1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন

তিন পরিচালকের না, তবুও ঋণ দিতে অনড় অগ্রণী ব্যাংক

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ৭৪৭তম বোর্ড সভায় তিনজন পরিচালকের আপত্তি সত্ত্বেও গাজীপুরের পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্টাইল ক্র্যাফট লিমিটেডের অনুকূলে ৩৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। এতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেন ওই তিন পরিচালক। এর ভিত্তিতে ঋণপ্রত্যাশী কোম্পানির বিস্তারিত জানতে চেয়ে অগ্রণী ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। সব কিছু পর্যালোচনা করে ঋণ বিতরণের পূর্বে পাঁচটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে স্টাইল ক্র্যাফটকে ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে অগ্রণী ব্যাংক।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পর্যবেক্ষণে এসব অনিয়ম উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন চাপে প্রশ্নবিদ্ধ পোশাক তৈরি প্রতিষ্ঠান স্টাইল ক্র্যাফটকে ঋণ দিতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বিতরণের জন্য জুড়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি শর্ত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সম্পত্তির মূল দলিল গ্রহণ, রাজউকের অনাপত্তি, পূবালী ব্যাংকের অনাপত্তি, এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যাংকারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরবর্তী বোর্ড সভায় আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্তগুলো উপস্থাপন করা। পরবর্তী বোর্ড সভায় ওই তিন পরিচালক ছাড়াই স্টাইল ক্র্যাফটকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে অগ্রণী।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সম্পত্তির মূল কাগজপত্র পেয়ে গেছি। তবে এসব সম্পত্তির মালিক ছিলেন বর্তমান মালিকের মা। মালিকানার নাম পরিবর্তনের জন্য পর্ষদের অনুমতিক্রমে দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শর্ত পূরণ করে ঋণ বিতরণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

দুই মাস সময় দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে শামস-উল ইসলাম বলেন, এখনো জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি অফিসিয়ালি জানিয়ে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অগ্রণী ব্যাংকের এক পরিচালক বলেন, স্টাইল ক্র্যাফটকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে যে আলোচনা হয়েছে সেখানে আমরা অংশগ্রহণ করিনি। আমরা ঋণটা ভালো মনে করিনি বলেই নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলাম। সে কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু শর্ত দিয়েছিল। সেগুলো পরিপালন করে তারা যদি ঋণ আদায় করতে পারে তা হলে তারা বিতরণ করুক। এখানে তো আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা ঋণ দিয়ে আদায় না করতে পারলে তখন তারা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এখানে আমাদের করণীয় কিছু নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছয় মাসের বকেয়া মজুরির দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছেন স্টাইল ক্র্যাফটের শ্রমিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ নভেম্বর বিজয়নগরের শ্রম ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মিছিল করে স্মারকলিপি দেন তারা।

শ্রমিকরা জানান, এর আগে মালিকপক্ষ গাজীপুরে লিখিত ও মৌখিক চুক্তি সাতবার ভঙ্গ করার পর তারা দুই দফায় তিন দিন বিজিএমইএ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন। মজুরি পরিশোধ করার দাবিতে গত ২৬ অক্টোবর থেকে তারা শ্রম ভবনে লাগাতার অবস্থান করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান শ্রমিকরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টাইল ক্র্যাফটের আগে বেসরকারি পূবালী ব্যাংকে সম্পত্তির প্রকৃত নথি/দলিল রেখে ঋণ নেয়। সেই একই দলিলের ফটোকপি দিয়ে অগ্রণী ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ঋণ অনুমোদন করেছে। কিন্তু রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) থেকে অনাপত্তি নেওয়া ছিল পূর্বশর্ত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাবিত সম্পত্তির প্রকৃত নথি, বায়া দলিল, সিএস, এসএ, আরএস, মিউটেশন পর্চা, ডিসিআর, সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ ও নির্দায় সনদপত্র ছাড়া এই কোম্পানির অনুকূলে ঋণ দেওয়া যাবে না। তারপরও ঋণটি অনুমোদন করা হয়েছে, যা গুরুতর অনিয়ম। অনিয়মের মাধ্যমে সম্পত্তি বন্ধক কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে অগ্রণী ব্যাংককে গত ১৩ অক্টোবর চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এই পদক্ষেপের আগে তিন পরিচালকের আপত্তি সত্ত্বেও অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তার ৭৪৭তম সভায় পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ২৫ কোটি টাকার সিসি এবং ১০ কোটি টাকার ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সীমা অনুমোদন করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য খরচ পরিশোধের জন্য চলতি বছরের ১৮ মে অগ্রণী ব্যাংকের কাছে চলতি মূলধন ঋণের জন্য আবেদন করে এবং প্রকৃত চাহিদার যথাযথ মূল্যায়ন না করেই ঋণ অনুমোদন করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি। এ ছাড়া বন্ধকী দলিল সম্পাদন করা হয়েছে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। বন্ধকদাতা ডা. আলমাস বেগমের স্বাক্ষরের পরিবর্তে টিপসই দেওয়া হয়। এতে সার্বিক প্রক্রিয়াটি সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়। আবার মূল দলিল না থাকার কারণে আইনগত প্রক্রিয়ায় ঋণ আদায় করতে হলে সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ আদায় সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বেসরকারি পূবালী ব্যাংক স্টাইল ক্র্যাফটকে ২০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো সম্পত্তি বন্ধক রাখতে না পারায় ব্যাংক পাঁচ কোটি টাকা দেয়। গত কয়েক বছরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও মুনাফা কমে যাওয়ায় কোম্পানিটিকে ঋণ বিতরণের পরিমাণ আর বাড়ায়নি ব্যাংক। এরপর প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ব্যাংকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল লোনের জন্য আবেদন করে, যা অনুমোদনও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্টাইল ক্র্যাফট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শামস আলমাস রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মোবাইল ফোন ও হোয়াটস অ্যাপে এসএমএস করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর