1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

পরীক্ষায় আটকে আছে সরকারি স্বাস্থ্য বীমা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১
  • ১০১ বার পড়া হয়েছে

করোনাভাইরাস মহামারিকালে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বেসামাল অবস্থা এরই মধ্যে দৃশ্যমান। অন্যান্য চিকিৎসার মতো করোনাজনিত কভিড রোগের চিকিৎসাও ব্যয়বহুল। এমন প্রেক্ষাপটে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে সরকারি উদ্যোগে সব নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালু করা জরুরি হলেও এ কাজে ধীরগতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

দেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা করার লক্ষ্যে সরকার একটি জেলায় পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করেছে। পুরোপুরি সফল বলা না গেলেও প্রকল্প থেকে কিছুটা হলেও সুফল পাওয়া গেছে। এরপর পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করা হবে ঢাকা জেলায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বীমা সারা দেশে কার্যকর করা সম্ভব হবে কি না, সেই মূল্যায়ন আসার পর পর্যায়ক্রমে সব নাগরিককে এই বীমার আওতায় আনার কথা ভাবছে সরকার। এটা করতে আরো ১২ বছর লেগে যেতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল মাহমুদ বলেন, সরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্য বীমার বিষয়টি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) কিংবা দেশের বীমাসংক্রান্ত আইনে সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এটি কার্যকর করার জন্য অবশ্যই আইন করতে হবে। আর পাইলট প্রজেক্ট সেই পাঁচ বছর আগে শুরু হয়েছে, এত দিনে কিছু অংশে চালু করা প্রয়োজন ছিল।

অধ্যাপক আল মাহমুদ আরো বলেন, সরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্য বীমা করা দরকার, তবে এটি কঠিন। তিনি আরো বলেন, এখন বীমা কম্পানিগুলো ব্যক্তি পর্যায়ে স্বাস্থ্য বীমার সুযোগ রেখেছে, তবে তা অত্যন্ত শর্তসাপেক্ষ। এ ছাড়া এই পলিসিগুলো এত কঠিন যে সাধারণ মানুষও বোঝে না।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয় সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবা নিতে একজন রোগীর পকেট থেকে খরচ হয় প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ।

বাকিটা দেয় সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের গবেষণায় সরকারি করোনা হাসপাতালে সাধারণ শয্যার একজন রোগীর চিকিৎসায় গড়ে এক লাখ টাকার ওপর খরচ হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালে এ খরচ পুরোটাই রোগীর পকেট থেকে যায়। স্বাস্থ্য বীমা চালু থাকলে নাগরিকদের চিকিৎসা ব্যয় কম হতো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃত যে স্বাস্থ্যব্যবস্থার আওতায় নাগরিকরা আর্থিক অসচ্ছলতা থেকে মুক্ত না হয়েও স্বাস্থ্যসুবিধা পেতে পারে, সেই স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেই বলা হয় সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা। ২০১২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা ইউনিভার্সেল হেলথ কাভারেজ (ইউএইচসি) সংক্রান্ত প্রস্তাবে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইউএইচসির পক্ষে প্রতিশ্রুতি দেয় বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালে জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

ইউনিভার্সেল হেলথ কাভারেজ বা সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরকারি কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ। স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে) নামে পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি চালু করা হয় ২০১৬ সালে। বেসরকারি গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কম্পানি এই কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পেয়েছে।

চলতি কিংবা আগামী বছরের মধ্যে ঢাকা জেলায়ও এই ধরনের পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতীতে ২৭ হাজার ৮৪১টি, ঘাটাইলে ২৭ হাজার ২৩১টি এবং মধুপুরে ২৬ হাজার ৪৪৫টি দরিদ্র পরিবারকে স্বাস্থ্য বীমার জন্য নিবন্ধন করা হয়েছে। সরকার তাদের এই বীমার প্রিমিয়াম জমা দিচ্ছে। এসব চিকিৎসাব্যয় নির্বাহের জন্য পরিবারপ্রতি বার্ষিক এক হাজার টাকা প্রিমিয়াম হিসেবে সরকার দিচ্ছে, যার বিনিময়ে প্রতিটি পরিবার বার্ষিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা পাবে। পরিবারগুলোকে এসএসকে কার্ড দেওয়া হয়েছে, যা দেখিয়ে তারা নির্দিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নেবে। ৭৮ ধরনের চিকিৎসাসেবা পাবে তারা। এ প্রকল্পে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত ২২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে চলাকালে এই বীমার প্রিমিয়ামের অর্থসহ প্রকল্পের যাবতীয় ব্যয় স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি উন্নয়ন খাতের উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে সংস্থান করা হচ্ছে। যখন দেশব্যাপী স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হবে তখন সরকারি বরাদ্দ এবং সচ্ছল পরিবারের কাছ থেকে প্রিমিয়াম সংগ্রহের মাধ্যমে কর্মসূচির অর্থায়ন করা হবে।

তবে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা জানান, টাঙ্গাইলে পাইলট প্রজেক্টটি আশানুরূপ সফল হয়নি। পুরো দেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা চালু করার জন্য সরকার নতুন একটি প্রস্তাবনা ছক তৈরি করছে।

তবে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, টাঙ্গাইলের প্রজেক্টটি দেশব্যাপী যেভাবে সাড়া ফেলার দরকার ছিল সেভাবে হয়নি।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের পরিচালক ড. মো. নুরুল আমিন বলেন, টাঙ্গাইল ও ঢাকায় পাইলট প্রজেক্ট ২০২৩ সাল পর্যন্ত চালু থাকবে। ঢাকায় এ বছর পাইলট কার্যক্রম চালু করা হবে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড) টাঙ্গাইলের পাইলটিং নিয়ে একটি সার্ভে (জরিপ) করেছে। সার্ভেতে উঠে এসেছে স্বাস্থ্যসেবা পেতে রোগীর পকেট থেকে ব্যয় কমেছে, কিন্তু অনেকে এসএসকে কার্ড থাকার পরেও আমাদের হাসপাতাল থেকে সেবা না নিয়ে অন্য হাসপাতাল থেকে সেবা নিয়েছে। তবে এসএসকে কার্ডধারীদের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় হওয়া খরচ অন্যান্য জেলার তুলনায় কম।’

ড. নুরুল আমিন আরো বলেন, পৃথিবীতে যত দেশে সরকারিভাবে স্বাস্থ্য বীমা চালু হয়েছে, সেসব দেশে কমপক্ষে ৩০ বছর সময় লেগেছে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্বাস্থ্য বীমা চালু করার জন্য সরকারকে আলাদা একটি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক নাগরিককে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনবে এবং এর কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ওই নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। তখন নাগরিকরা তালিকাভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ খরচ স্বাস্থ্য বীমা থেকেই বহন করা হবে। তাঁরা বলছেন, পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্পগুলো শেষ হওয়ার পর সারা দেশে যখন স্বাস্থ্য বীমা কর্মসূচি চালু করা হবে তখন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনসহ অন্যান্য কাজ হবে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্য বীমা চালুর জন্য কোনো নির্দিষ্ট আইন নেই। এই বীমা চালুর জন্য একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

স্বাস্থ্য ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ বলেন, সব মানুষকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনা হবে। চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে কেউ যাতে আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, টাঙ্গাইলের পর ঢাকায়ও এই পরীক্ষামূলক স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প চালু করা হবে। ১৫টি ওয়ার্ডে চালু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা আছে। এটি কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারী, গার্মেন্ট শ্রমিকসহ পর্যায়ক্রমে আপামর জনগণের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হবে।

শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশেই রাতারাতি এটি চালু করা হয়নি, এমনকি পৃথিবীর কোনো দেশেই শতভাগ নাগরিককে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। উন্নত দেশগুলোতে সব চিকিৎসাসেবা স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনা হয় না। একটি দেশের আর্থিক অবস্থা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নাগরিকের ক্রয়ক্ষমতা ও মনমানসিকতার ওপর নির্ভর করেই স্বাস্থ্য বীমা চালু করতে হয়। ফলে এটি বাস্তবায়ন হতেও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য, ২০৩২ সালের মধ্যে দেশের সব নাগরিককে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনা। এ সময়ের মধ্যে ন্যাশনাল হেলথ সিকিউরিটি অফিস চালু করা হবে সারা দেশে।’

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর