1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন

পাইকারি বাজার প্রশ্নবিদ্ধ ৩৩১ কোটি টাকা

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

ডেইলি খবর ডেস্ক: নানা অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেও নির্মাণ করা রাজধানীতে ৩৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি পাইকারি কাঁচাবাজারের মার্কেট ভবনগুলো নির্মাণ শেষ হলেও কারওয়ান বাজার স্থানান্তর হয়নি। ফলে ৬ বছর ধরে ভবনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কবে নাগাদ এসব ভবনে পাইকারি বাজার সরে যাবে তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তার। কারওয়ান বাজারকে তিন ভাগ করে তিনটি ভবনে সরিয়ে নেয়ার কথা ছিল। এ উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। কিন্তু তা না করে সম্প্রতি তিনটি ভবনের একটিতে মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।

অপর একটিকে আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বাকিটির বিষয়ে কোনো ঘোষণাও দেয়া হয়নি। অথচ বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যয় করে ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়। ৬ বছরেও ব্যবহার শুরু না হওয়ায় এত টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ আছে মহাখালীর কাচাবাজারনির্মাণে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কালোটাকা সাদা করা ও প্রমানীত দুর্নীতিবাজ চাকুরীচ্যুত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আর ঠিকাদার দিলীপ কুমার ঘোষের যৌথ সমন্বয়ে মহাখালীর কাচাবাজারটি নির্মান করা হয়। ভাগাবাটোয়ারও হয়। তবে এ মার্কেটে কবে নাগাদ কারওয়ান বাজার স্থানান্তর হবে, নাকি আদৌ হবে না, সেটা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ডিএনসিসি মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম মহাখালী পাইকারি কাঁচাবাজারকে আধুনিক মানের হাসপাতালে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ভবন পাইকারি কাঁচাবাজারের জন্য নির্মাণ করে হাসপাতালে রূপান্তর করলে কারওয়ান বাজার স্থানান্তর অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে গাবতলী-বাবুবাজার বেড়িবাঁধ সড়কসংলগ্ন আমিন বাজার পাইকারি কাঁচাবাজারকে ডিএনসিসি মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ওই মার্কেটের দোকানগুলো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার জায়গায় রূপান্তর করা হয়েছে। আর যাত্রাবাড়ীর কাজলা রোডে নির্মিত পাইকারি কাঁচাবাজারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেন,তারা প্রায় নিশ্চিত যে কারওয়ান বাজার সরছে না। কারণ তিনটি ভবনের দুটি অন্য কাজে ব্যবহার হলে কারওয়ান বাজার সরানো সম্ভব হবে না। বাকি একটি ভবনে সবার স্থান সংকুলান হবে না। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্তির পর পাইকারি কাঁচাবাজার নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ডিএনসিসির জনবল হওয়ায় পুরো প্রজেক্ট ডিএনসিসির আওতাধীন রয়েছে। যাত্রাবাড়ী পাইকারি কাঁচাবাজার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) স্থানান্তর না হওয়ায় ওই মার্কেটের মেইনটেন্যান্স কাজ করতে পারছে না ডিএসসিসি। ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, আমরা কারওয়ান বাজার স্থানান্তর করে যাত্রাবাড়ী এবং আমিন বাজারে নিয়ে যাব।

সেলক্ষ্যে ডিএসসিসির সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আর ডিএনসিসির কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে এ সংক্রান্ত একটি কমিটিও করা হয়েছে। তনি বলেন, ‘তিনটি মার্কেটের মধ্যে আমরা মহাখালী মার্কেটকে আধুনিক মানের হাসপাতালে রূপান্তর করতে চাই। এক্ষেত্রে এখানে যেসব দোকান এ মার্কেটে আসার কথা ছিল আমরা আমিন বাজারে সেসব দোকান তৈরি করে দেব। আর ব্যবসায়ীরাও এক জায়গায় থাকতে চান। এজন্য এটা কারওয়ান বাজার স্থানান্তর কোনো সমস্যার সৃষ্টি করবে না।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাবেক তত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দিন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় ২০০৬ সালের ৪ অক্টোবর ‘ঢাকা শহরের তিনটি পাইকারি কাঁচাবাজার নির্মাণ প্রকল্প’ অনুমোদন পায়। অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ২০০৭ সালে এ তিন মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরু করে। আমিন বাজারে ৩৩ বিঘা,মহাখালীতে ৭ বিঘা এবং যাত্রাবাড়ীতে ৫ বিঘা জমির ওপর এ পরিকল্পিত কাঁচাবাজার নির্মাণ করে সিটি কর্পোরেশন। শুরুতে প্রকল্পের আকার ছিল ২০৬ কোটি টাকা। পরে আকার বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩১ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো টাকা সরকারের দেয়ার কথা থাকলেও ২৬৪ কোটি টাকা পরিশোধ করার পর সরকার আর কোনো টাকা দেয়নি। পরে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ফান্ডের টাকা থেকে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর

বিজ্ঞাপন