1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

পরবর্তী সম্মেলন পর্যন্ত ছাত্রলীগের দায়িত্বে জয়-লেখক

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

পরবর্তী সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, জয়-লেখক শুরুতে সাংগঠনিকভাবে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব পায়। এরপর তারা ভারমুক্ত হয়। সেটা বিবেচনায় নিলে অবশ্যই ভারমুক্ত হওয়ার সময় থেকে পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবে। তারা বর্তমান সংকটকালীন সময়ের সুবিধা পাবে বলেও জানিয়েছে সূত্রগুলো।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ছাত্রলীগের অতীত যেমন উজ্জ্বল ছিল, ভবিষ্যতও তেমনি উজ্জ্বল হবে। জয়- লেখকের মেয়াদ শেষ হয়েছে, বিষয়টি সঠিক নয়। যখন থেকে তাদের ভারমুক্ত করা হয়েছে, তখন থেকে হিসেব করলে তাদের হাতে আরও অনেক সময় আছে। সাংগঠনিকভাবে তারা ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব পায়। এরপর তাদের ভারমুক্ত করা হয়। সেটা বিবেচনায় নিলে ভারমুক্ত হওয়ার সময় থেকে পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত তাদের সময় দিতে হবে। তবে, এই সিদ্ধান্ত দিবেন সাংগঠনিক নেত্রী। স্বাভাবিক দিক বিবেচনা করলে এটাই হওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আবদুর রহমান বলেন, নিশ্চয়ই আগামী সম্মেলন পর্যন্ত বর্তমান কমিটির নেতারা দায়িত্বে থাকবে। বর্তমানে যে সংকটকালীন সময় অতিবাহিত হচ্ছে তার সুবিধা পাবে তারা।

সাংগঠনিক গতিশীলতা আনাই চ্যালেঞ্জ

শোভন-রাব্বানীর অসমাপ্ত কাজ নতুন করে শুরু করা জয়-লেখকের জন্য কিছুটা প্রতিবন্ধক ছিল। তবে, ভারমুক্ত হয়ে যাওয়ায় সে প্রতিবন্ধকতা কিছুটা কাটলেও সাংগঠনিক ইউনিটে কমিটি দেয়া, যোগ্যদের পদায়নের মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণ করা, নিয়মিত সাধারণ সভার আয়োজন করা, কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করাসহ বেশকিছু কাজ তাদের ভেবেচিন্তে করতে হবে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে উপযুক্ত কাজগুলো না হওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বাসা বেধেছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আরিফ হোসাইন বলেন, ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। করোনাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মানবতার সেবা করে ছাত্রলীগ সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে। তবে, সাংগঠনিক ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেয়া হয়নি। যদিও ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই কাজ করছে। তারপরও কেন্দ্রীয় নেতারা সাংগঠনিকভাবে কাজ করতে মুখিয়ে আছে।

তিনি বলেন, জয়-লেখকের সময়ে ছাত্রলীগের কোন সাধারণ সভা বা বর্ধিত সভা হয়নি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও বেশ কয়েকবার সভা আহ্বান করার জন্য তাগিদ দিয়েছিলাম। অন্যরাও দিয়েছে। কিন্তু তারা বারবার পাশ কাটিয়ে গেছে। দুঃখের বিষয় হলো- এগুলো তারা ইতিবাচকভাবে না নিয়ে নেতিবাচকভাবে নেয়।

আরিফ বলেন, এখন অনলাইনে অনেক কিছু করা যায়। আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যে তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে একটি সাধারণ সভার আয়োজন করবে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ১০৮ ইউনিট

ছাত্রলীগের ১১১টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে ৫টি ইউনিটে কমিটি হয়েছে। এরমধ্যে দুটি কমিটি হয়েছে শোভন-রাব্বানীর সময়ে। বাকি তিনটি জয়-লেখকের সময়ে। এদিকে, শোভন-রাব্বানীর দেয়া কমিটির মেয়াদও শেষ। সে হিসেবে ১১১টি ইউনিটের মধ্যে ১০৮টি ইউনিটই এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। শোভন-রাব্বানী দায়িত্বে থাকাকালে সাংগঠনিক জেলাসমূহের কার্যক্রম গতিশীল করতে ব্যর্থ হন। তাদের সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি হয়। এরমধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি গঠনের পরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। জয়-লেখক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর নড়াইলে কমিটি দেন। ভারমুক্ত হয়ে চাঁদপুর ও কিশোরগঞ্জে কমিটি দেন তারা। তবে, তারাও সংগঠনে গতিশীলতা আনতে পারেননি। সাংগঠনিক কাজে বর্তমান নেতৃত্ব কোন ধরনের গতিশীলতা আনতে পারছে না দাবি করে

ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, ১১১টি ইউনিটের মধ্যে ৫টি ইউনিটে কমিটি হয়েছে। স্থবিরতা থেকে উত্তরণের জন্য সংগঠনকে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য দেশব্যাপী সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিতে হবে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কমিটি দেয়া সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা জেলা সফরে যাব। এরপর একে একে সব ইউনিটে কমিটি দেয়া হবে।

কমিটির বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ওরা (জয়-লেখক) দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। একের পর এক দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। সবকিছু মিলিয়ে তাদের কাজ চলছে। এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে। আমার মনে হয়, যারা বর্তমানে ছাত্রলীগ পরিচালনা করছে, নিকটঅতীতের চেয়ে তারা ভালো করছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, করোনার এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কোথায় কমিটি হয়েছে, কোথায় হয়নি, সে বিষয়ে আমরা মনোযোগী হচ্ছি না। এখন হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময়। সে কাজটি ছাত্রলীগ করছে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। স্বাভাবিক সময় আসা পর্যন্ত কমিটির বিষয়ে আমরা মনোযোগী হতে পারছি না। পরিস্থিতি হলে আমরা অবশ্যই সেসব ইউনিটে কমিটি দিব।

ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য। ফাইল ছবি

সম্মেলনের বছর পার, কমিটি কবে?

সম্মেলনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও চারটি ইউনিটে কমিটি দিতে পারেনি ছাত্রলীগ। এই চারটি ইউনিট হলো- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ। এরমধ্যে ১৩ জুলাই সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ২০ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ২৪ জুলাই ইডেন কলেজ এবং ২৭ জুলাই কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কমিটি না থাকায় অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগের রাজনীতি।

এসব ইউনিটের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মেলনকে ঘিরে নানান বিতর্ক দেখা দেয়। তুচ্ছ ঘটনায় কমিটি ভেঙে দিয়ে সম্মেলনের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে পরবর্তীতে সম্মেলন করা হয়। সম্মেলনের দিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ওয়াসী নামের এক কর্মীর জয় বাংলা স্লোগান দিতে দিতে হিট স্ট্রোকে মৃত্যু হয় সম্মেলনের মাঠেই।

এদিকে, সম্মেলনের পরও কমিটি ঘোষণা না করায় অসন্তুষ্ট সংশ্লিষ্ট শাখার পদপ্রত্যাশী নেতারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী এক নেতা বলেন, কমিটি না হওয়ার কারণে ছাত্রলীগের পদপ্রার্থীরা হতাশায় ভুগছে। ইতোমধ্যে অনেকেই রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছে। রাজনীতি করেও ছাত্রলীগের পরিচয় না নিয়ে অনেককে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিতে হয়েছে। অধিকাংশ নেতাকর্মীই কমিটি হওয়ার আশায় বসে আছে। যারা রাজনীতি করতে ইচ্ছুক, তারা রাজনীতিবিমুখ হচ্ছে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের কমিটি প্রস্তুত আছে। সাংগঠনিক অন্য ইউনিটগুলোতে কমিটি দেয়ার পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে সম্মেলন হওয়া ইউনিটগুলোতেও কমিটি দেয়া হবে।

অদৃশ্য কারণে শূন্যপদ পূরণে গড়িমসি

দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের দায়ে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগ থেকে রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী পদচ্যুত হন। পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেয়া হয় যথাক্রমে এক নম্বর সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও এক নম্বর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে। এর আগে ১৩ মে শোভন-রাব্বানী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের ৩০১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন। শোভন-রাব্বানী কয়েক ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে জানালেও পরবর্তীতে কমিটির অনেক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী, বিবাহিত, মাদকসেবী, বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ ডিসেম্বর বিতর্কিত ৩২ নেতাকে অব্যাহতি দিয়ে ওই পদগুলো শূন্য ঘোষণা করেন জয়-লেখক। সবশেষ প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে আটক হওয়া কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। এর ফলে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৩৫টি পদ শূন্য হয়। এই ৩৫ জনের বাইরে আরও বেশ কয়েকজন নেতা ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি চেয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। সব মিলিয়ে ৫০টির বেশি পদ শূন্য হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, সাত মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ বঞ্চিতরা। ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, তারা যে কি কারণে শূন্যপদগুলো পূরণ করছে না, তা আমাদের জানা নেই। করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে এই পদগুলো শূন্য না থাকলে সাংগঠনিক কাঠামো বৃদ্ধি পেত এবং সংগঠন আরও গতিশীল হতো। সেটা না করে তারা গতানুগতিক কাজ করে যাচ্ছেন। যে কারণে সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। কোন অদৃশ্য কারণে তারা এটাকে আটকে রেখেছে, সেটা তাদের স্পষ্ট করতে হবে। সংগঠন এভাবে চলতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর