। সাহিত্য হয় সমৃদ্ধ। শুধু কবিতা ও গানেই তিনি নিজেকে সীমিত রাখেননি; লিখেছেন নাটক-উপন্যাসও। তিনি সমৃদ্ধ করেছিলেন বাংলা শিশুসাহিত্যকেও।
নজরুল তার কবিতা,গান ও উপন্যাসে এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরাধীন ভারতে সোচ্চার ছিলেন সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে। কবিতা লিখে জেলও খেটেছেন তিনি। প্রথম মহাযুদ্ধে ১৯১৭ সালে নজরুল ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯২০ সালের মার্চ অবধি যুদ্ধের ময়দানে সক্রিয় ছিলেন। ১৯২১ সালের নভেম্বরে তিনি মুজফ্ফর আহ্মদের সঙ্গে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। এই সময়ে তিনি রচনা করেন তার বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’, ‘ভাঙার গান’। ১৯২২ সালের শেষদিকে কারাবন্দি হওয়ার পর কমিউনিস্ট পার্টি গঠন প্রক্রিয়া থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তবে পর ১৯২৬ সালে মুজফ্ফর আহ্মদের অনুরোধে তিনি কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক সংগীতের অনুবাদ (জাগো অনশন-বন্দি) করেন, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তার রচিত ‘চল চল চল!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’ বাংলাদেশের রণসংগীত। একের পর এক তিনি লিখেছেন’অগ্নিবীণা’,’বিষের বাঁশি’,’চক্রবাক’,’সঞ্চিতা’,’প্রলয় শিখা’,মরুভাস্কর’,’দোলনচাঁপা’,’ভাঙারগান’,’সাম্যবাদী’, ‘পুবের হাওয়া’, ‘ব্যথার দান’, ‘রিক্তের বেদন’, ‘বাঁধনহারা’,মৃত্যুক্ষুধা’,’কুহেলিকা’ ইত্যাদি।
ছেলেবেলায় দারিদ্র্যে কাটলেও কখনও লোভ-লালসা,খ্যাতি বা অর্থের কাছে মাথা নত করেননি কাজী নজরুল ইসলাম। কথা বলেছেন শোষিত-বঞ্চিত মানুষের পক্ষে। মুক্তবুদ্ধি ও চিন্তার পক্ষে কলম ধরেছেন নির্ভীক চিত্তে। ১৯৪২ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বাকশক্তি হারান। ১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। এর আগে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সেখানকার সর্বোচ্চ পুরস্কার জগত্তারিণী স্বর্ণপদক প্রদান করে। ১৯৬০ সালে ভারত সরকার তাকে ভূষিত করে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মাননায়। ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে দেওয়া হয় একুশে পদক। মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয় কবিকে।
কর্মসূচি :জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। আজ সকালে বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বিকেলে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে অনলাইনে হবে নজরুলবিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। কবি নজরুল ইনস্টিটিউটও এ উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ‘স্মৃতি কক্ষ’ উদ্বোধন করা হবে। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন, বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলেও কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হবে। বিভিন্ন সংবাদপত্রেও থাকবে বিশেষ আয়োজন।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর