1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : shaker :
  4. [email protected] : shamim :
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

প্রতারকচক্র কারাবন্দিদের স্ত্রী-কন্যাকেও ফাঁদে ফেলে ফায়দা লুটে

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

ডেইলিখবর ডেস্ক: প্রতারকচক্র কারাবন্দিদেও স্ত্রী-কন্যাকেউ ফাদে ফেলে ফায়দা লুটে। তারা কখনও কোনো মন্ত্রীর বন্ধু। কখনও আবার তারা পুলিশের উচ্চপদস্থ বা সরকার ঘনিষ্ঠ কোনো ব্যক্তির আত্মীয় বলে পরিচয় দেয়। কারাবন্দিদের স্ত্রী, কন্যা ও স্বজনদের টার্গেট করে তারা প্রতারণার জাল ফেলে ফায়দা লুটে। জামিন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। আবার কারাবন্দি ব্যক্তিদের স্ত্রী ও কন্যাদের কৌশলে ব্ল্যাকমেইল করে তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরির চেষ্টাও চালায় এই চক্র।

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গোলাম মোহাম্মদ কালু ও তার ছেলে গোলাম মোস্তফা আদর ওরফে আলোকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে প্রায় একযুগ ধরে নানামুখী প্রতারণা করার ঘটনা। সর্বশেষ দু’জন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পরিবারকে ফাঁদে ফেলে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ময়নুল হক মনজুকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার স্ত্রী জাহানারা বেগম রেখার কাছ থেকে সাড়ে ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। স্বামীকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আরেকজন কারাবন্দি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের স্ত্রীর কাছ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা হাতিয়েছে তারা। ওই কাউন্সিলরের স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করতেও নতুন ফাঁদ পাতে তারা।

জাহানারা বেগম রেখা নামে একজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী কারাবন্দি থাকায় তারা হতাশ হয়ে পড়েন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের দিকে গোলাম মোস্তফা তার নম্বরে ফোন করে। এরপর সে জানায়, অনেক মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে তার পরিচয়। মনজুকে জামিন করাতে অন্যদের তিন মাস লাগলে তার লাগবে তিন দিন। তবে জামিন করানোর বিনিময়ে ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। এরপর কয়েক দফায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা দেওয়ার পরও জামিনের ব্যবস্থা হয়নি। এক পর্যায়ে তারা বুঝতে পারেন প্রতারকদের ফাঁদে পড়েছেন। জাহানারা বেগম আরও বলেন, একটি মার্কেটে তার নামে থাকা দোকান বিক্রি করে টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি। পরে ওই মার্কেটের দলিল গোলাম মোস্তফা ও তার বাবা গোলাম মোহাম্মদ কালুকে দেখানো হয়। তাদের কাছে দোকান কেনার একাধিক পার্টি রয়েছে বলেও জানায় তারা। পরে কৌশলে তার কাছ থেকে দোকানের দলিল হাতিয়ে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, এক যুগের বেশি সময় ধরে গোলাম মোহাম্মদ কালুর বৈধ আয়ের সোর্স নেই। তবে ধানমন্ডিতে পরিবার নিয়ে আলিসান ফ্ল্যাটে থাকে। চলাফেরা করে টয়োটার প্রিমিও মডেলের গাড়িতে। তাদের অবৈধ অর্থের উৎস এক জমি একাধিকবার বিক্রি, সমাজের প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার ফাঁদ। গ্যাসের সংযোগ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র। আবার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ভালো জায়গায় পোস্টিং পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেও লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরেছে আদর ও তার বাবা।

বিলাসী জীবনযাপনকারী গোলাম মোহাম্মদ কালুর গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। সব সময় দামি পোশাক পরে কালু ও আদর চলাফেরা করত। ২০০৮ সালে অনেক মানুষকে প্রতারিত করার পর আত্মগোপনে যায় কালু। বাবার কাছে পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় ছেলে। কিন্তু পরিশোধ করেনি এক টাকাও। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ২০১২ সালে নিজেদের বাড়ি নিলামে ওঠে। এরপর বাড়িছাড়া হয়ে দেনাদারদের টাকা পরিশোধ না করে পালিয়ে আসে ঢাকায়। বসবাস করতে থাকে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে। এরপর বাবা-ছেলে প্রতারণার পেশাই বেছে নেয়। প্রথম দিকে নিজেদের আত্মীয়দের সঙ্গে প্রতারণা করত। নিলামের বাড়ি ও জায়গা কিনে দেওয়ার কথা বলে এক আত্মীয়র কাছ থেকে কালু ২৫ লাখ টাকা হাতায়।

উত্তরাতে বসবাস করাকালীন ২০১৫ সালে প্রতারক আদরের সঙ্গে আসিফ ইমরান নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ূয়া এক ছাত্রের পরিচয় হয়। আসিফের প্রকৌশলী বাবা আর শিক্ষিকা মা হজে চলে গেলে আসিফকে কৌশলে নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘর দেখানোর নাম করে আদর তার বাবা কালু এবং অপরাপর সহযোগীরা নিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জে। আসিফকে বেদম প্রহারের পর টাকা না পেয়ে তাকে গলা টিপে হত্যা করে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয় তারা। অজ্ঞাত হিসেবে ওই লাশকে উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সহযোগিতায় তাকে পোস্তা কবরস্থানে দাফন করা হয়। ২০১৭ সালের দিকে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এক আসামির মাধ্যমে পুলিশ এবং আসিফের বাবা নিশ্চিত হন কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের উদ্ধার করা ওই লাশ আসিফের। দেড় বছর পর কবর থেকে হাড় উদ্ধার করে বাবা-মায়ের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আসিফের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয় পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তের পর সিআইডি পুলিশ অপহরণ করে হত্যাকান্ডের এ মামলার প্রধান আসামি হিসেবে গোলাম মোস্তফা আদর এবং তার বাবা গোলাম মোহাম্মদ কালুকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালে চার্জশিট দাখিল করে।

জানা যায়, আদর এখন পর্যন্ত চারটি বিয়ে করেছে। চারটি বিয়েই করেছে প্রতারণার ফাঁদ পেতে। এরইমধ্যে তিন স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আলিশা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে বড় ব্যবসায়ী সেজে আলিশাকে বিয়ে করে আদর। প্রেমের টানে আলিশা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে ২০১৮ সালে বিয়ে করেন আদরকে। কিছু দিন পর আদরের প্রতারণার বিষয় জানতে পেরে তাকে তালাক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত যান আলিশা।

ডিবির ডিসি মশিউর রহমান বলেন, নানা ধরনের অভিনব প্রতারণায় জড়িত এই চক্র। সমাজের প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে তারা অনেক মানুষকে নিঃস্ব করেছে। তারা অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির। এ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।সূত্র-সমকাল

এ জাতীয় আরো খবর