1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

নৌ অধিদপ্তরের চাঞ্চল্যকর তথ্য ৫০ লাখের স্পিডবোট ১০ কোটি টাকায়!

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: একেবারে পুকুর চুরি। ৫০ লাখ টাকার একটি স্পিডবোটের দাম ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। যা ডাকাতের চিন্তাতেও আসবে না। কল্পনাকেও হার মানিয়েছে এই ঘটনা। কারণ পৃথিবীর কোনো দেশেই এমন স্পিডবোট পাওয়া যাবে না, যেটির প্রচলিত মূল্য এত বেশি। স্পিডবোটের এমন স্পিডি মূল্য নির্ধারণের ঘটনা ঘটিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৪ সালে এস্টাবলিশমেন্ট অব গ্লোবাল মেরিটাইম ডিস্ট্রেস অ্যান্ড সেফটি সিস্টেম অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম (ইজিআইএমএনএস) প্রকল্পের আওতায় পেট্রোলচালিত তিনটি স্পিডবোট কেনার সিদ্ধান্ত নেয় নৌপরিবহন অধিদপ্তর। এগুলো কেনার জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয় যৌথ উদ্যোগের ঠিকাদারি কোম্পানি এলজি সাম্মী লিমিটেডকে। তখন প্রতিটি ৫০ লাখ টাকা হিসাবে তিনটি স্পিডবোটের দাম ধরা হয়েছিল দেড় কোটি টাকা। কিন্তু পরে মূল্য সংশোধন করে এগুলোর প্রতিটির দাম ধরা হয় ১০ কোটি টাকা করে। এতে তিনটি স্পিডবোটের দর দাঁড়ায় ৩০ কোটি টাকা-যা নজিরবিহীন।

অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত দুদকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন,ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি খরচ বাড়িয়ে লাভবান হওয়ার জন্যই স্পিডবোটের এমন ‘গাঁজাখুরি দাম’ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্পিডবোটগুলো এখনও কেনা হয়নি। কেনার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এই অনিয়ম-দুর্নীতির ক্ষেত্রে যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ইজিআইএমএনএস প্রকল্পের কর্মকর্তাদের ও ঠিকাদারি কোম্পানির মালিকদের যোগসাজশ ছিল বলে জানতে পেরেছে দুদক।

২০১৪ সালে স্পিডবোট কেনা সংক্রান্ত ইজিআইএমএনএস প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে দুদকের কাছে গ্রেপ্তার ও বরখাস্ত হওয়া অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ড. এসএম নাজমুল হক। এই কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে এরই মধ্যে ড.এসএম নাজমুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন দুদকের উপপরিচালক মো: সালাহউদ্দিন। প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক কেএম জসীমউদ্দিন সরকারকেও অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অপারেশন) অতীশ পোদ্দারকে।

ইজিআইএমএনএস প্রকল্পের আওতায় স্পিডবোট কেনার পাশাপাশি সারাদেশের উপকূলীয় এলাকায় সাতটি লাইট হাউস ও কোস্টাল রেডিও স্থাপনের কাজও নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রথমে এই প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৭০ কোটি টাকা। পরে খরচ সংশোধন করে ৬৩২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

২০১৪ সালের মার্চে হাতে নেওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার কথা থাকলেও এখনও এর কাজ শেষ হয়নি। নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ দুদককে জানিয়েছে, প্রকল্পটির কাজ ইতোমধ্যে ২০-২৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত প্রকল্পটির কাজ ২-৩ শতাংশ সম্পন্ন করা হয়েছে।

দুদক বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির ব্যয় দুই ধাপে সংশোধন করা হয়েছে। প্রথমে সরকারি ব্যয় ৮৮ কোটি টাকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার ২৮২ কোটি টাকাসহ মোট ৩৭০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে সংশোধন করার সময় সরকারের পক্ষ থেকে ব্যয় বাড়িয়ে ২৮২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ পর্যায়ে শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার বরাদ্দ ২৮২ কোটি টাকাই থেকে যায়। বিদেশি অর্থায়ন না বাড়লেও শুধু সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির পেছনের কারণও খুঁজছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

২০১৪ সালের ১১ মার্চ একনেক সভায় ওই প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্পটির খরচ নিয়ে আপত্তিও জানিয়েছিল।

প্রকল্পটির পরামর্শকের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। পরে সংশোধন করে ধরা হয় ২৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। বিদেশে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে খরচ ধরা হয়েছিল এক কোটি ৩১ লাখ টাকা। পরে এই খরচ ধরা হয় দুই কোটি ৬৬ লাখ টাকা। মাটির কাজে খরচ বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ কোটি টাকা। দেশের নৌপথ ও উপকূলীয় সমুদ্র এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ নিশ্চিৎ করতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। প্রশ্ন হচ্ছে এই নৌ অধিদপ্তরের এসব শিক্ষিত ডাকাতগুলো কবে ধরা পরবে?

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর