1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

পৌর নির্বাচন: পদহীন বিদ্রোহী নিয়েই বিপদে আওয়ামী লীগ

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

এবারের পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের নিয়ে একরকম বিপদে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে বিদ্রোহীদের মধ্যে যাঁদের দলীয় কোনো পদ নেই, তাঁরাই ভোগাচ্ছেন বেশি। যে বিদ্রোহীরা দলীয় পদে আছেন, তাঁদের দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে বাগে আনার চেষ্টা করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকরা। কিন্তু যাঁরা দলের কোনো পদে নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারছে না দলটি। ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে কমপক্ষে ৩০ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে থাকবেন বিদ্রোহীরা।

আট বিভাগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কয়েকজন জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসিয়ে দিতে তাঁরা চেষ্টা করছেন। ভোটের আগমুহূর্ত পর্যন্ত এই চেষ্টা চলবে। তবে অতীতে অনেক বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কারের কিছুদিন পর ফের দলীয় পদে ফিরিয়ে আনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিকে অনেকে পাত্তা দিতে চান না। আবার কোথাও কোথাও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদ দিচ্ছেন। কোথাও বিদ্রোহীরা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ বা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রথম ধাপের পৌর নির্বাচনে অন্তত ১০টিতে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়ে গেছেন। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে অন্তত দুই ডজন পৌরসভায় আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব বিদ্রোহী প্রার্থীর অনেকেই দলীয় কোনো পদে নেই। আবার অনেকে কোনো কমিটির একেবারেই কম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পদে আছেন।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাস। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বেলকুচি যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের ভোটে প্রথম হয়েছিলেন রেজা।

দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক আক্কাস আলী। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মেয়র লিয়াকত আলী সরকার টুটুল ও বিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোসফিকুর রহিম। বর্তমান মেয়র লিয়াকত বিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদে আছেন। ফলে তিনি সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি তেমন আমলে নিচ্ছেন না।

রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন পুঠিয়া ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম টিপু। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারছে না আওয়ামী লীগ।

পাবনার চাটমোহরে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মেয়র ও চাটমোহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা রেজাউল করিম দুলাল। তিনি গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দল থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। কিন্তু মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আবারও পদে ফেরেন। এবার আবারও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান পৌর মেয়র সালেক মিয়া, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজল উদ্দিন তালুকদার ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম শিপলু। তাঁদের মধ্যে শিপলুর দলীয় কোনো পদ নেই এবং ফজল উদ্দিন যুবলীগের নেতা হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারছে না আওয়ামী লীগ।

ঢাকার সাভার পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র আলহাজ আবদুল গণি। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আক্তারুজ্জামান কুটি মোল্লা। তিনি ১৯৮৫ সালে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করে দেশে ফিরেছেন। তাঁর ভাই মানিক মোল্লা আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু ভাই মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কুটি মোল্লা।

একাধিক পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। বরগুনার বেতাগীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বেতাগী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মহসীন। রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীদুজ্জামান শাহীদ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আড়ানী পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রিবন আহম্মেদ বাপ্পি। পরে যাচাই-বাছাইয়ে বাপ্পির মনোনয়ন বাদ পড়ে। নাটোরের গুরুদাসপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন গুরুদাসপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ আলী। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন গুরুদাসপুর ছাত্রলীগের সভাপতি আতিয়ার রহমান বাঁধন ও ছাত্রলীগ নেতা আব্দুস সালাম রনি।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘গতবার যাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন, এবার তাঁদের মনোনয়ন দিচ্ছি না। এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। এবার যাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অতীতে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চান সবাইকে নিয়ে দল করতে। সে জন্য তিনি অনেক সময় মাফ করে দেন। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের মাল্টিক্লাস একটি পার্টি আওয়ামী লীগ। নানা বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের দল পরিচালনা করতে হয়।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। ভোটের আগের দিন পর্যন্ত আমরা চেষ্টা করব বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসিয়ে দিতে। যাঁরা দলীয় পদ-পদবিতে আছেন, তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করলে এলাকায় একটা প্রতিক্রিয়াহয়। কিন্তু যাঁরা পদে নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া হয় না। এই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই আমরা চেষ্টা করছি প্রার্থীদের মধ্যে সমন্বয় করতে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘বিদ্রোহীদের কেউ কমিটিতে যদি কোনো পদে না-ও থেকে থাকেন, তাঁর যদি প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে থাকে, তবে সেখান থেকেও তাঁকে বহিষ্কার করা হবে। আর যদি কেউ সমর্থক হন, সাংগঠনিক কোনো পদেই না থেকে থাকেন, তাহলে তো তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।’

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর