1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
অক্টোবরের শেষে ফেসবুকের নাম বদল সরকারি চাকরির প্রশ্ন ফাঁসে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তি ছড়ালেই ব্যবস্থা স্ত্রী ও ভাইয়ের হিসাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেন অডিট রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে ইভ্যালির ভাগ্য স্বাস্থ্যে চাকরি করে নজরুলের সম্পদ হয়েছে ৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা মাত্র পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী আজ ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রধানমন্ত্রীর নিবন্ধ: উন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্থদের গুরুত্ব দিচ্ছে না ই-কমার্স প্রতারণা:১১ প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে মাত্র ১৩৬ কোটি,গ্রাহকের পাওনা ৫ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের ৪২ হাজার ২৯৮টি পদ বিলুপ্ত

পিছিয়েছে নুরদের ‘একক’ পার্টির আত্মপ্রকাশ

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

গণসংহতি আন্দোলন, মওলানা ভাসানী অনুসারী পরিষদ, ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও রাষ্ট্রচিন্তা মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করলেও তাদের কার্যক্রমে ভাটা এসেছে। পিছিয়ে পড়েছে এই চার সংগঠনের ঐক্য-প্রক্রিয়া। পাশাপাশি ভাসানী অনুসারী পরিষদ, ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও রাষ্ট্রচিন্তার সমন্বয়ে একটি দল গঠনের পরিকল্পনা থাকলেও ‘আগে নীতি নাকি নেতা’ দ্বন্দ্বে তা এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলবে।

ভাসানী অনুসারী পরিষদ, ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও রাষ্ট্রচিন্তার সমন্বয়ে একটি নতুন দল করার নিমিত্তে পরিকল্পনা, আলোচনা সমানতালে চলছিল। কিন্তু অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়াকে নুরদের পার্টিতে বড় দায়িত্ব দেওয়ার খবরে এই আলোচনায় ভাটা পড়েছে। যে কারণে গত সোমবার (৪ অক্টোবর) একটি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

ঐক্যবদ্ধ দল গঠন হচ্ছে না

তিন সংগঠনের কয়েকজন নেতার সূত্রে জানা গেছে, তিন সংগঠনের মধ্যে দুইটির অবস্থান ছিল— নতুন দল গঠনের আগে দলের সম্ভাব্য রাজনৈতিক নীতি-আদর্শ, কৌশল, অবস্থান কী হবে, তা ঠিক করা। অপরদিকে নুরদের আগ্রহ ছিল— আগে নেতৃত্ব ঠিক করতে হবে। আর এ বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় গত বছরের নভেম্বর থেকে চলে আসা ঐক্যপ্রক্রিয়ায় এখন স্থবিরতা এসেছে।

উদ্যোক্তাদের কেউ-কেউ বলছেন, নতুন দলের ‘রাজনীতি’ কী হবে, তা এখনও নির্ধারণ না হওয়ায় ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্রচিন্তা। এ বিষয়ে একজন উদ্যোক্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাজনীতি কী হবে সেটা ঠিক না করে তো আমরা ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি না।

ভাসানী পরিষদের উচ্চপর্যায়ের একজন নেতার ভাষ্য— নুরুল হক ও তার অনুসারীরা এখনও পর্যন্ত বড় কোনও জমায়েত করতে পারেনি। বিশেষত, ক্ষমতাসীনদের বিপক্ষে রাজনীতি করতে হলে যে প্রাজ্ঞতার পরিচয় দেওয়ার কথা ছিল— এই তরুণ নেতারা তা দিতে পারেননি। তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, এ প্রশ্নটি আরও বহু দূরের বিষয়। সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে যাদের সহযোগিতার কথা ছিল, তারা সেটি করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে তাড়াহুড়ো রয়েছে। তারা পদের আকর্ষণে পড়েছেন।’

এ বিষয়ে ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি তো প্রক্রিয়ায় নেই। এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। শুধু বলতে চাই, দিল্লি অনেক দূর।’

তবে নুরুল হকদের নতুন পার্টির একজন প্রভাবশালী নেতা বলেছেন, নতুন দলের রাজনৈতিক আদর্শ হবে গণতন্ত্রের পক্ষে, অবাধ নির্বাচন, বাক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার। এই দল হবে বাংলাদেশে একেবারে নতুন। আমরা রাজা, ওরা প্রজা—এই নীতি থাকবে না। চিন্তাধারা ও স্টাইলে অনেকটাই স্ক্যান্ডেভিয়ান, জার্মানের গণতান্ত্রিক দলগুলোর মতো হবে। নতুন দল হবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পদ্ধতির, টলারেবল। বিশেষ করে বাংলাদেশে এই প্রথম কোনও দলের সবাই শিক্ষিত।

জানতে চাইলে বুধবার (৬ অক্টোবর) বিকালে ভাসানী পরিষদের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘আমরা ভাসানী অনুসারী পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও রাষ্ট্রচিন্তা মিলে একসঙ্গে কাজ করছিলাম। একটি রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত করার চিন্তা ছিল। কিন্তু এই নতুন দলের রাজনীতি কী হবে, তা নির্ধারণ করা যায়নি। তবে, আমাদের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’

‘এখানে দুই ধরনের ব্যাপার আছে। একটি দল গঠনের আগে রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোকে নিরূপণ করা’, বুধবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বলছিলেন ঐক্যের আরেক উদ্যোক্তা রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠক হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি, নারী, আদিবাসীসহ বিভিন্ন প্রশ্নে দলের অবস্থান কী হবে— এ বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হওয়ার তাগাদা ছিল আমাদের। কিন্তু তাদের তাগাদা ছিল নেতৃত্বের ফায়সালা করতে হবে। ফলে, প্রক্রিয়াটি খুব একটা ইতিবাচক অবস্থায় আছে, সে সম্ভাবনা কম।’

নুরুল হকরা যদি নতুন পার্টির ঘোষণা দেন— এমন প্রশ্নে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘সেটা তারা করতে পারলে করবে। তাদের মতো তারা করবে। আলোচনা দুই-তিনটা ফর্মেশনে ছিল। তারা দল করলেও আলোচনা অব্যাহত চলতে পারে।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আসলে এটা এখনও আলোচনায় আছে, ফাইনাল হয়নি। আমাদের মধ্যে মৌলিক দর্শনে কোনও পার্থক্য নেই। তবে নেতৃত্বের কাঠামো নিয়ে মতানৈক্য আছে। আশা করি, এটাও আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো। একসঙ্গে সবাইকে তো মূল্যায়ন করা যায় না। এখনও আমরা তিন সংগঠন মিলে একটি ফর্মেশনের চিন্তা করছি।’

নুরুল হক আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি সরকারবিরোধী যেসব দলের আইনের শাসন, মানবাধিকার, ভোটাধিকার নিয়ে ভোকাল আছে, তাদের কাছে টানার। প্রয়োজনে একদল করা, জোট করা।’

এ প্রসঙ্গে গণসংহতি আন্দোলনের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব মনির উদ্দিন পাপ্পু বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গণসংহতি আন্দোলনের বৃহত্তর ঐক্য ও পার্টিগত ঐক্যের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আসন্ন সম্মেলনের পরে আমরা দলের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরবো।’

তিন সংগঠনের সমন্বয়ে আলাদা কর্মসূচি

গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্রচিন্তার সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন ইস্যুতে প্রোগ্রাম ঠিক করা হয়েছে। ঢাকার কোনও মিলনায়তনে এ বিষয়ে সেমিনার হতে পারে।

ভাসানী পরিষদের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের ওপর তিন সংগঠন মিলে সেমিনার করা হবে আগামী ১০ অক্টোবর (রবিবার)। এতে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সংগঠনসহ সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

পিছিয়েছে নুরদের ‘একক’ পার্টির আত্মপ্রকাশ

ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদের সূত্র বলছে, ভাসানী পরিষদ ও রাষ্ট্রচিন্তার নেতারা যোগ না দিলেও নতুন দল গঠনে কোনও প্রভাব ফেলবে না। বিশেষ করে এই সংগঠনের নেতারা সিনিয়র ও পরিচিত হলেও সাংগঠনিকভাবে তেমন প্রভাব বিস্তারকারী নয়। এ কারণে ভাসানী পরিষদ ও রাষ্ট্রচিন্তার কোনও দায়িত্বশীল যোগ না দিলেও ছাত্র-যুব-শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বয়েই নতুন দলের ঘোষণা করা হবে।

আগেই এ প্রক্রিয়ার অন্যতম উদ্যোক্তা নুরুল হক জানিয়েছিলেন, দলের সম্ভাব্য নাম বাংলাদেশ অধিকার পার্টি (বিআরপি)। স্লোগান হিসেবে থাকছে—‘জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার।’ প্রাথমিক আহ্বায়ক কমিটি হবে ১০১ বা ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট। পাশাপাশি ১৫-২০ সদস্যের নীতিনির্ধারণী ফোরামও থাকবে। তিনি এও জানিয়েছিলেন, অনুমতি পেলে সেপ্টেম্বরেই (৩০ সেপ্টেম্বর) আত্মপ্রকাশ করবে নতুন দল।

বুধবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নতুন দলের আত্মপ্রকাশ কবে—এমন প্রশ্নে নুরুল হক বলেন, ‘এখন আর ডেট দিতে চাই না। যত আর্লি সম্ভব আমরা দলের ঘোষণা করবো। আমরা বাইরে প্লেস পাচ্ছি না। প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছিলাম, তারা এখনও বাইরে প্রোগ্রামের বিষয়ে কোনও মত দেয়নি। তবে অল্টারনেটিভ ওয়ে তো আছেই।’

নতুন দলের সম্ভাব্য সিনিয়র নেতা ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আরও সপ্তাহ দুয়েক লাগতে পারে। সারা দেশের নেতাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। শুরুতেই আহ্বায়ক কমিটি হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে পরে কমিটি হবে।’ সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর