1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আজমদের কয়েকশ’কোটি টাকা লোপাট,মামলা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৬ মে, ২০২২
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আজমরা কয়েকশ’কোটি টাকা লোপাট করেছেন। বিশ্ববিদ্যালটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে লুটপাট দির্ঘদিন ধরেই চলছে। শুধু জমি কেনার নামেই তারা প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। এর সঙ্গে জড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের একটি চক্র। দুদকের অনুসন্ধানে এর প্রমাণ মেলায় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত বৃহস্পতিবার সংস্থাটির উপপরিচালক মো: ফরিদউদ্দিন পাটোয়ারী বাদী হয়ে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।মামলার আসামিরা হলেন,নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ ওরফে আজম,বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এম এ কাশেম,বেনজীর আহমেদ,রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান ও আশালয় হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিন মো: হিলালী। দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান সাংবাদিকদের জানান,দুদকের অনুসন্ধানে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদের আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তকালে এর বাইরে আরও কেউ সম্পৃক্ত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আসামি করা হবে।
মামলার এজাহারে বলা হয়,নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় পৃরিচালনার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হলো বোর্ড অব ট্রাস্টিজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড আর্টিকেলস (রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনস) অনুযায়ী ওই বিশ্ববিদ্যালয় একটি দাতব্য,কল্যাণমুখী,অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট,বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন,শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনকে পাশ কাটিয়ে বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের কয়েকজন সদস্য নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ডেভেলপমেন্টের নামে ৯ হাজার ৯৭ ডেসিমাল জমির ক্রয়মূল্য বাবদ ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৭ টাকা বেশি দেখিয়ে আত্মসাত করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের টাকা আত্মসাতের জন্য কম দামে জমি কেনা সত্বেও বেশি দাম দেখিয়ে প্রথমে বিক্রেতার নামে টাকা প্রদান করেন। পরে বিক্রেতার কাছ থেকে কমিশন বা ঘুষ হিসেবে নগদ চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা নিয়ে উত্তোলন এবং নিজেদের নামে এফডিআর করে রাখেন। এরপর ওই এফডিআরের অর্থ মেয়াদ পূর্তির আগে উত্তোলন করে আত্মসাত করেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাত করে নিজেরা অন্যায়ভাবে লাভবান হয়েছেন এবং ওই বেআইনি কার্যক্রম করার ক্ষেত্রে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কমিশন বা ঘুষের আদান প্রদান করে শাস্তিযোগ্য অপরাধে দুদক মামলা দায়ের করে। আত্মসাতের অর্থ হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধও ঘটেছে বলে মামলার অভিযোগ আনা হয়। দুদকের তথ্যমতে,শিক্ষার্থীরে কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এফডিআর করার নামে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাট, স্ত্রী-স্বজনদের চাকরি দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া, সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি ক্রয় ও অবৈধভাবে বিলাসবহুল বাড়ি ব্যবহার এবং বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নেয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
অভিযোগে বলা হয়,বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিম উদ্দিন ও এম এ কাশেম সিন্ডিকেট করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্নীতি করছেন। কম মূল্যের জমি বেশি দামে ক্রয়, ডেভেলপার কোম্পানির কাছ থেকে কমিশন নেয়া, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে অবৈধভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনা, লাখ টাকা করে সিটিং অ্যালাউন্স গ্রহণ,অনলাইনে মিটিং করেও সমপরিমাণ অ্যালাউন্স গ্রহণ, নিয়ম ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডের ৪০৮ কোটি টাকা নিজেদের মালিকানাধীন ব্যাংকে এফডিআর, মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকগুণ শিক্ষার্থী ভর্তিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের টাকায় ট্রাস্টিদের রেঞ্জ রোভার বিলাসিতা:
এদিকে এর আগে প্রকাশিত খবরে জানা যায়,শিক্ষার্থীদের টাকায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) ট্রাস্টিরা রেজ্ঞ রোভার গাড়ি চালানোর তথ্য প্রমান পাওয়া যায়। শিক্ষাখাতের ব্যবসায় তারা আংগুলফুলে কলাগাছ,তাই টাকা খরচের খাত তারা দেখে না। দেশের গরীব মানুষের পাশেও তারা থাকে না। তাদের কথা তারা প্রায় সবাই দেশের প্রতিষ্ঠিত বড় মাপের ব্যবসায়ী। অর্থবিত্ত থাকলেও শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির টাকায় বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার গাড়ি ও মোটা অংকের সিটিং অ্যালাউন্সসহ নানা সুবিধা নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন তারা। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ট্রাস্টিদের নানা আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে একটি কমিটিও গঠন করে। অন্যদিকে তাদের নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেঞ্জ রোভারগুলোকেও এখন এনএসইউর পার্কিংয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে বিওটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ল্যান্ড রোভারের ‘রেঞ্জ রোভার ২০১৯’ মডেলের নয়টি গাড়ি কেনে এনএসইউ কর্তৃপক্ষ। একেকটি গাড়ি কেনায় খরচ হয় প্রায় ৩ কোটি টাকা। গাড়িগুলোর চালক, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচও দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে। বিলাসবহুল এসব গাড়ি ব্যবহার করতেন বিওটি চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য বেনজীর আহমেদ, এমএ কাসেম, রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, ফৌজিয়া নাজ, ইয়াসমীন কামাল ও তানভীর হারুন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার ছাড়াও বেশকিছু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে নর্থ সাউথ ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলোর একটি হলো সিটিং অ্যালাউন্সের নামে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ। বিওটির সভায় প্রতি সদস্য ৫০ হাজার টাকা করে সিটিং অ্যালাউন্স নেন, যা কয়েক মাস আগে ১ লাখ টাকা ছিল। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সমালোচনা শুরু হলে তা কমিয়ে অর্ধেক করা হয়। এছাড়া সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটিসহ ২০টির বেশি কমিটির সভায় যোগ দিয়ে একেকজন ট্রাস্টি ২৫ হাজার টাকা করে সিটিং অ্যালাউন্স নেন, যা আগে ৫০ হাজার টাকা ছিল।এ ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম বিষয়ে তদন্ত করতে একটি কমিটিও গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সার্বিক বিষয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যে ট্রাস্টের অধীন প্রতিষ্ঠা লাভ করে, সেটি কিন্তু প্রাইভেট নয় পাবলিক। আইন অনুযায়ী, ট্রাস্টের উদ্যোক্তা দানকৃত অর্থ ট্রাস্টে দেয়ার পর সেখানে তার বা তাদের এতে হস্তক্ষেপের আইনত কোনো অধিকার নেই।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও ট্রাস্ট আইনের মাধ্যমে। ট্রাস্টিদের নিজেদের ডিড ও রেজল্যুশনে কী লেখা হয়েছে সেটি মুখ্য নয়। যদিও বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে আইনের বাইরে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেয়ার অভিযোগ উঠছে। এসব বিষয়ে প্রমাণ পেলে জনস্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। সুত্র-জানায় র্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) ট্রাস্টিরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া নানা ফির টাকা খরচের নতুন নতুন খাত বের করে নিয়ে নেন। আর বিলাসীতার নামে দামি গাড়ি কেনা কিংবা সিটিংএলাউন্সের নামে টাকা ভাগাভাগি ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ নেই। শিক্ষা ব্যবসায় তাদের পোয়াবারো।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর