1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

ঢাকায় আসলামের আসন নিয়ে কাড়াকাড়ি, তুহিনকে নিয়ে আলোচনা

ডেইলি খবর ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৩৯৬৯ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার সোনার হাসের ডিমের নির্বাচনী এলাকা কে পাবে তা নিয়ে চলছে কাড়াকড়ি-দৌড়ঝাপ। কয়েকদিন আগেই ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম মারা যান। মারা যাওয়ার তিন সপ্তাহও হয়নি এরই মধ্যে সরকারী দলের নানারকম নেতাদের ভিড় বেড়েছে নির্বাচনী মাঠে। নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ না হলেও শুরু হয়েছে দলীয় মনোনয়নের ‘লড়াই’। আওয়ামী লীগের সাবেক-বর্তমান এমপিসহ অনেকেই এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিও তাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারছে না। নীতিনির্ধারণী নেতাদের কাছে তদবিরের পাশাপাশি জনসমর্থন আদায়ের জন্য নানামুখী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়েছেন তারা। কেউ কেউ এরই মধ্যে ফেসবুকে প্রচার শুরু করেছেন। এই আসনের এমপি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসলামুল হক আসলাম গত ৪ এপ্রিল মারা যান।

ইতোমধ্যে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে,করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। লকডাউনের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে না পারলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা বসে নেই। নিয়মিত রান্না করা খাবার বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। নীতিনির্ধারক নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ রাখছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছেন

প্রয়াত আসলামুল হকের স্ত্রী মাকসুদা হক এবং সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন সর্বাধিক আলোচনায় রয়েছেন। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ তাদের পক্ষে নেমেছেন। জানা গেছে আসলামুল হকের বড় ভাই জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য মফিজুল হক বেবু জানিয়েছেন গত বুধবার মনোনয়ন নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে আসলামের স্ত্রী মাকসুদা হকের। মাকসুদা তার স্বামীর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য উপনির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ করছেন।

আসলামুল হকের বড় মেয়ে মাইশা হক বলেন, বাবা মারা গেছেন ৪০ দিনও হয়নি। তবে আল্লাহর হুকুম ও প্রধানমন্ত্রী চাইলে তার মা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন।

এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচিও এই উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, এই আসন থেকেই তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুরু। এ কারণে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই প্রার্থী হওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করছেন। এস এম মান্নান কচি পোশাক প্রস্তুকারক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি।

তিনি বলেন, জাতীয়ভাবেই আসনটির গুরুত্ব অনেক। তাই উপনির্বাচনে ‘অতিথি প্রার্থীকে’ দলের মনোনয়ন দেওয়া ঠিক হবে না। আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী এলাকায় জনপ্রিয় রাজপথের লড়াকু নেএী ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি সাবিন আক্তার তুহিন।

তিনি জানিয়েছেন,সংরক্ষিত আসনের এমপি থাকাকালে তিনি এই আসনে ‘ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ’ করেছেন। মানুষের বাড়ি বাড়ি গেছেন। এ কারণে তার একটি ‘স্বচ্ছ ইমেজ’ রয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরাও তাকে সমর্থন দিচ্ছেন। তা ছাড়া গত সংসদ নির্বাচনে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী। এবার তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলও এই আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বলে জানা গেছে।

শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আগা খান মিন্টুও নির্বাচনে লড়তে চান। তবে তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন না। প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে নিলে তিনি নির্বাচনে লড়বেন। সেটা না হলে প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন, তার পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম হানিফ। এ ছাড়া এই আসনে আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা কিংবা শীর্ষ পর্যায়ের একজন ব্যবসায়ী নেতারও প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে দলের প্রার্থীতা নিয়ে ইতোমধ্যেই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা লম্বা হচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও প্রকট রূপ নিতে পারে।

রাজধানীর শাহ আলী ও দারুসসালাম থানা, মিরপুরের অর্ধেক, রূপনগরের আংশিক, সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৪ আসন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড এই আসনের আওতাধীন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসলামুল হক আসলাম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বিএনপি প্রার্থী এসএ খালেককে পরাজিত করেছিলেন।

২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হন। সরকারী দলের স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মিদেও সাথে আলাপ করে জানা গেছে এলাকার উন্নয়নে মানুষের কল্যানে স্থানীয় কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে এলাকাবাসী খুশি হবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা–কর্মী জানিয়েছেন তাদেরও পছন্দ ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর