1. [email protected] : admi2017 :
  2. [email protected] : Daily Khabor : Daily Khabor
  3. [email protected] : rubel :
  4. [email protected] : shaker :
  5. [email protected] : shamim :
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন

প্রথম দিনই চেনা রূপে দেশ: বিধিনিষেধের চিহ্নও নেই

ডেইলি খবর নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১২ আগস্ট, ২০২১
  • ১০৮ বার পড়া হয়েছে

টানা কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের প্রথম দিনই চেনা রূপে ফিরছে দেশ। সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিসসহ সব শিল্পকারখানা খুলেছে। শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট-বিপণিবিতান, হোটেল চালু হয়েছে। হঠাৎ করেই সড়কে মানুষ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এদের প্রায় কাউকেই শিথিল বিধিনিষেধের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি।

শতভাগের বেশি যাত্রী নিয়ে চলেছে গণপরিবহণ। সিএনজি অটোরিকশা, পণ্যবাহী ছোট ও মাঝারি ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত ছোট ও মাঝারি গাড়ি সব রাস্তায় নেমেছে। এতে আগের মতোই ঢাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বাসে গাদাগাদি করে মানুষ চলাচল করেছেন। বেশিরভাগ বাসে যাত্রীদের স্যানিটাইজার দেওয়া হয়নি। ট্রেন-লঞ্চেও একই অবস্থা।

কোথাও সামাজিক দূরত্ব রক্ষা হয়নি। রাস্তায় নামা অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিল না মাস্ক। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ ছিল পাটুরিয়া ফেরিঘাটে। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথের সব ফেরিতেই ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে কঠোর লকডাউন শিথিল করা হয়। কিন্তু প্রথম দিন বুধবার প্রায় কোথাও শিথিল বিধিনিষেধের চিহ্নও দেখা যায়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হয়েছে সরকারি এ নির্দেশনা।

কোভিড-১৯-এর ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত লকডাউনে স্থবির হয়ে পড়েছিল জনজীবন। ঈদে কয়েকদিন বিরতি দিয়ে টানা প্রায় ৪ মাস ধরে কঠোর বা শিথিল বিধিনিষেধে ছিল দেশ। হুমকির মুখে পড়েছিল মানুষের জীবিকা। অবশেষে শিথিল লকডাউনের ঘোষণায় সেই অচলায়তন ভেঙে বুধবার থেকে মানুষ রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়েন। করোনা আতঙ্ক দূরে ঠেলে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ব্যাকুলতার পাশাপাশি ‘আবার কখন লকডাউন দেওয়া হয়’ সেই আশঙ্কাও ভেতরে ভেতরে কুরে খাচ্ছে অনেককে।

বুধবার ভোর থেকে সারা দেশে গণপরিবহণ চলাচল শুরু হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী সড়কে মোট বাসের অর্ধেক চলাচল করার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক বেশি দেখা গেছে। তবে ঢাকায় সকালের দিকে বাস কম ছিল। ফলে সকালে অফিসগামী যাত্রীদের প্রথম দিনই দুর্ভোগে পড়তে হয়। বাসের আশায় অনেককে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

একটি বাস এলে কে কার আগে উঠবেন এ নিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। প্রত্যেক আসনে যাত্রী বসানোর পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে দাঁড়িয়েও থাকতে হয়েছে। গাদাগাদি করে যাত্রীদের গন্তব্যে যেতে হয়েছে। বাসে থাকলেও ভিড়ের মধ্যে যাত্রীদের স্যানিটাইজার দেওয়া সম্ভব হয়নি। চাপে যাত্রীদের মাস্কও মুখ থেকে সরে গেছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসের সংখ্যা বাড়তে থাকে। প্রায় সব ধরনের যানবাহন রাস্তায় নামায় এদিন নগরজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সঙ্গে ছিল গরম এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সব মিলে রাস্তায় নামা মানুষগুলোকে নাজেহাল হতে দেখা গেছে।

সকালে রাজধানীর মিরপুরে অছিম বাসের যাত্রী চাকরিজীবী আফজাল বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও মাস্ক পরে স্বাভাবিক জীবনের চেষ্টায় থাকতে চাই আমরা। লকডাউন কোনো সমাধান মনে করি না। তবে বাসে এক সিটে একজন বসাটাই ভালো ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।’ এ সময় পরিবহণটির এক কর্মী বলেন, আমরা গাড়িকে জীবাণুনাশক দিয়ে স্যানিটাইজ করেছি। যাত্রীদের হাতে জীবাণুনাশক দিচ্ছি এবং মাস্ক ছাড়া কাউকে বাসে উঠতে দিচ্ছি না।’ কিন্তু বাসেই প্রচুর যাত্রী দেখা গেছে যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। অনেক বাস আসনের বেশি যাত্রী বহন করেছে।

বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। মহাখালী বাস টার্মিনালে বিআরটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এদিন। টার্মিনালে যারা মাস্ক ছাড়া ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাসে উঠে দেখেছেন মাস্ক ছাড়া কোনো যাত্রী আছেন কিনা। খতিয়ে দেখেছেন বিভিন্ন কাউন্টারে আগের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে কিনা। এদিকে ভোর থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক হয়ে অসংখ্য মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ করেছেন।

এসব বাসে ছিল না স্বাস্থ্যবিধির বালাই। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সব বাস সময়মতো ছাড়লেও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে কড়াকড়ি ছিল না। কুমিল্লার প্রধান বাসস্ট্যান্ডগুলো থেকে ভোরেই ছেড়ে যায় যাত্রীবাহী বাসগুলো।

এদিন ভোরে খুলনাগামী আন্তঃনগর ট্রেন সাগরদাঁড়ি প্রথমে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। এরপর ছেড়েছে বনলতা, মধুমতিসহ লোকাল ট্রেন। যাত্রীরা যেন মাস্ক ছাড়া স্টেশনে ঢুকতে না পারেন সেজন্য ছিল কড়া পাহারা। এরপরও প্ল্যাটফরমে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। যাত্রীরা গাদাগাদি করেই ট্রেনে ওঠেন। বেশিরভাগ যাত্রী জানান, অতিরিক্ত ভিড়ের ফলে তারা স্বাস্থ্যবিধি মানতে পারেননি।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টায় শতভাগ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় রওনা হয় আন্তঃনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস। এছাড়া বিভিন্ন গন্তব্যে গিয়েছে আরও ১১টি ট্রেন। ময়মনসিংহ রেলস্টেশন থেকে ছেড়েছে আন্তঃনগর ট্রেন হাওড় এক্সপ্রেস, তিস্তা এক্সপ্রেসসহ সাত জোড়া ট্রেন। ট্রেনের কামরাগুলোতে গাদাগাদিতে উধাও ছিল স্বাস্থ্যবিধি। যাত্রীদের মাস্ক ছাড়া স্টেশনে প্রবেশ করতে দেয়নি খুলনার রেল কর্তৃপক্ষ। প্রথম দিন নির্দিষ্ট সময়েই স্টেশন ছাড়ে আন্তঃনগর এবং লোকাল ট্রেনগুলো।

এদিকে তিন ধাপে ৩৮ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী চলাচল শুরু হয়েছে। এদিন ৪৩টি নৌপথে শতভাগ যাত্রী নিয়ে নৌযান চলাচল করে। তবে সেখানেও স্বাস্থ্যবিধি মানেননি যাত্রীরা। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া যাত্রীদের তুলনায় ঢাকা ফেরত আসা যাত্রীদের চাপ বেশি লক্ষ করা গেছে। এছাড়া লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরেছে। তবে কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কঠোর অবস্থানে থাকলেও উদাসীন ছিলেন অনেক যাত্রী।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, বুধবার ভোর থেকে বিআইডব্লিউটিএর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সদরঘাট থেকে শতভাগ যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রচারণাসহ পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে টার্মিনালে। তারা মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতসহ লঞ্চগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে কিনা তা মনিটরিং করছে। চাঁদপুরগামী লঞ্চ এমভি মিতালী-৫ এর মো. সাইদুর রহমান বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ ছাড়ব। একই সঙ্গে মাস্ক ছাড়া যাত্রীদের লঞ্চে উঠতে দিচ্ছি না। লঞ্চের প্রবেশে যাত্রীদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্প্রে করা হচ্ছে। চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা রফরফ-৭ এর এক যাত্রী জানান, লঞ্চটি ভোর ৬টায় চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী হওয়ায় সাড়ে ৫টায় ছেড়ে দিয়েছে।

এদিকে কোভিড-১৯ এর ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউন শেষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দোকানপাট ও বিপণিবিতানগুলো খুলেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিকিকিনি করতে দেখা যায় ক্রেতাদের।

খুলে গেছে রাজধানীর সব ধরনের ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। তবে অনেক ব্যবসায়ী এখনো শঙ্কায় আছেন কবে আবার লকডাউন শুরু হয়। সদরঘাটের গার্মেন্ট এক্সসেসরিজ ব্যবসায়ী মামুন মাহমুদ বলেন, লকডাউন কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না। সমাধান এনে দিতে পারে টিকা। সরকারকে দেশের সব মানুষের জন্য টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ২৮ জুন থেকে সীমিত আকারে বিধিনিষেধ শুরু হয়। পরে ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়। ঈদের ব্যবসার জন্য ৮ দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে সরকার। তাতে ঈদের আগে ৬ দিন বেচাবিক্রির সুযোগ পান ব্যবসায়ীরা। ২৩ জুলাই থেকে আবার ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়। পরে সেটি মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

ফেরি-লঞ্চে ভিড় সড়কে যানজট

ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসাবে খ্যাত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরি ও লঞ্চে মানুষের উপচেপড়া ভিড় চোখে পড়েছে। এ নৌরুটে ১৮টি লঞ্চও ১৩টি ফেরি যাত্রীদের পারাপারের জন্য ঘাটে রয়েছে। মানুষ গাদাগাদি করে ফেরি ও লঞ্চে ওঠে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দায়িত্বে থাকা রাজবাড়ী জেলা পুলিশের কর্মকর্তা পিয়াল রহমান বলেন, মহাসড়কে যেন কোনো ছোট অবৈধ গাড়ি চলাচল ও দূরপাল্লার যাত্রীদের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে সেগুলোর শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা কাজ করছি। ফরিদপুরের মধুখালী থেকে ঢাকামুখী যাত্রী পরিতোষ ভৌমিক বলেন, কঠোর বিধিনিষেধে ঢাকায় যেতে পারিনি। ঢাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাচ্ছি।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন বলেন, লকডাউন শিথিল হওয়ায় ও শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ফেরি চলাচল সীমিত হওয়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে।

গাইবান্ধা : জেলা শহরে প্রবেশপথে প্রতিটি সড়কে এবং ডিবি রোডের বাসটার্মিনাল থেকে পুরাতন জেলখানার মোড় পর্যন্ত সীমাহীন যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও যাত্রীরা। অধিকাংশ পথচারী, যানবাহনের যাত্রী ও চালকদের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসে আসন সংখ্যার সমান যাত্রী পরিবহণের কথা। কিন্তু আন্তঃজেলা বাসগুলোকে দাঁড় করিয়েও যাত্রী পরিবহণ করতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরী স্বাভাবিক রূপে ফিরতে শুরু করেছে। খুলেছে দোকানপাট, মার্কেট, শপিংমল। সকাল থেকেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ছিল যানজট। লকডাউন উঠে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির পাশাপাশি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠারও শেষ নেই। কিছু কিছু গণপরিবহণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নগরীর সরকারি ও তফসিলি ব্যাংকগুলোতেও ছিল ভিড়। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম চলেছে। গণপরিবহণ চালু হলেও অতিরিক্ত বা দ্বিগুণ ভাড়া দাবি নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহণ শ্রমিকদের বচসা হয়।

খুলনা : চিরচেনা রূপে ফিরেছে খুলনার গণপরিবহণ। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলছে বাস-মিনিবাস। ইজিবাইক মাহেন্দ্রসহ লোকাল পরিবহণে মানুষ চলাফেরা করছে গাদাগাদি করে। খুলনায় গেল তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল ব্যাপক। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা হয় একের পর এক বিধিনিষেধ। ‘গৃহবন্দি’ হয়ে পড়ে মানুষ। বন্ধ হতে থাকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) : শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে উভয়মুখী যাত্রীর ভিড় লক্ষ করা গেছে। বুধবার সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার যাত্রী সাধারণ ছুটতে শুরু করেছে ঢাকার উদ্দেশে। বাংলাবাজার থেকে লঞ্চে করে পদ্মা পাড়ি দিয়ে শিমুলিয়ায় আসে তারা। আবার দক্ষিণবঙ্গগামী শিমুলিয়া লঞ্চে করে বাংলাবাজার উদ্দেশে পদ্মা পাড়ি দিতে দেখা গেছে। তবে লঞ্চে উভয়মুখী যাত্রীদের ভিড় রয়েছে। ফেরিতে যাত্রী পারাপারের চাপ কমেছে লঞ্চ চলাচল করাতে।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) : নাটোর-পাবনা ও বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের ৩০ কিলোমিটার জুড়ে ১৫ ঘণ্টা তীব্র যানজটে শত শত যাত্রীবাহী কোচ, পণ্য বোঝাই ট্রাক, মাইক্রোবাস ও অন্য যানবাহন আটকা পড়ে। রাতে কিছুটা কম থাকলেও ভোরে যানজট বেড়ে যায়। একদিকে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, অন্যদিকে ভ্যাপসা গরম। সব মিলিয়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় যানজট নিয়ন্ত্রণে আসে।

ধামরাই (ঢাকা) : ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের কেলিয়ায় ব্রিজ সংস্কার কাজ চলায় ঢাকা-ধামরাই, ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড-কালিয়াকৈর-উত্তরবঙ্গ, ধামরাই পৌর বাজার-কালামপুর-সাটুরিয়া, ঢাকা-কাওয়ালীপাড়া-মির্জাপুর-উত্তরবঙ্গ ও ডুলিভিটা-ফোর্ডনগর-সাভার বাইপাশ সড়কসহ আঞ্চলিক সড়কে প্রচণ্ড চাপ পড়ে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বন্ধ থাকায় ঢাকা-মানিকগঞ্জ, পাটুরিয়াগামী ও ঢাকা-কাওয়ালীপাড়া-মির্জাপুরগামী সব প্রকার যান ও পণ্য পরিবহণ এসব বিকল্প পথে যাতায়াতের ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৩০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে এ যানজট। গোলড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, কালামপুর বাসস্ট্যান্ডে হাইওয়ে পুলিশ রয়েছে। যানজট নিরসনে কাজ করছেন তারা।

 

বিজ্ঞাপন

এ জাতীয় আরো খবর