1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প: কিলোমিটারে ব্যয় ২০ কোটি টাকা!

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ৩০ মে, ২০২১
  • ৭৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে প্রতি বছরই বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের শিকার হয়। সবচেয়ে বেশি পাড় ভাঙে পদ্মা ও যমুনায়। নদী দুটির তীর সংরক্ষণে চলমান কার্যক্রম শেষ হচ্ছে আগামী মাসে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় পর্যায়ের আবারও পৌনে দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তবে, এ প্রকল্পে ৩০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ করা হবে। এতে প্রতি কিলোমিটার ২০ কোটি টাকা। এছাড়া নদীতীর সংরক্ষণের এ প্রকল্পে গাড়ি ও বিদেশ সফরের প্রস্তাবও করা হয়েছে। এসব ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় আলোচনার কথা বলেছে পরিকল্পনা কমিশন। আগামী ২ জুন ‘ফ্লাড অ্যান্ড রিভারব্যাংক ইরোশন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম-২’ শীর্ষক এ প্রকল্পের পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ৩০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ বাবদ মোট ৬১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ৭.৯০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ৩৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা (মিটার ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা) এবং ৩ কিলোমিটার বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বা মিটারপ্রতি ২৮ হাজার ৪৩৪ টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বাবদ ৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং স্থানীয় প্রশিক্ষণ বাবদ ১ কোটি ২ লাখ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। ৪টি জিপ ও ৪টি পিকআপ কিনতেও ৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ২টি জলস্রোত নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত সুøইস গেইট নির্মাণ বাবদ ২২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ১২টি মৎস্য অভয়াশ্রম উন্নয়ন বাবদ ১৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা ও ৭টি বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ছাউনি নির্মাণ বাবদ ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি বছরই বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের শিকার হয়। প্রতি বছর হাজার হাজার হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয় আর ঘরবাড়ি, ফসলের জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় অসংখ্য মানুষ। এরমধ্যে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত মানুষের সংখ্যাই বেশি। নদীতীরবর্তী এসব মানুষের ‘জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে’ একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের ৪ জেলার ৯ উপজেলার নদীভাঙনকবলিত মানুষের কাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জনে এ প্রকল্পে ১ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)।

প্রকল্পে অনুদান হিসেবে ১০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দেবে নেদারল্যান্ডস সরকার। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এ প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে ৩১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা প্রস্তাবিত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী ৪ বছরে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

গত এক যুগ ধরে ধারাবাহিকভাবে নদীভাঙন কমে আসছে। একসময় তীব্র নদীভাঙনের কবলে পড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভাঙন অনেক কমে গেছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ট্রাস্টি এই গবেষণা সংস্থাটি বলছে, গত ১৬টি এলাকায় নদীভাঙন বেশি হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনিকটা, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলা, টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও সলিমাবাদ চরে, পদ্মা নদীর অংশে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট ও রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা। এ ছাড়া জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, মানিকগঞ্জ, পাবনা ও ফরিদপুরে নদীভাঙন হয়েছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত মনে করেন, দেশে নদীভাঙন কমেছে, এটা নিশ্চয়ই ইতিবাচক খবর। কিন্তু এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল এই খাতে সরকার প্রচুর বিনিয়োগ করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে নদীর তীররক্ষায় ও বাঁধ নির্মাণে প্রচুর অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। তবে বিনিয়োগ অনুপাতে সাফল্য আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল।

যমুনা ও পদ্মা নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে ‘বন্যা এবং নদীর তীর ভাঙন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিনিয়োগ-২’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর আগে ২০১৪ সালে শুরু হওয়া ‘বন্যা এবং নদীর তীর ভাঙন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিনিয়োগ’ প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী মাসে। দ্বিতীয় প্রকল্পে দেশের দুটি বিভাগ রাজশাহী ও ঢাকার ৪ জেলার ৯ উপজেলাকে এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলা যথাক্রমে শাহজাদপুর, বেলকুচি ও চৌহালি। টাঙ্গাইল জেলার দুই উপজেলা যথাক্রমে টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর।

মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলা যথাক্রমে দৌলতপুর, হরিরামপুর ও শিবালয়। এছাড়া পাবনা জেলার একটি উপজেলা বেড়া। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। নদীভাঙনকবলিত মানুষের কাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জনে এ প্রকল্পে ১ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)।

প্রকল্পে অনুদান হিসেবে ১০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দেবে নেদারল্যান্ডস সরকার। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এ প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে ৩১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা প্রস্তাবিত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী জুলাই থেকে শুরু হওয়ায় এ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর