1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে জালিয়াত চক্র সই জাল করে….

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১
  • ১০৭ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: জালিয়াত চক্র সই জাল করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। চক্রটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ উইংয়ের মহাপরিচালকের (ডিজি) সই জাল করে বিভিন্ন ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের টাকা দির্ঘদিন যাবত আত্মসাৎ করে আসছিলো। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ও জাতিসংঘ দিবস উদযাপন উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ অ্যালবাম’ প্রকাশের নামে এ ঘটনা ঘটিয়েছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির বড় বড় ঘটনায় শত, হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের খবর পাওয়া যায়। সে তুলনায় বাংলাদেশ অ্যালবাম দুর্নীতিতে আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমাণ কম হলেও দুর্নীতির নতুন কৌশল বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, চক্রটি ডিজি (ইউএন) সাদিয়া ফয়জুন্নেসার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া প্যাডে চিঠি লিখে ব্র্যাক, ঢাকা, এবি, এনআরবি গেøাবাল, সোনালী ও জনতা ব্যাংক, ইফাদ অটোস, জেএমআই মার্কেটিং, অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে বিজ্ঞাপন চেয়ে চিঠি দেয়। পরে ওইসব ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে ১১ লাখ ১৫ হাজার ৪৮৬ টাকা সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যাংক হিসাবে জমা করে। এর মধ্য থেকে সাত লাখ ৬৫ হাজার ৪৮৬ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। ওই প্রতারণামূলক কর্মকান্ডকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে চক্রের সদস্যরা পররাষ্ট্র,প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) নাম ব্যবহার করেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পায়। সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ)। পরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে বিএফআইইউ থেকে তদন্ত প্রতিবেদনটি পাঠানো হয় দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জালিয়াতি,প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান চক্রের দুই সদস্যকে আসামি করে মামলা করেন। গত ১৩ জুলাই কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ দায়ের করা মামলায় ঢাকার উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ রোডের মীর আফরোজ জামান ও গাজীপুরের টঙ্গীর সরকারি মালিকানাধীন পোস্টাল প্রিন্টিং প্রেসের অপারেটর জীবন চন্দ্র সরকারকে আসামি করা হয়। তারা পলাতক আছেন। জানা গেছে দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, বিজ্ঞাপনের মূল্য বাবদ পে-অর্ডারের মাধ্যমে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৪১ হাজার ৭৩৯ টাকা, এবি ব্যাংক এক লাখ ২১ হাজার ৫০০, এনআরবি গেøাবাল ব্যাংক ৪৮ হাজার, সোনালী ব্যাংক ৪০ হাজার ৮৬৮, জনতা ব্যাংক ৭৯ হাজার ৯০০, ব্র্যাক ব্যাংক দেড় লাখ, ঢাকা ব্যাংক দুই লাখ, ইফাদ অটোস ৮৩ হাজার ৪৭৯, জেএমআই মার্কেটিং দুই লাখ, অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) এক লাখ ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ১১ লাখ ১৫ হাজার ৪৮৬ টাকা প্রদান করে। পে-অর্ডারগুলো জমা করা হয় রূপালী ব্যাংকের উত্তরা মডেল টাউন করপোরেট শাখায় আসামি মীর আফরোজ জামানের ছেলে মীর আশরাফুজ্জামানের নামে খোলা হিসাবে। আসামিরা সলাপরামর্শ করে গত ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর মীর আশরাফুজ্জামানের নামে রূপালী ব্যাংকে হিসাবটি খোলেন। এই হিসাবেই সব পে-অর্ডার জমা করে টাকা উত্তোলন করা হয়। ওই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে গত ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে। প্রতারণার ঘটনাটি জানার পর সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতি প্রকাশের সময় ব্র্যাক ব্যাংক পে-অর্ডার প্রদান করেনি। তারা তাৎক্ষণিকভাবে দেড় লাখ টাকার পে-অর্ডার বাতিল করে। একই সময়ে ঢাকা ব্যাংক প্রভাব খাটিয়ে আসামিদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ফেরত আনলেও অন্যরা পারছে না। তারাও চেষ্টা করছে প্রতারক চক্রের কাছ থেকে টাকা ফেরত নিতে।

 

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর