1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন

পরামর্শক নিয়োগেই ৩ হাজার কোটি টাকা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের নিজস্ব জনবলের বাইরে কোনো বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হলে পরামর্শক সেবা কেনার প্রয়োজন পড়ে। তবে বিদেশি ঋণের প্রকল্পে পরামর্শক সেবা কেনার নামে যেন একরকমের লুটপাট চলছে। বিদেশি ঋণের প্রকল্প হলেই সেখানে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগে অনেকটা বাধ্যবাধকতা দেখা দেয়। প্রয়োজন থাকুক আর না থাকুক। নিজস্ব অর্থায়নে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে পরামর্শক সেবা কেনার প্রয়োজন পড়ে না, বিদেশি ঋণের সে ধরনের প্রকল্পেও পরামর্শক সেবা কেনা হচ্ছে। আবার এসব বিদেশি পরামর্শকের পেছনে খরচও অস্বাভাবিক বেশি। এই পরামর্শক সেবার নামে মূলত ঋণের বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশিদের কাছেই ফিরে যাচ্ছে।

গত অর্থবছরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পাওয়া বিদেশি ঋণ ও অনুদানের নতুন এবং সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৪টির তথ্য বিশ্লেষণ করে পরামর্শক সেবার এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ১৪ প্রকল্পের পরামর্শক খাতে খরচ হচ্ছে দুই হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা। এই বিশাল অর্থ প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে পরামর্শক সেবার নামে চলে যাচ্ছে বিদেশিদের কাছেই। দুই-একটা বাদে বিদেশি ঋণের সব প্রকল্পেই লাগছে পরামর্শক। অথচ দেশীয় অর্থায়নে বড় প্রকল্পগুলোও পরামর্শক ছাড়াই বাস্তবায়ন হচ্ছে। কোনো প্রকল্পে পরামর্শক লাগলেও তা নগণ্য।

গত অর্থবছরে একনেকে অনুমোদিত আট হাজার ৮৫০ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ প্রকল্প। সম্পূর্ণ সরকারি খরচে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে পানি সরবরাহের এত বড় প্রকল্প। কিন্তু এতে প্রয়োজন হচ্ছে না পরামর্শক সেবার।

অন্যদিকে বিদেশি ঋণে ২০২০ সালে পানি সরবরাহের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পের চেয়ে ছোট (খরচের অঙ্কে)। অথচ সেই বিদেশি ঋণের প্রকল্পে পরামর্শক খাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। বিদেশি ঋণের দুটি প্রকল্পের একটি হালো ‘ভাণ্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ (প্রথম সংশোধিত)’। প্রকল্পটিতে পরামর্শকের জন্য ২২ কোটি ৬৩ হাজার টাকা খরচ করা হচ্ছে। পানি সরবরাহের দ্বিতীয় প্রকল্প ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধিতে পরামর্শক খাতে খরচ করা হচ্ছে ৫৪ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে ‘পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল জেলা মহাসড়কে একস্তর নিচ দিয়ে উভয়পাশে পৃথক সার্ভিস লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে পরামর্শকের জন্য আলাদা খরচের প্রয়োজন হচ্ছে না।

এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পে পরামর্শকের জন্য খরচ করা হচ্ছে ৫৩৫ কোটি ৬৭ লাখ ৩ হাজার টাকা!

ওপরের প্রকল্পগুলোই বলে দিচ্ছে, বিদেশি ঋণের প্রকল্পে পরামর্শক খাতে মাত্রাতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক খরচ করা হচ্ছে। তবে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তাতে পরামর্শক সেবা প্রয়োজন হলেও খরচ বিদেশি ঋণের প্রকল্পের তুলনায় নগণ্য। যেমন : বিশ্বব্যাংকের ঋণে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন প্রকল্প-১ (চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ ও সংযুক্ত নৌপথ খনন এবং টার্মিনালসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ) (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প। এটিতে পরামর্শক খাতে খরচ করা হচ্ছে ২৭৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অথচ প্রায় একই রকমের নৌপথ খননে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ‘নরসিংদী জেলার অন্তর্ভুক্ত আড়িয়াল খাঁ নদ, হাড়িদোয়া নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ, পাহাড়িয়া নদী, মেঘনা শাখা নদী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ পুনঃখনন (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্পে পরামর্শকের দুই খাতে খরচ করা হচ্ছে পাঁচ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা, যা ঋণের প্রকল্পটির পরামর্শক ব্যয়ের তুলনায় কিছুই নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, বিদেশিদের কাছে ঋণ চাইলেই তারা শর্ত চাপিয়ে দেয়। না হলে টাকা নেই, দেয় না বা দিতে চায় না। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নে পরামর্শক দিয়ে দেয়। তারা বলে, এই কাজ আপনারা পারবেন না। তাই বাধ্য হয়েই অনেক সময় পরামর্শক নিতে হয়। আমাদের নীতির জায়গায় অটল থাকতে হবে।

বিদেশি ঋণের প্রকল্পে পরামর্শকের অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, মূলত বড় প্রকল্পগুলোতেই বিদেশি সংস্থাগুলো বিনিয়োগ করে। অনেক টেকনিক্যাল বিষয় থাকে যেখানে পরামর্শক লাগে। তবে পরামর্শক লাগবে কি না সেটা নির্ভর করে প্রকল্পের প্রয়োজনের ওপর। যেসব প্রকল্প আমরা অহরহ করছি সেগুলোতেও কেন পরামর্শক লাগে সেটাই প্রশ্ন। প্রয়োজন না থাকলেও অনেক সময় পরামর্শক রাখা হয়। এটা কেন বা কার স্বার্থে রাখা হয় সেটাই প্রশ্ন। একজন বিদেশি পরামর্শক এসে কিছু মিটিং করে একটা প্রতিবেদন লিখে দিয়ে চলে যান। দেখা যাচ্ছে, এটা কেউ পড়েও দেখে না। আবার দেখা যাচ্ছে কিছু প্রকল্পে এমন কাউকে পরামর্শক রাখা হচ্ছে যাদের সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র যোগ্যতাও নেই।

বিদেশি ঋণের অন্য প্রকল্পগুলো হলো : বিশ্বব্যাংকের ঋণে ‘ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (উইকেয়ার) ফেজ-১ : রুরাল কানেক্টিভিটি, মার্কেট অ্যান্ড লজিস্টিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টে (আরসিএমএলআইআইপি)’ পরামর্শক খরচ ৯৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা। আইডিএ ঋণে এক্সিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং স্কিল ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন প্রকল্পটিতে পরামর্শকের জন্য ব্যয় হচ্ছে ১৪৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এআইআইবি ঋণে ময়মনসিংয়ের কেওয়াটখালী সেতু নির্মাণে পরামর্শকের জন্য ব্যয় হচ্ছে ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পে পরামর্শকের জন্য ব্যয় হবে ২২৯ কোটি টাকা ‘খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন’ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে এডিবি। প্রকল্পটির পরামর্শক খাতে খরচ হচ্ছে ৯৯ কোটি ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

‘আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (ইউআরপি) : (রাজউক অংশ) (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ প্রকল্পের পরামর্শক খরচ ৩০৮ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। ‘ঢাকা স্যানিটেশন ইমপ্রুভমেন্ট’ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে এআইআইবি ও বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পটিতে ১৭টি পরামর্শক খাতে ১৩৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা খরচ করা হচ্ছে। ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপ লাইন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে চায়না এক্সিম ব্যাংক। প্রকল্পটিতে পরামর্শক খাতে খরচ ধরা হয়েছে ১১৯ কোটি ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ‘মাতারবাড়ি পোর্ট ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে জাইকা। এ প্রকল্পে পরামর্শক খরচ ৭৯৩ কোটি ৪৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ভারতীয় ঋণে হচ্ছে ‘মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প। এতে পরামর্শক খরচ ৮২ কোটি ৫৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। ‘প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন’ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে জাইকা। প্রকল্পটির পরামর্শক খরচ ৩৫ কোটি ৬৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা।

 

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর