1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০১ অপরাহ্ন

‘ডোন্ট টাচ মাই ড্রেস’

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর নারীদের পোশাকের ওপর যে বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে; তার বিরুদ্ধে অনন্য প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন দুনিয়ায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আফগান নারীরা। ঐতিহ্যবাহী বর্ণময় সব পোশাকে নিজেদের সাজিয়ে তারা হাজির হচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাদের দাবি, বোরকা নয়, এগুলোই আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। তালেবানকে হুঁশিয়ার করে তারা বলছেন, ‘আমার পোশাকে হাত দিও না।’ ‘ডোন্ট টাচ মাই ক্লথ’ কিংবা ‘আফগানিস্তান কালচার’ হ্যাশট্যাগে ফেসবুক-টুইটারে চলছে এই প্রতিবাদ। এদিকে নারীদের তালেবান পক্ষে মাঠে নামতে বাধ্য করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তালেবানের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা দাবি করেছেন, নারীদের পুরুষের পাশাপাশি একসঙ্গে কাজ করা উচিত নয়।

৯০ দশকে পূর্ববর্তী শাসনকালে তালেবান আফগান নারীদের বোরকা বাধ্যতামূলক করেছিল। এবার কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নতুন তালেবান সরকার ঘোষণা করেছে শরিয়া আইন মেনে বোরখা পরে মেয়েরা কাজে যোগ দিতে পারবেন। কিন্তু আফগান মেয়েরা অভিনব প্রতিবাদের মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন, বৈচিত্র্যময় ওইসব পোশাকই আফগানিস্তানের ঐতিহ্য।

কট্টরপন্থী গোষ্ঠী তালেবান দুই দশকের ব্যবধানে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় বসার পর নারীর স্বাধীনভাবে চলার পথ সঙ্কুচিত হয়েছে। প্রতিবাদে আফগান নারীরা তালেবানের বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভেও নেমেছে। এর বিপরীতে তালেবানের পক্ষেও হিজাব-বোরকায় আচ্ছাদিত একদল নারীও কাবুলে সমাবেশ করে। যদিও নারীদের মিছিলে নামতে তালেবান বাধ্য করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তালেবানপন্থি সেই নারী সমাবেশ থেকে বলা হয়, ‘মেকআপ নিয়ে আধুনিক পোশাক পরা আফগানিস্তানের মুসলিম নারীদের প্রতিচ্ছবি নয়’ এবং ‘শরিয়া আইনের বিরোধী বিদেশি নারী অধিকার আমরা চাই না’।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, সেই সমাবেশের পরই আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী ও বর্ণিল পোশাক পরে প্রতিবাদের সূত্রপাত। আফগানিস্তানের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বাহার জালালি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রতিবাদের সূচনা করেন হ্যাশট্যাগ দুটি ব্যবহার করে। সবুজ রঙা এক ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে টুইটারে হাজির হন তিনি। অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করেন তাকে অনুসরণ করতে। এই পথে নামার কারণ ব্যাখ্যা করে বাহার বিবিসিকে বলেন, ‘আজ আফগানিস্তানের স্বকীয়তা, স্বাধীনতা হুমকির মুখে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। বিশ^বাসীকে জানাতে চাই, যেটা তারা মিডিয়ায় দেখেছে (তালেবান সমর্থক নারীদের সমাবেশ), সেটা আমাদের সংস্কৃতি নয়, সেটা আমাদের পরিচিতি নয়।’

ড. বাহারের আহ্বান দ্রুতই সাড়া ফেলে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আফগান নারীদের মধ্যে। বহু জাতি, গোত্রের দেশ আফগানিস্তানে নারীদের পোশাকেও যে স্বাতন্ত্র্য রয়েছে; সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদী এই নারীদের পোশাকে তা ধরা দিয়েছে। কেউ পরেছেন বড় কামিজ, কেউ আবৃত হয়েছেন লেহেঙ্গায়, কারও মাথায় টুপিও রয়েছে; তবে রঙের ক্ষেত্রে রয়েছে ঐক্যের টান। সবারই পোশাকে রয়েছে রঙ-বেরঙের ছটা। আর তারা সবাই এক বাক্যে বোঝাতে চেয়েছেন, এই পোশাকই তাদের পরিচিতি, এটাই তাদের স্বাতন্ত্র্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় থাকা অধিকারকর্মী স্পোজমে মাসীদ এই আন্দোলনে শামিল হয়ে টুইটারে লিখেছেন, ‘আফগান নারী এই ধরনের বর্ণিল ও রুচিশীল পোশাকই পরে থাকে। কালো বোরকা কখনও আফগানিস্তানের সংস্কৃতিতে ছিল না।’ মাসীদ আরও লিখেছেন, ‘যুগ যুগ ধরে আমরা একটি ইসলামী দেশ হিসেবে রয়েছি, তার মধ্যেই আমাদের দাদি-নানিরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেই দিন কাটিয়েছিলেন। তারাও কখনও আরবের কালো বোরকা পরেননি। ঐতিহ্যবাহী এসব পোশাক আমাদের হাজার বছরের উন্নত সংস্কৃতিকে মেলে ধরে, যা আমাদের গর্বিত হতে শেখায়, বুঝতে শেখায় আমরা কারা।’ জমকালো লেহেঙ্গা পরে মাথায় টিকলি দিয়ে নিজের ছবি পোস্ট করে মাসীদ লিখেছেন, ‘আমাদের পরিচিতি কী হবে, তা কোনো একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ঠিক করে দিতে পারে না।’

প্রাগে থেকে ভার্চুয়াল এই আন্দোলনে যোগ দেওয়া সাংবাদিক মালালি বশির লিখেছেন, তিনি জন্মভূমি আফগানিস্তানে যে গ্রামে বেড়ে উঠেছেন, সেখানেও নারীরা বোরকা পরত না। এটা সংস্কৃতির অংশই ছিল না। বয়স্ক নারীরা মাথায় কালো রঙের স্কার্ফ পরত, আর মেয়েরা পরত রঙিন স্কার্ফ। আর ছেলে-মেয়েতে দেখা হলে হাত মেলানোর রীতিও ছিল। নিজের স্মৃতি থেকে আঁকা আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী দলগত নৃত্যের একটি ছবি পোস্ট করেছেন মালালি; তার উদ্দেশ্য, আফগানিস্তানে নারীদের পোশাকের সংস্কৃতি যে আসলে কী, সেটা তুলে ধরা।

নারী অধিকারকর্মী লিমা হালিমা আহমদ লিখেছেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি অন্ধকারময় নয়, এটা সাদা-কালোর মতো বর্ণহীন নয়, বরং রঙিন-উজ্জ্বল। আর এটাই সৌন্দর্য, এটাই শিল্প।’

‘পুরুষের পাশাপাশি কাজ করা আফগান নারীদের উচিত নয়’
জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতা ওয়াহেদউদ্দিন হাশিমি বলেছেন, আফগান নারীদের পুরুষের পাশাপাশি কাজ করার অনুমতি দেওয়া ‘উচিত হবে না’। একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাশিমি বলেছেন, তারা আফগানিস্তানে ‘শরিয়া আইন’ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চান। ‘আফগানিস্তানে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠায় প্রায় ৪০ বছর ধরে আমরা লড়াই করে চলেছি। আর পরিবারের বাইরে নারী-পুরুষ একসঙ্গে থাকা, এক ছাদের নিচে বসা, এসব তো শরিয়তে নেই। নারী আর পুরুষ একসঙ্গে কাজ করতে পারে না, এটা স্পষ্ট। তারা আমাদের অফিসগুলোতে আসতে পারবে না, আমাদের মন্ত্রণালয়গুলোতে কাজ করতে পারবে না’, বলেন তিনি।

তালেবানের পক্ষে মাঠে নামতে বাধ্য করা হচ্ছে আফগান নারীদের
অভিযোগ উঠেছে, আফগানিস্তানের কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বোরকা পরিয়ে নারীদের জোর করে নিজেদের পক্ষে সমাবেশে অংশ নিতে বাধ্য করেছে তালেবান। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার বর্ষপূর্তিতে এই সমাবেশ হয়েছিল। বিক্ষোভে অংশগ্রহণে অনিচ্ছুক নারীদের বহিষ্কারেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। আফগানিস্তানের একজন ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক নাতিক মালিকজাদা টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় নারীদের জোর করে তালেবানের পক্ষে মাঠে নামানোর বিষয়টি তুলে ধরেন। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী জানিয়েছেন: এক ঘণ্টার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে জড়ো হতে আমাদের চাপ দেয় তালেবান। এর জন্য কালো বোরকা তারাই আমাদের দিয়েছিল। তারা আমাদেরকে বলেছিল- তাদের কথা অনুযায়ী সেখানে হাজির না হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর