1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০১:৫৩ অপরাহ্ন

পরের ধনে পোদ্দারি ইভ্যালির রাসেল-শামীমার

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

প্রতারণার উদ্দেশ্য নিয়েই গঠন করা হয়েছিল ইভ্যালি কোম্পানি। যার পুঁজি ছিল ১ কোটি টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক লেনদেনই ছিল কয়েক কোটি টাকা। বিভিন্ন সময়ে ইভ্যালির ৭টি ব্যাংক হিসাবে ৪ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকারও বেশি জমা হয়। সাধারণ গ্রাহকের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও এমডি শামীমা নাসরিন দম্পতি প্রতারণামূলক ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। দু’হাতে উড়িয়েছেন গ্রাহকের টাকা। একে বলা যায় ‘পরের ধনে পোদ্দারি’।

হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা বোর্ডের ১১ পৃষ্ঠার সুপারিশসহ প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। বুধবার এই পরিচালনা বোর্ড পদত্যাগ করে তা হাইকোর্টে দাখিল করে। বিদায়ী পরিচালনা বোর্ড ১১ পৃষ্ঠার সুপারিশসহ প্রতিবেদন এবং এই পরিচালনা বোর্ডের আওতায় ইভ্যালির আয়ব্যয়সহ যাবতীয় সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হুদা-ভাশি চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানির ‘অডিট রিপোর্ট’ হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে। হাইকোর্টের কার্যতালিকা অনুসারে পরে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ৩ হাজার ৬ পৃষ্ঠার এই অডিট রিপোর্ট গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিদায়ী পরিচালনা বোর্ডে দাখিল করা হয়। যার আলোকে ১১ পৃষ্ঠার সুপারিশসহ প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিদায়ী বোর্ড।

প্রতিবেদনে ইভ্যালি সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে একজন প্রধান নির্বাহী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও আয়ব্যয় নিয়ন্ত্রিত হতো কারাবন্দি সিইও মোহাম্মদ রাসেলের মাধ্যমে। কোনো প্রধান হিসাবরক্ষক ছিলেন না। ব্যবস্থাপনাও ছিল ত্রুটিপূর্ণ। ইভ্যালির আয়ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ নথিপত্রও পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইভ্যালি কোম্পানি আইন মেনে চলেনি। যাদের চাকরি দেওয়া হতো, তারা সবাই রাসেল বা এমডি শামীমার আত্মীয়স্বজন। তাদের অনেক বেশি বেতন দেখানো হতো। যে বেতন দেখানো হতো সেগুলো তাদের প্রকৃত বেতন ছিল না। যেমন চারজনের বেতন দেখানো হয়েছে ১ লাখ টাকা। প্রকৃতপক্ষে বেতন ছিল ৬০ হাজার টাকা। বেতনের বিষয়ে তারা যথেচ্ছাচার করেছে। পূর্বে কখনও স্বাধীন অডিট ফার্ম নিয়োগ করে কোম্পানির আয়ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করা হয়নি। এ ছাড়া সিইও এবং তার স্ত্রী এমডির ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়েও কোনো জ্ঞান নেই। এমনকি ইভ্যালিতে পণ্য সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো পণ্য সরবরাহের আগে কোনো সময়ই আর্থিক সংগতি যাচাই করেনি।

ইভ্যালি প্রতিদিন ব্যাংক থেকে প্রচুর নগদ টাকা উত্তোলন করত। কিন্তু সেসব নগদ টাকার গতিপথ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ থেকে ধারণা হওয়া স্বাভাবিক, কোম্পানিটি যেন বন্ধ হয়ে যায় তা নিয়ে রাসেল-শামীমার পরিকল্পিত প্রস্তুতি ছিল। তাছাড়া গ্রাহকের টাকায় অহেতুক তারকাদের পণ্যদূত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। সেজন্য ইভ্যালির প্রচুর অর্থ খরচ করতে হয়েছে। এগুলো মোটেও দরকার ছিল না। এজন্য তারা নিজেদের কোনো টাকা খরচ করেনি, টাকা খরচ করেছে গ্রাহক ও সরবরাহকারীর। গ্রাহকের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে রাসেল-শামীমা দম্পতি প্রতারণামূলক ব্যবসা পরিচালনা করেছে, যা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ ও বেআইনি। হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন করলেও ইভ্যালির কোনো স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা ছিল না।

প্রতিবেদনে ইভ্যালি পরিচালনায় নানা অসংগতি তুলে ধরে আরও বলা হয়, মাত্র ১ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে রাসেল-শামীমা হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যার সবটাই গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া। প্রতি মাসে ইভ্যালি অন্তত ৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতার পেছনে খরচ করেছে। এত টাকা লেনদেনের সঠিক কোনো হিসাব না থাকায় ধারণা জন্মে, এই টাকা পাচার করা হয়েছে।

হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছিল, কোম্পানি চালানো সম্ভব না হলে দেউলিয়া করে দেওয়া। কিন্তু পরিচালনা বোর্ড মনে করে, লাখ লাখ গ্রাহকের ভাগ্য ও পুঁজি এই কোম্পানির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তাই দেউলিয়া ঘোষণা না করাই সমীচীন। ফলে ইভ্যালি ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে চালু হওয়ার পথ খোলা থাকবে।

প্রতারণাসহ নানা অভিযোগে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা রাসেল ও তাঁর স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা। রাসেল এখনও কারাগারে। তবে জামিনে মুক্ত শামীমা সম্প্রতি ইভ্যালি বোর্ডে ফের যুক্ত হয়েছেন।

এর আগে ইভ্যালির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে গত বছরের ১৮ অক্টোবর হাইকোর্ট এক রিটের শুনানি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রাহকের পাওনা পরিশোধসহ এর কার্যক্রম চালুর বিষয়ে ৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেন।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর