1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

ঝিমিয়ে পড়েছে রাজারবাগ পীরের আস্তানা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

আগে সারাক্ষণ ভক্ত আর পীরের মুরিদদের ভিড় ছিল প্রধান গেটে। ছিল আনাগোনাও। সারাক্ষণ পাহারায় থাকত গায়ে জোব্বা ও মাথায় সবুজ পাগড়িওয়ালা বিভিন্ন সেবক। কিন্তু এখন অনেকটাই নিশ্চুপ ও নীরব হয়ে গেছে রাজারবাগের কথিত পীরের আস্তানা। প্রধান গেটে সুন্নত প্রচারের ব্যানার ঝুলিয়ে রাখা হলেও তাতে সাড়া মিলছে না। মঙ্গলবার পীরের আস্তানার আশপাশে প্রায় কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

আদালত রাজারবাগের পীর দিল্লুর রহমানের সম্পদের উৎস জানতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভণ্ড এই পীরের দুর্নীতি ও অর্থ লুটের সংবাদ প্রচার হওয়ায় মনোবল ভেঙে গেছে মুরিদ ও সেবকদের। ফলে বদলে গেছে আস্তানার দৃশ্যপট। মঙ্গলবার দুপুরে আস্তানার প্রধান গেটের পাশে আচারের দোকানি ষাটোর্ধ্ব আনসার আলীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল।

তার মতে, দিল্লুর রহমান পীর একজন বড় বুজুর্গ। তার মতো বড় আউলিয়া নাকি এই পৃথিবীতে আর কখনও আসেনি। এই কথিত পীর সারাক্ষণ আস্তানায় থাকেন না। তার সারা দেশসহ পৃথিবীতে নাকি অসংখ্য ভক্ত। তাদের ওয়াজ-নসিহত করেই তিনি সারা বছর কাটিয়ে দেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি আদালতে কোনো নির্দেশের কথা জানেন কিনা। এমন কথা শুনে তিনি বেশ রাগান্বিত হয়ে বলা শুরু করলেন, ‘কত মামলাই তো হইল, কই কিছু করবার পারছে। আমাগো হুজুরের সঙ্গে আল্লাহ আছে। কিছু হইব না।’

এরপর প্রধান গেট দিয়ে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টাকালে কয়েকজন মুরিদ এই প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, কেন এসেছি, কেন ভেতরে যাব নানা প্রশ্ন করতে থাকেন। এক পর্যায় গণমাধ্যম কর্মী পরিচয় দিলে তারা বলে ওঠেন, দ্রুত বের হয়ে যান। আপনারা তো আমাদের সম্পর্কে ভুল সংবাদ প্রচার করেন।

বেলা ৩টা থেকে সেখানে ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা গেছে, প্রধান গেটের বাইরে কয়েকটি মধু ও সিরকা বিক্রিকারী কথিত পীরের আস্তানার গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। এর মাঝেই দেখা মিলল দুটি মাইক্রোবাসের। যার সামনে প্রেস (মিডিয়া) লেখা। একটি সায়ান আরেকটি নীল রঙের। গাড়ি দুটির নম্বরগুলো যথাক্রমে (ঢাকা মেট্রো-ক-০৫-৪২৭৯) ও (ঢাকা মেট্রো-ঘ-৪৭১৩)। একজন মুরিদ জানালেন, তাদের বাইয়্যিনাত নামে একটি প্রকাশিত একটি পত্রিকার গাড়ি হিসেবে মাইক্রোবাস দুটি তারা ব্যবহার করতেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে পড়ে আছে। আস্তানার সামনে রাজারবাগ ফ্লাইওভারের নিচে কথিত পীরের মধু ও সিরকা বিক্রিকারী ৫টি গাড়ির মেরামত চলছিল।

সুজন নামে এক কারিগরের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আগে তাদের প্রায় হাজারখানেক গাড়ি থাকলেও এখন কমে গেছে। আগের মতো বিক্রি নেই। এখন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র এক থেকে দেড়শতে। তার সঙ্গে কথা বলার ফাঁকেই একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি চোখে পড়ল।

তিনি জানালেন, গাড়িটা তাদের কথিত পীর নিজেই ব্যবহার করতেন। এখন সেটিও পড়ে আছে। গাড়িটির নম্বর-ঢাকা মেট্রো-খ-৮০২৩। আস্তানার আশপাশে যত দোকানপাট গড়ে উঠেছে তার অধিকাংশই চালান কথিত পীরের মুরিদ ও ভক্তরা। এই ভক্ত ও মুরিদরা সারাক্ষণ বিভিন্ন মানুষের আনাগোনা দেখভাল করেন বলে জানালেন এক পুলিশ সদস্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত আরেক পুলিশ সদস্য জানালেন, ভক্ত ও মুরিদদের অত্যাচারে আগে সাধারণ মানুষ রাস্তায় ভালোভাবে চলাচল করতে পারত না। সারাক্ষণ সেই রাস্তায় যানজট লেগে থাকত। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে আস্তানা ঝিমিয়ে পড়েছে। আগের মতো এখন আর ভক্তরা আসেন না। ভিড়ও জমান না। সবুজ পাগড়ি ও জোব্বাওয়ালা আস্তানার কয়েকজন সেবক ও মুরিদ জানান, তাদের আস্তানায় হানা দেওয়ার মতো কারও সাহস নেই। তাই আদালত যত নির্দেশই দিক না কেন তাদের কিছুই হবে না। তাদের দাবি, কথিত পীর কোনো হাদিয়া নেন না, তবে কেউ জোর করে দিলে না করতে পারেন না।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর