1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

ডিপার্টমেন্টে আমিই গড,পরীক্ষার খাতা ছিঁড়ে ফেলে দেবো’ প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১
  • ১২৮ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: ডিপার্টমেন্টে আমিই গড,পরীক্ষার খাতা ছিঁড়ে ফেলে দেবো’। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের গড শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনকে অভিযুক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
এদিকে শিক্ষক ফারহানাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের ভবনগুলোতে তালা দিয়ে বাইরে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ৮ ঘণ্টা ধরে একটি ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন ৩০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। দুপুরের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজন আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন।গত ২৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ১৪ শিক্ষার্থীকে জোর করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সব পরীক্ষা বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফারহানাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এই ঘটনার তদন্তের জন্য রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌসকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,২৬ সেপ্টেম্বর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা হলে প্রবেশপথে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন নিজ হাতে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন।তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী বলেন,তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়ে গত শুক্রবার তাঁরা সিন্ডিকেট সভা করেছিলেন। সেখানে আইনগত বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য ১০ কার্যদিবস সময় নিয়ে সভা মুলতবি করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি তদন্ত দল বিষয়টি তদন্ত করতে ক্যাম্পাসে আসবে। তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে ফারহানা ইয়াসমিনকে ফোন করা হলে তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।এদিকে ফারহানা ইয়াসমিনকে স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে তিন দিন ধরে আমরণ অনশন করছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের বিসিক মোড় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন ও কান্দাপাড়া এলাকায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বাইরে অবস্থান নেন তাঁরা। এ সময় গতকাল বেলা ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রারসহ ৩০ জন শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-১-এ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। দুপুরের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শামীম হোসেন বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে একই বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবিদ হাসান নামের আরেক ছাত্র বেøড দিয়ে হাত কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে অন্যরা তাঁকে নিবৃত্ত করেন।শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা কোষাধ্যক্ষ আবদুল লতিফ বলেন,‘রেজিস্ট্রার সাহেব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছি। উল্লেখ্য-চুল কেটে দেওয়ার আগে এ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বলেণ,ডিপার্টমেন্টে আমিই গড,পরীক্ষার খাতা ছিঁড়ে ফেলে দেবো’রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন তার ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের বলেছেন‘লাথি মেরে চারতলা থেকে ফেলে দেবো’,তোর বাবার চাকরি খেয়ে ফেলবো‘১০ বছরেও ইউনিভার্সিটি থেকে বের হতে পারবে না‘আমার ডিপার্টমেন্টে আমিই গড‘পরীক্ষা দিয়ে যাবা,খাতা ছিঁড়ে ফেলে দেবো।এছাড়াও এই শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী।গত ২৯ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীর এমন অভিযোগ করেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন,ওই শিক্ষক আমাদের বাবা-মা এমনকি জন্মের পরিচয় তুলেও গালি দেন। ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলেন। তার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করলে তিনি পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখান। সুত্র-প্রথমআলো

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর