1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০২৩, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

ডুবতে যাচ্ছে পদ্মা লাইফ

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

আইনের তোয়াক্কা না করে বীমার দাবি পরিশোধের কথা বলে ঋণ নিয়েও পরিশোধ না করাসহ নানা অনিয়মে বিপর্যস্ত পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় অতিরিক্ত বেড়েছে ও লাইফ ফান্ডের আকার অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পর্যবেক্ষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, জীবন বীমা খাতের বড় এ প্রতিষ্ঠান ১০ বছর ধরে নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করছে। এই সময়ে মোট ১৩২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এই অর্থ পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পকেটে গেছে বলে মনে করছে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

জীবন বীমা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা, ব্যয়েও আলাদা আলাদা খাত আছে। প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম ও নবায়ন প্রিমিয়াম কত ব্যয় করা যাবে, তার সীমা নির্ধারণ আছে আইনে। কিন্তু তার কিছুই তোয়াক্কা করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইডিআরএর সাবেক কর্মকর্তা গোকুল চাঁদ দাস বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি হলে লাইফ ফান্ডের আকার কমবেই। বীমা কোম্পানি বছরে কত টাকা ব্যয় করতে পারবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফলে নির্দেশনা অমান্য করলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, প্রিমিয়ামের টাকা থেকে ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বাদ দিয়ে বাকি টাকা লাইফ ফান্ডে যাবে। লাইফ ফান্ডের আকারের চেয়ে যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের প্রিমিয়াম পরিশোধের পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে বুঝতে হবে ওই প্রতিষ্ঠানে নিশ্চয়ই বড় ধরনের সমস্যা আছে। সেই প্রতিষ্ঠান খুব বেশি দূর এগোতে পারবে না এবং প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা তাদের বীমা দাবির টাকা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে।

আইডিআরএর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে বড় ধরনের অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে ডেকে গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধে তারা কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি তিন মাস সময় চেয়েছে।

পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১২ সালে কোম্পানির লাইফ ফান্ড ছিল ২৬৬ কোটি টাকার বেশি, অথচ ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি টাকা। পর্যবেক্ষণ বলছে, প্রিমিয়াম আয় ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় কোম্পানিটির আয় কমেছে। কিন্তু একই সময়ে তারা সীমার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করে যাচ্ছে।

আইডিআরএ বলছে, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ৫০ হাজার ৭১০ পলিসির বিপরীতে প্রায় ১০২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ফলে মাত্র ১২ কোটি টাকা লাইফ ফান্ড নিয়ে একটি কোম্পানি কীভাবে ৫ বছরে ১০২ কোটি টাকার দাবি পরিশোধ করবে, তা নিয়ে পুরো বীমা খাতেই সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আইডিআরএর অনুমোদন ছাড়াই পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ১২৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে পদ্মা লাইফ। পদ্মা লাইফ বলছে, গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করতে এই ঋণ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যেভাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রাহকরা দাবি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ আসছে, তাতে ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া ও ঋণের টাকা কোথায় ব্যবহার হচ্ছে, তা নিয়েও সন্দেহ আছে।

২০২০ ও ২০২১ সালে ওই পাঁচ কোম্পানির কাছ থেকে ১২৪ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল। তবে বীমা প্রতিষ্ঠানটির বহু সংখ্যক গ্রাহক টাকা পাচ্ছে না, ফলে ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া ও ঋণের টাকা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পদ্মা লাইফের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে অপরিশোধিত বীমা দাবি ছিল ৩৬ কোটি টাকার। আইডিআরএ বলছে, ২০২২ সালে অপরিশোধিত বীমা দাবির পরিমাণ ২৩ কোটি টাকা। ১২৪ কোটি টাকা ঋণ নিলেও প্রতিষ্ঠানটি এক বছরে গ্রাহককে মাত্র ১৩ কোটি টাকা দিয়েছে। ফলে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে, এই ১২৪ কোটি টাকা ঋণের অর্থও পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সম্মিলিতভাবে লোপাট করেছে।

শুধু তাই নয়, নির্ধারিত প্রিমিয়ামের ওপর অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিয়েছে বলেও আইডিআরএর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, পদ্মা লাইফ ২০২১ সালে প্রথম বর্ষের প্রিমিয়ামের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ প্রিমিয়াম প্রদান করেছে।

অলাভজনক খাতে বেশি বিনিয়োগ করায় খুব বেশি আয় করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। আইডিআরএর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পদ্মা লাইফের মোট সম্পদের ১৮ শতাংশ অর্থাৎ ৫৬ কোটি টাকা এমন খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে, যেখান থেকে কোম্পানি লভ্যাংশ পেতে পারে। কিন্তু বাকি ৮২ শতাংশ সম্পদ থেকে তারা লভ্যাংশ পাচ্ছে না। এমন অ্যাসেট মিক্সের কারণে গত কয়েক বছরে বিপুল আয় হারিয়েছে কোম্পানিটি। এ ছাড়া স্থায়ী সম্পত্তি খাতে পদ্মা লাইফের মোট সম্পদের ৫৪ শতাংশ পুঞ্জীভূত আছে, যেখান থেকেও তারা কোনো ধরনের মুনাফা পাচ্ছে না। তাই আইডিআরএ স্থায়ী সম্পদ খাতে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদ বরাদ্দ রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

আবার পদ্মা লাইফের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩১৫ কোটি টাকা হলেও তার লাইফ ফান্ড মাত্র ১২ কোটি টাকা। আইডিআরএ মনে করছে, এই হিসাব সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিনিয়োগ থেকে পাওয়া মুনাফার হারও কমেছে পদ্মা লাইফের। ২০২১ সালে যেখানে তাদের মুনাফার হার ছিল ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ, সেখানে ২০২১ সালে তা ৩ দশমিক ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০১৯ ও ২০২০ সালে যা ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৯৬ ও ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোর্শেদ আলম সিদ্দিক বলেন, দায় পরিশোধের জন্য আমরা বেশকিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। আগামী ৫ বছরের মধ্যে ব্যবসা বাড়িয়ে দায় পরিশোধ করব। ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও সে অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগির সব সমস্যার সমাধান হবে।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর