1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন

নিয়োগের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফাঁদ পাতে টিকেএস

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক:স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভুয়া অনুমোদন দেখিয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য লোক নিয়োগের নামে পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল টিকেএস হেলথকেয়ার। এর সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।গ্রেপ্তাররা হলেন- নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবুল হাসান তুষার,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আলামিন ও মার্কেটিং ম্যানেজার মোহাম্মদ শাহিন মিয়া। তাদের মধ্যে চক্রের পরিকল্পনাকারী আবদুল্লাহ আল আমিন কেয়ারগিভার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের মার্কেটিং ম্যানেজার এবং আবুল হোসেন তুষার আলফালাহ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক রিলেশনশিপ ম্যানেজার। ডিবির গুলশান বিভাগ মঙ্গলবার ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানীর তেজগাঁও ও ঝালকাঠি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহূত কম্পিউটার, আইডি কার্ড,ভিজিটিং কার্ড,ট্যাপ সার্টিফিকেটসহ জাল নিয়োগপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।এর আগে মঙ্গলবার সমকালে ‘আরেক জেকেজি টিকেএস’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে টিকেএসের জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের বিবরণ এবং প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ দুই কর্মকর্তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখার বিষয়টি উল্লেখ ছিল।তিনজনকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে জানাতে বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ও ডিবি-উত্তর) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, টিকেএস গ্রæপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকেএস হেলথকেয়ার সার্ভিস নামে কথিত প্রতিষ্ঠান বানিয়ে গত ১১ জুলাই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করে একটি প্রতারক চক্র। আবেদনে তারা দেশের আটটি বিভাগ, ৬৪ জেলা, ৪৯২ উপজেলা ও ৪ হাজার ৫৬২ ইউনিয়নে বিনামূল্যে কভিড-১৯ পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করতে মোট ৫ হাজার ১২৬ জন সম্মুখযোদ্ধা প্রস্তুত আছে বলে উল্লেখ করে। শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণির আল-রাজি কমপ্লেপের দোতলায় তাদের কার্যালয় বলে জানানো হয়। তবে প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে করোনা পরীক্ষা, জনবল নিয়োগ ও ক্যাম্প স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু চক্রটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জাকিয়া পারভীনের স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া অনুমতিপত্র তৈরি করে। এই ভুয়া অনুমতিপত্রের মাধ্যমে তারা ঢাকা ও ঝালকাঠির উপজেলা কো-অর্ডিনেটর এবং ইউনিয়নের ফিল্ড অফিসার পদে বিভিন্ন জনকে নিয়োগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়। স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কোনো সনদ ও অভিজ্ঞতা না থাকার পরও শুধু প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য চক্রটি লিপ্ত থাকে।যুগ্ম কমিশনার বলেন, আবদুল্লাহ আল আমিন ও আবুল হাসান তুষার প্রাথমিকভাবে কোম্পানির প্রোফাইল বানানোর জন্য এক হাজার টাকা, বিভিন্ন লোগো সংবলিত আবেদনপত্র প্রিন্ট করার জন্য এক হাজার টাকা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকা খরচ করে। এই আড়াই হাজার টাকা বিনিয়োগ করে তারা সারাদেশে ১০০টি ক্যাম্প স্থাপনের ব্যবস্থা করে। প্রতিটি ক্যাম্পের ডিলারশিপ দেওয়ার জন্য তারা কমপক্ষে ২ লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা করছিল। সেসঙ্গে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে কয়েক লাখ ছাত্রকে ১০০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশনের নামে আরও কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। জনগণের উদ্দেশে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন,করোনা পরীক্ষা করিয়ে সেবার নামে জালিয়াতি সম্পর্কে সবাই সতর্ক থাকবেন। বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার নামে কেউ কোথাও ক্যাম্প স্থাপন করলে পুলিশকে জানান, পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত এগিয়ে চলেছে। প্রতারণায় এই তিনজন ছাড়া অন্য কারও সম্পৃক্ততা পেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

 

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর