1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

জাফরুল্লাহতে ‘সর্বনাশ’ বিএনপির সিরাজের

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদ হারালেন জি এম সিরাজ এমপি। সপ্তাহ খানেকের বেশি সময় আগে ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডা. জাফরুল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পরদিনই দলীয় পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ওই সাক্ষাতের ছবি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দিলেও পরে তা সরিয়ে ফেলেন জি এম সিরাজ। জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার আগেই আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়কের পদ হারানোর ঘটনা নিয়ে দলের ভেতর চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে গত ১৩ নভেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি রদবদলের কথা জানানো হয়। আড়াই বছর আগে সিরাজকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

একসময় বিএনপির বন্ধু হিসেবে পরিচিত হলেও পরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে বেশ আলোচিত হন ডা. জাফরুল্লাহ। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনাকারী জাফরুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করায় জি এম সিরাজ পদ হারান বলে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয় থেকে লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং করেছেন বগুড়া জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক রেজাউল করিম বাদশা ও অন্য নেতারা।

অবশ্য বগুড়া-৬ আসনের সাংসদ জি এম সিরাজ বলছেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তার হাসপাতালে নিজের নির্বাচনী এলাকার অনেক রোগীকে চিকিৎসার জন্য পাঠান। দু’জন রোগী দেখানোর জন্য সেদিন সেখানে গিয়েছিলেন। পরে ডা. জাফরুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কী জন্য তাকে জেলার শীর্ষ পদ থেকে বাদ দেওয়া হলো- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দল যা ভালো মনে করেছে, তা-ই করেছে। আমি ষড়যন্ত্র করতে গেলে সাক্ষাতের ছবি ফেসবুকে দিতাম না।’

এ বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতারা কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। এর সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জড়িত বলে এটাকে ‘স্পর্শকাতর ইস্যু’ মনে করছেন তারা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশেই জি এম সিরাজকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডা. জাফরুল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাতের ছবি দেখে তারেক রহমান ক্ষুব্ধ হন। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি।

সূত্র জানায়, গত ১২ নভেম্বর জি এম সিরাজ অসুস্থ ডা. জাফরুল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি প্রায় আধঘণ্টা অবস্থান করেন। এ সময় ডা. জাফরুল্লাহর শারীরিক খোঁজখবর নেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন তারা। পরদিনই তাকে জেলার আহ্বায়ক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি এবং সমমনা দল নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা বলা হয় ডা. জাফরুল্লাহকে। তবে নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে।

গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্র মেনে তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে আছেন। গত জুনে ডা. জাফরুল্লাহ বলেছেন, তারেক রহমান দুই বছর চুপচাপ বসে থাকুক, বিলেতে লেখাপড়ায় যুক্ত হয়ে যাক।

গত ২৬ জুন তারেক রহমানের নেতৃত্বের সমালোচনা করায় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ডা. জাফরুল্লাহকে বক্তব্য দিতে দেননি। এর আগেও একাধিকবার তারেক রহমানের নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন তিনি। বলেছেন, লন্ডন থেকে ওহি নিয়ে দল চালানো যাবে না। তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন গড়ে তুলতে বিএনপির নেতৃত্বের ব্যর্থতারও সমালোচনা করেছেন একাধিকবার। তিনি তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকেও বিএনপির নেতৃত্বে আনার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকবার।

গত সেপ্টেম্বরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সমালোচনা করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘বেচারা বাড়ির চাকরবাকরের মতো আছে। ভাবছে চাকরি চলে যাবে।’ জবাবে মির্জা ফখরুল ডা. জাফরুল্লাহকে উল্টাপাল্টা কথা না বলতে অনুরোধ করেন।

অব্যাহতির কারণ জানেন না স্থানীয় নেতাকর্মীরা: বগুড়া ব্যুরো জানায়, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদ থেকে জি এম সিরাজকে হঠাৎ করেই সরিয়ে দেওয়ার কারণ এখনও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অজানা। ওই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে গত ১৩ নভেম্বরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জি এম সিরাজকে সরিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে নতুন আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া পুনর্গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের আরও একটি পদ সৃষ্টিসহ সদস্য পদে নতুন করে দু’জনকে অন্তর্ভুক্ত করে ৩৫ সদস্যের কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়। পুনর্গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে তৃতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনকে।

দলীয় সূত্র জানায়, বগুড়ায় বিএনপিকে পুনর্গঠনের জন্য ২০১৯ সালের ১৫ মে সাংসদ জি এম সিরাজের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি। এর আগেই তার মতো একজন সিনিয়র সাংসদকে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের পদ থেকে এভাবে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো, তা জানতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও উদ্‌গ্রিব। এ নিয়ে তারা জেলা নেতাদের কাছে প্রশ্ন করেও কোনো উত্তর পাচ্ছেন না। আর বিষয়টি নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল কোনো নেতাও গণমাধ্যমে স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না।

অবশ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেছেন, জি এম সিরাজ ব্যবসায়িক কারণে বগুড়ায় দলকে সময় দিতে পারছিলেন না বলেই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার ঘনিষ্ঠরা দাবি করেছেন, খুব শিগগির তাকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সে কারণেই বগুড়া জেলা বিএনপির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির এই সিদ্ধান্ত।

এদিকে সিরাজকে ছাড়াই বগুড়া বিএনপির নতুন আহ্বায়কের নেতৃত্বে জেলা কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা গতকাল তারেক রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। এতে নতুন করে আরও অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

দলের অনেকে অবশ্য জাতীয় সংসদে দেওয়া জি এম সিরাজের একটি বক্তব্যকে তার পদচ্যুতির কারণ বলেও মনে করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা গেছে, জি এম সিরাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘আমার নেতা’ বলে সম্বোধন করেছেন। এরপর তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ছাত্রজীবনে আমি যখন ঢাকা কলেজে ছিলাম ১৯৬৬ সালে; তখন ব্যাক বেঞ্চার ছাত্রলীগের একজন ছোট্ট কর্মী ছিলাম… সেই ছাত্রজীবনে বঙ্গবন্ধুর কথা সেই যৌবনে এবং আজকের এই বৃদ্ধ বয়সে আমার হৃদয়ে আমি এখনও ধারণ করি…।’

তবে যোগাযোগ করা হলে জি এম সিরাজ জানান, সংসদে দেওয়া ওই বক্তব্যের কারণে তাকে আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের জন্য যেটা ভালো মনে করেছেন, তিনি সেটাই করেছেন। যেহেতু আমরা দলের কর্মী, তাই দলের সিদ্ধান্ত আমাদের মানতেই হবে।’

গতকাল জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের ভার্চুয়াল মিটিংয়ে তার অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা শুধু বগুড়া জেলার আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মিটিং ছিল। যেখানে অন্য কারও থাকার সুযোগ নেই। এ কারণে বগুড়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার যে দু’জন উপদেষ্টাকেও ওই বৈঠকে ডাকা হয়নি।’

জি এম সিরাজকে বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান হারেজ বলেন, ‘দলকে যে সময় দেওয়া দরকার, সেটা হয়তো তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। সে কারণেই ওই পদে পরিবর্তন আনা হতে পারে।’

রোববার রাতে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে সাংসদ জি এম সিরাজ প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান নতুন আহ্বায়ক রেজাউল করিম বাদশা। তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জি এম সিরাজকে নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

বগুড়া জেলা বিএনপির অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলার কাহালু-নন্দীগ্রাম আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, বৈঠকে তারেক রহমান দ্রুত বগুড়া জেলা বিএনপির পুনর্গঠনের কাজ শেষ করতে বলেছেন।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর